১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

Ad Before Lead

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম তাঁকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল ৮টা থেকে ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পরে শুরু হয় ভোটগণনা। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই আসনে মোট ভোটার ছিলো ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। উপনির্বাচনে কতো ভোট পড়েছে, তার হিসাব অনুযায়ী ভোটের হার ছিলো ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। এবারের উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও অন্য প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। //আইই//

common-led-news-7.jpg
After Lead
নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা

নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা

এতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকেও এ মূল্যহার বহাল থাকবে। বিশ্ববাজারে দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে প্রতিমাসে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করে থাকে জ্বালানি বিভাগ। সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিলো। যা পরের দিন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেপ্টেম্বরে ওই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর অক্টোবর মাসেও ৪ ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। এর আগে ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিলো। পরে সেপ্টেম্বরে আরও ২০ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে এপ্রিলের আগের দামের তুলনায় ডিজেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা বেড়েছে। সরকার স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে আসছে। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ওই পদ্ধতিতে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। /এমএএইচ/

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুমোদন প্রদান করে। এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হলো। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর গাইডলাইন অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘বি ওয়ান’ এবং ‘বি টু’ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও সফলভাবে কেটে গেছে। বায়েরার এই চূড়ান্ত অনুমোদনের পর রূপপুরের প্রথম ইউনিটটি এখন ‘স্টেজ সি’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিমূলক ধাপে প্রবেশ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর এই স্তরে পারমাণবিক চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর নিয়ন্ত্রিত বিভাজন প্রক্রিয়া তৈরি করা হবে, যা পারমাণবিক বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ নামে পরিচিত। এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুল্লির অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে স্থায়ী, নিয়ন্ত্রিত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ উপায়ে তাপীয় শক্তি তথা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। রূপপুরের প্রতিটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়ার স্টার্টআপের পর চুল্লির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। পারমাণবিক প্রকৌশলীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লির উৎপাদন ক্ষমতা যখন মোট সক্ষমতার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে (অর্থাৎ প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট) পৌঁছাবে, তখনই পরীক্ষামূলকভাবে এটি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বা গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সব পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পরবর্তীতে ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ইউনিটটি তার পূর্ণ ক্ষমতায় (১,২০০ মেগাওয়াট) বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। প্রথম ইউনিটের এই যুগান্তকারী সফলতার পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের অত্যাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাশিয়া। দ্বিতীয় ইউনিটের এই জ্বালানি প্রাপ্তি দেশের সামগ্রিক পারমাণবিক সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলো। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো প্রকল্প। দু’টি ইউনিট মিলিয়ে এই কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি স্তরের চুল্লি ও যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা বায়েরা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩৯ ট্রিলিয়ন টাকায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প থেকে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ মিলবে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং গ্রীষ্মকালের লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্টআপের এই চূড়ান্ত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে পরমাণু শক্তি উৎপাদনকারী অভিজাত দেশের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার চূড়ান্ত ধাপে আরোহণ করলো। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। /এমএএইচ/

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আলোচনা: প্রথম পর্বের ইতিবাচক সমাপ্তি

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আলোচনা: প্রথম পর্বের ইতিবাচক সমাপ্তি

৩ দিনব্যাপী এই আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ের খসড়া ও কাঠামোগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে উভয় পক্ষ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া এই আলোচনা বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব এবং বাণিজ্য সহজীকরণসহ পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করেন। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আলোচনায় ১৩টি ওয়ার্কিং গ্রুপ এফটিএ’র সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের খসড়া পাঠ ও কাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিলো ট্রেড ইন সার্ভিস, ট্রেড ইন গুডস, রুলস অফ অরিজিন, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা, বাণিজ্যে কারিগরি বাধা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। এসব ক্ষেত্রে উভয় দেশের অবস্থান, সম্ভাবনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। মালয়েশিয়ার ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হলে দেশটি থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভারসাম্য বজায় রেখে একটি কার্যকর ও ‘উইন-উইন’ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পরবর্তী আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ে মতপার্থক্য নিরসন এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এফটিএটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আসিয়ানভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি কার্যকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা খাতের বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, শিল্পে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনার বাস্তব সুফল নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি, শুল্কছাড়ের পরিধি, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। এই কারণে চলমান আলোচনায় উভয় দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে একটি টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম দফার আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার আলোচনা চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির পথ উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। /এসআই/এমএএইচ/

রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে

রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে

রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আমদানি বাড়লেও পণ্যের সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, শুল্ক ও ব্যবসায়ীদের বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে সাধারণ ভোক্তার জন্য বাজার কতটা স্বস্তিদায়ক থাকবে। সম্প্রতি রাজধানীর বাজারে ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম বাড়ার খবরও পাওয়া গেছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী আশ্বস্থ করেছেন, রমজানে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকবে। রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপণ্যের আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ ৮ লাখ ১০ হাজার টন। ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে হয়েছিলো ৭ লাখ ৫ হাজার টন। এই সময়ে ভোজ্যতেলের এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। ইফতারে বহুল ব্যবহৃত ছোলা আমদানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে ১২ হাজার টন ছোলা আমদানি হলেও এবার হয়েছে ৮২ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৮ গুণ। খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টনে, গত বছর ছিলো ৪ হাজার টন। মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। এই সময়ে মসুর ডালের এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টন। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোলা, খোলা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। রমজানে খেজুরের সরবরাহ ও দাম সহনীয় রাখতে আমদানি শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বয়ং বাণিজ্যমন্ত্রী। মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি হয়। তাই সব ধরনের খেজুরে একই ধরনের মূল্য হয় না, মানও সমান নয়। পণ্যের গুণগত মান ও আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের আলোচনায় এসেছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বড় দানার মসুর ডালের দাম গত এক মাসে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন শুল্কায়ন, বিকল্প পরিবহণ পথের বাড়তি ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সভায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। তাই আমদানি ব্যয় ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজ ভাড়া ওঠানামায় পণ্যের আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে যে কোনো ধরণের জটিলতা নিরসনে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, যেসব পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয় সেসব পণ্যের দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতির ওপর। সেখানে দেশের ব্যবসায়ীদের কিছু করার নেই। এছাড়াও আমদানিকৃত পণ্য পরিবহণে জাহাজ ভাড়া একটি বড় বিষয়, যা জ্বালানি তেলের মূল্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এর বাইরে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহণে ট্রাকভাড়া তো আছেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিটিটিসি’র চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। /এসআই/এমএএইচ/

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে ঢাকায় বসছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৬’

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে ঢাকায় বসছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৬’

দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের সন্ধান এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’। এবারের দ্বিতীয় আয়োজনে আগের বছরের আটটি খাতের পরিবর্তে ১২টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রথমবারের মতো এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এর পরিসর আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য ও কিচেনওয়্যার, আসবাব ও গৃহসজ্জা, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), কাগজ ও প্যাকেজিং, অটোমোবাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিরামিক ও টেবিলওয়্যার—এই ১২টি খাত এবারের প্রদর্শনীতে স্থান পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ইপিবি। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সেলরদেরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এক্সপো আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণে এ আয়োজন বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’। ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন সফল করা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সোর্সিং কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। এসআই

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি: অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮ নির্দেশনা

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি: অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮ নির্দেশনা

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে নবম জাতীয় পে-স্কেল। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অন্যান্য অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে অসামরিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এবং নতুন করে নিয়োগ পেতে যাওয়া কর্মীদের বেতন-ভাতা কীভাবে ঠিক হবে, তা স্পষ্ট করেছে সরকার। এই বিষয়ে সম্প্রতি ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে যুগ্মসচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর হওয়ায় সরকারি বা স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে যাঁরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত হয়েছেন বা হবেন, তাঁদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি নির্ধারণ বিষয়ে সরকার নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে- ১. ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের পূর্বে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ এর আওতাভুক্ত বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত কর্মচারীগণের মধ্যে যাঁদের চুক্তির মেয়াদ গত ১ জুলাইয়ের পরবর্তী সময় পর্যন্ত অব্যাহত আছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তি সংশোধন সাপেক্ষে তাঁদের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের নিয়ম অনুসরণপূর্বক ১ জুলাই হতে তাঁদের বেতন অনুরূপ গ্রেড ও ধাপে নির্ধারিত হবে। তাঁরা ১ জুলাই থেকে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক), ১ (৩)(খ), ১ (৩)(গ) [বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অংশ ব্যতীত] এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। ২. ১ জুলাইয়ের পরে যাঁরা চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োজিত হয়েছেন বা হবেন তাঁদের ক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে জাতীয় বেতনস্কেলের যে গ্রেড ও ধাপে মূল বেতন প্রাপ্ত হতেন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর অনুরূপ গ্রেড ও ধাপের বেতন চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত পদের বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে (বিদ্যমান চুক্তি, যদি থাকে, সংশোধন সাপেক্ষে) এবং চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ১(৩) (ক), ১ (৩)(খ), ১(৩)(গ) [বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অংশ ব্যতীত] এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত বেতনই হবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত পদের বেতন। ৩. চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন হতে নির্ধারিত গ্রস পেনশন (কম্যুটেশন/সমর্পণ করার পূর্বের অংক) এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন, যদি থাকে, বাদ যাবে না। 8. চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক, বর্ধিত পেনশন প্রদেয় হবে না। ৫. অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ব্যতীত অন্যান্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ইত্যাদি সংক্রান্ত শর্তাবলি- যথারীতি প্রতিক্ষেত্রে গুণাগুণ বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থির করা হবে এবং তদনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদিত হবে। ৬. এই প্রজ্ঞাপনের পরিপন্থি পূর্ববর্তী সকল আদেশ বা স্মারক নির্দেশাবলীর সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে, তবে এ প্রজ্ঞাপনের সাথে সংগতিপূর্ণ পূর্বের জারীকৃত সকল স্মারক বলবৎ থাকবে। ৭. বেতন-ভাতা সম্পর্কে এ প্রজ্ঞাপনে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সত্ত্বেও চুক্তি মোতাবেক প্রদেয় বেতন, ভাতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক পরবর্তীকালে সময়ে সময়ে জারিকৃত আদেশ প্রযোজ্য হবে। ৮. অর্থ বিভাগের ২৬/০১/২০১৬ তারিখ জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বাতিলক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো এবং এটি গত ১ জুলাই কার্যকর হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। /এসআই/

বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার সাঙ্গাকারা

বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার সাঙ্গাকারা

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন শ্রীলংকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা। আয়ারল্যান্ডের রায়ানএয়ার বিমানসংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার এবং হুমকির অভিযোগ তুলেছেন ৪৮ বছর বয়সি এই সাবেক ক্রিকেটার। এক্স মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান সাঙ্গাকারা। তিনি জানান, ডাবলিনে রায়ানএয়ার সংস্থার কর্মীদের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর পরিবার হেনস্তার মুখে পড়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে বিমানসংস্থার কর্মীরা তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ডাবলিন বিমানবন্দর কিংবা রায়ানএয়ার বিমানসংস্থা- কোনো পক্ষই এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি। শ্রীলংকার জার্সিতে ১৩৪টি টেস্ট, ৪০৪টি ওয়ানডে ও ৫৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন সাঙ্গাকারা। টেস্ট ক্রিকেটে ৩৮টি সেঞ্চুরি ও ৫২টি ফিফটিতে ১২ হাজার ৪০০ রান করেছেন তিনি। এছাড়া ওয়ানডে ফরম্যাটে ২৫টি সেঞ্চুরি ও ৯৩টি ফিফটির সাহায্যে তাঁর সংগ্রহ ১৪ হাজার ২৩৪ রান। ২০০৭ ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলংকার রানার্সআপ দলের সদস্য ছিলেন এই লংকান তারকা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। //আইই//

শেষ বিকেলের স্বস্তিতে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ

শেষ বিকেলের স্বস্তিতে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে নতুন দিনের খেলা শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার সাদমান ইসলাম এদিন মাঠে নেমেই ক্যারিয়ারের আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে শতক ছোঁয়ার পর ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি তিনি, ব্যক্তিগত ১০৫ রানে সাজঘরে ফেরেন। সাদমানের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। গতকাল চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া তাওহিদ হৃদয় আজ ব্যাটিংয়ে ফিরলেও নিজের নামের পাশে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। আগের দিনের ৪২ রানেই আউট হন তিনি। এরপর ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণি জাদুতে খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিক মিডল ও লোয়ার অর্ডার। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ২২১ রান করা বাংলাদেশ মাত্র ৫১ রানের ব্যবধানে শেষ ৭টি উইকেট হারিয়ে বসে। উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও দল অলআউট হয় ২৭২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জোমেল ওয়ারিক্যান ৫৩ রান খরচায় ৫টি উইকেট নেন। এছাড়া আলজারি জোসেফ ও জেইডন বিশপ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। ২৭২ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৯ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংকে (১৫) সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল। এই জুটি বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করে স্কোরবোর্ডে ৬১ রান যোগ করেন। দু’জনই ক্রিজে থিতু হয়ে যাওয়ায় যখন বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হচ্ছিলো, ঠিক তখনই ব্রেকথ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অর্ধশতক হাঁকানো ক্যাম্পবেলকে (৫৮) অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন এই অফস্পিনার। ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন তাইজুল ইসলাম। শেষ বিকেলে নিজের এক ওভারেই কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয় শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে হুট করেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান তুলে দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল ৪৩ এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ৪৪ রানে ২টি, হাসান ২৫ রানে ১টি এবং মিরাজ ৪৪ রানে ১টি উইকেট নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে): • বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭২/১০ (৯৭.৪ ওভার); সাদমান ১০৫, হৃদয় ৪২, লিটন ৩৪*; ওয়ারিক্যান ৫/৫৩, জোসেফ ২/৪১। • ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১৩৪/৪ (৪৮ ওভার); ক্যাম্পবেল ৫৮, চন্দরপল ৪৩*, গ্রিভস ১৫*; তাইজুল ২/৪৪, হাসান ১/২৫, মিরাজ ১/৪৪। /এমএএইচ/

সমর্থকদের ভোটে সেরা রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্স

সমর্থকদের ভোটে সেরা রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্স

ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ এই ভোটের আয়োজন করে ফ্রান্স ফুটবল। ১ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ওয়েবসাইটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান সমর্থকেরা। প্রতিটি ভোটের জন্য খরচ করতে হয়েছে এক ইউরো। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে তৃতীয় স্থান পেয়েছে রোনালদোর ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অর জয়। তালিকার প্রথম তিনটি অবস্থানের দুটিই রোনালদোর দখলে। ২০০৮ সালে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে সেই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা ছিলো ৪২। অন্যদিকে, ২০১২ সালে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে রেকর্ড ৯১ গোল করেছিলেন মেসি। সেই পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের ভোটে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছে। ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। অন্যদিকে, রোনালদোর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। বিশেষ এই ভোটের ফলাফল সমর্থকদের পছন্দের প্রতিফলন, এটি নতুন কোনো ব্যালন ডি’অর পুরস্কার নয়। /শান্ত/

এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের আরেকটি স্বর্ণপদক জয়

এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের আরেকটি স্বর্ণপদক জয়

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৬–২ সেট পয়েন্টের দারুণ জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ৩ আর্চার আব্দুর রহমান আলিফ, মো. সাগর ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফি। ফাইনালে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিলো না। প্রথম সেটে ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয় দলটিকে। ফলে প্রথম সেটে ৫০–৫৩ পয়েন্টে হেরে গিয়ে শুরুতেই কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। ফাইনালে এমন শুরু যেকোনো দলের ওপরই মানসিক চাপ তৈরি করতে পারতো, তবে লাল-সবুজের এই ত্রয়ী ভেঙে পড়েননি। স্নায়ুচাপ সামলে নিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন তাঁরা। দ্বিতীয় সেটে নিজেদের চেনা ফর্মে ফিরে আসেন আলিফ-সাগররা। অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৫৫–৫৪ পয়েন্টে সেটটি জিতে নিয়ে খেলায় ১-১ সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ওঠে বাংলাদেশ শিবির। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। তৃতীয় সেটে কাজাখস্তানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেন বাংলাদেশের আর্চাররা। নিজেদের নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং তীরের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে ৫৫–৫২ পয়েন্টে তৃতীয় সেটটি নিজেদের পকেটে পুরে নেয় দল। ফলে শিরোপার আরও কাছে চলে যায় লাল-সবুজ পতাকা। চূড়ান্ত ও চতুর্থ সেটে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কাজাখস্তান। তবে চাপের মুখে দাঁড়িয়েও বিন্দুমাত্র ভুল করেননি আব্দুর রহমান আলিফ, মো. সাগর ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফি। এই সেটে ৫২–৫১ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কাজাখস্তানকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয় বাংলাদেশ। চার সেট শেষে যখন স্কোরবোর্ডে ৬–২ সেট পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়, তখন উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ শিবির। টানা দুই দিনে দু’টি স্বর্ণপদক জয় বাংলাদেশের আর্চারির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো। তরুণ আর্চারদের এই ধারাবাহিকতা ও বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। /এমএএইচ/

After Sports
উচ্চ রক্তচাপ মোকাবেলায় টেকসই অর্থায়নের আহ্বান

উচ্চ রক্তচাপ মোকাবেলায় টেকসই অর্থায়নের আহ্বান

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বিএমএ ভবনে “বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়ন: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এই আহবান জানানো হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) 'হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫'-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। ২০২৪ সালে দেশে হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ, যার ৫২ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ। উদ্বেগের বিষয় হলো, তরুণদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮’ এর তথ্য অনুযায়ী ১৮-৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানী লিমিটেড এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) মো. রিয়াদ আরেফিন জানান, “২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্ধিত বরাদ্দ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে ওষুধের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এর সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, “দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে, অথচ এখানে বরাদ্দ স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ। বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।” জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে রক্তচাপে। এটি নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়ন জরুরি।” কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। - কেআর

ডেঙ্গুতে একদিনে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৭২ জন

ডেঙ্গুতে একদিনে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৭২ জন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ৯৭ জন মারা গিয়েছেন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। এই নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৮৬৫ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৬০ জন, খুলনায় ২৩৩ জন, বরিশালে ১৯০ জন, রাজশাহীতে ১৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৭ জন এবং রংপুরে ৫৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। /এমএএইচ/

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এই পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২ জন এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৪৬ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৯৭২ জন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। /এমএএইচ/

বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, এল নিনোর প্রভাব ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত 'কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক' প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, "পণ্যের বাজার একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ছে। জ্বালানির বাড়তি খরচ ও বাণিজ্যে বাধার কারণে নানা ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য পাওয়ার অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে।" প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালে খাদ্যের দাম ১০ শতাংশ ও পরবর্তী বছর আরও ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। সংঘাতের কারণে খাদ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, তীব্র এল নিনোর প্রভাবে বন্যা ও খরা এবং সার ও জ্বালানির চড়া দামকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, সংঘাত ও প্রতিকূল আবহাওয়া আরও বাড়লে ২০২৭ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ১০৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে খাদ্যপণ্যের দাম মূল পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আয়হান কোসে জানান, "সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের সুরক্ষা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি ঋণের বড় বোঝা নিয়ে ইতোমধ্যে সমস্যায় থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়াও অগ্রাধিকার হতে হবে।" প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং চলতি বছর তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। চলমান সংকটের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ইতোমধ্যে ৮৭০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা দেওয়া হলো বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। //আইই//

আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ দমনে জরুরি ডিক্রি, উপস্থিত থাকলেই জরিমানা

আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ দমনে জরুরি ডিক্রি, উপস্থিত থাকলেই জরিমানা

দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকার বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই বিতর্কিত জরুরি আইনি পদক্ষেপ অনুমোদন করে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই বিধানের সবচেয়ে কঠোর দিক হলো, বিক্ষোভে উপস্থিত কেউ নিজে সরাসরি কোনো ভাঙচুর বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকলেও সমান শাস্তির আওতায় আসবেন। যদি কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে সহিংসতা বা লুটপাট চালানো জনতার মধ্যে অবস্থান করেন কিংবা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ এড়াতে নিজের পরিচয় গোপন বা মুখাবরণ ব্যবহার করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁকেও এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। আলবেনিয়ায় বর্তমানে কর-পূর্ব গড় মাসিক বেতন মাত্র ৯৩০ ইউরো। সেই তুলনায় এই জরিমানার অঙ্ক সাধারণ মানুষের মাসিক আয়ের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের নাগরিকদের ওপর একটি চরম আর্থিক বোঝা তৈরি করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি এই জরুরি ডিক্রিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে বহাল রাখতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে দেশের পার্লামেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় দেশটির স্টেট পুলিশকে বিশেষ ও ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার সামান্য আশঙ্কা বা ইঙ্গিত থাকলেই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, গণপরিবহণ টার্মিনাল, বন্দর, বিমানবন্দর এবং সরকারি দপ্তরের আশপাশসহ নির্দিষ্ট যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাময়িকভাবে সমাবেশ সীমিত বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল বা অনলাইনের মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধেও নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি বিশেষ স্কিমও চালু করেছে রামা সরকার। প্রধানমন্ত্রী এদি রামা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের একটি প্রস্তাবিত আইন থেকে তিনি এই ব্যতিক্রমী আর্থিক শাস্তির ধারণা পেয়েছেন। ফরাসি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সম্প্রতি পাস হওয়া ওই আইন অনুযায়ী, রাজপথে বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট যেকোনো রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিক্ষোভকারীদের সামষ্টিক ও আর্থিকভাবে দায়ী করার বিধান রাখা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে আলবেনিয়ার একটি পরিবেশগতভাবে সুরক্ষিত এলাকায় বিলাসবহুল হোটেল ও আন্তর্জাতিক পর্যটন রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীদের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো। এই বহু বিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল প্রকল্পের পেছনে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং কন্যা ইভানকা ট্রাম্প। সজান দ্বীপ ও জর্নেক অঞ্চলের সুরক্ষিত জলাভূমিতে এই প্রকল্প নির্মাণের ফলে সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং বিশেষ করে ওই অঞ্চলের পরিযায়ী রাজহাঁস বা ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। এই কারণেই এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে ‘ফ্ল্যামিঙ্গো রেভল্যুশন’ বা রাজহাঁস বিপ্লব নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ব্যাপক সহিংস রূপ নেয়। এটি তখন কেবল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। দেশের প্রায় ২৩ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ, সরকারি খাতের ব্যাপক দুর্নীতি, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের চরম অভাবের বিরুদ্ধে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজধানী তিরানার রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা চালান ও আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপকভাবে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে, যার ফলে শত শত পুলিশ সদস্য এবং আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন এবং অনেককে আটক করা হয়। বিক্ষোভের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও প্রধানমন্ত্রী এদি রামা পদত্যাগের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের সাথে কোনো প্রকার সংলাপে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি এই দেশব্যাপী সহিংসতার পেছনে একটি ‘বিদেশি শক্তির’ হাত রয়েছে বলে বারবার দাবি করে আসছেন। রামা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং দেশের তরুণদের উসকে দেওয়ার পেছনে রাশিয়া ও ইরানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তবে কঠোর দমনপীড়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তিনি এখনও শর্তসাপেক্ষে সংলাপের দরজা খোলা রাখার কথা বলছেন। /এমএএইচ/

নির্বাচনে অমীমাংসিত ফল, ‘অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী’ থাকছেন নেতানিয়াহু?

নির্বাচনে অমীমাংসিত ফল, ‘অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী’ থাকছেন নেতানিয়াহু?

আরব নিউজ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। দেশটির ৩টি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলোর জোট ১২০ আসনের সংসদে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব দলের সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠন করা কঠিন। তবে ইসরায়েলের অনেক ইহুদি নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধী। আইজেনকটের বিরোধী জোট সরকার গঠন করতে চাইলে আরব দলগুলোর সমর্থনের প্রয়োজন হবে। তবে ইসরায়েলের বেশিরভাগ ইহুদি রাজনৈতিক দল ঐতিহ্যগতভাবেই আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গঠনের বিরোধী। ফলে নতুন জোট সরকার গঠনের আলোচনা বেশ জটিল রূপ নিতে পারে এবং আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর এই অন্তর্বর্তী শাসন দীর্ঘায়িত হতে পারে। আইনগতভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা সীমিত হলেও এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের পরমাণু হুমকি চিরতরে দূর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর এই ফলাফলের প্রশংসা করেছেন। তবে বিরোধী নেতা আইজেনকটের আশঙ্কা, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দেশের নিরাপত্তা ইস্যুকে ব্যবহার করতে পারেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন একটি দুর্বল অন্তর্বর্তী সরকারের আশঙ্কায় ইসরায়েলের আর্থিক বাজারে বড় পতন দেখা দিয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা শেকেলের দাম প্রায় ১.৬ শতাংশ কমে প্রতি ডলার ৩.১০ শেকেলে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজারের সূচকগুলোও ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশটির ইহুদি ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থী ধারার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় সব প্রধান দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গাজা যুদ্ধের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি নেতানিয়াহু। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া দেশের ভেতরেও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে। তবে নেতানিয়াহু এই সব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত ২ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে নেতানিয়াহু সরকারের নীতি এবং মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদ জানাতে এবার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ বুথফেরত জরিপের পর উল্লাস প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাঁরা ইসরায়েলি দখলদারত্ব ও বর্ণবাদকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। /এমএএইচ/

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণবের' প্রভাবে অন্ধ্র ও ওড়িশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণবের' প্রভাবে অন্ধ্র ও ওড়িশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

তীব্র ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' বুধবার পুদুচেরির কাকিনাডা ও ইয়ানামের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ায় উপকূলীয় এলাকা জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়ার জেরে ব্যাহত হয়েছে দৈনন্দিন জীবন। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে। পিটিআইকে জাতীয় বির্পযয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন ৩১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ৭১৪টির বেশি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানার সময় এটা অতি তীব্র প্রকৃতির ঘূর্ণিঝড় ছিল, যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে তা তীব্রতা হারালেও, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত একটা ২০ মিনিটের দিকে এই ঝড় অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হানে যাকে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া বলে। এই প্রক্রিয়া তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে চলতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগেই অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বেশ কিছু বিমান বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু ট্রেনও। নিরাপত্তার কথা ভেবে স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝড়ের কারণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বেশ কিছু অঞ্চল, বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটা গাছ উপড়ে পড়েছে। ওড়িশারও বেশ কিছু অংশে বৃষ্টি হচ্ছে সঙ্গে প্রবল বাতাসও বইছে। নবরঙ্গপুর, কোরাপুট, মালকানগিরি, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এখানে প্রবল বাতাসের সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস এই ঘূর্ণিঝড় ওড়িশা অতিক্রম করে দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের দিকে অগ্রসর হবে। এর ফলে বেশ কয়েকটা জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই রাজ্যগুলোতে জায়গায় জায়গায় কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও প্রশাসনের তরফেও আগাম তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে বহু মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। ত্রাণ শিবিরও চালু করা হয়েছে। এদিকে, কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের স্টেট ডিজাস্টার অথরিটি বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এমডি প্রখর জৈন জানিয়েছেন, ইয়ানামের দক্ষিণ-পশ্চিমে নরসাপুরমের কাছে উপকূল অতিক্রম করেছে এই ঝড় এবং উপকূল অতিক্রম করার পর তা অপেক্ষাকৃতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু একাধিক জেলায় এর প্রভাব দেখা যাবে। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব লক্ষ্যও করা গেছে। উপকূলের কাছাকাছি আসতেই অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোয় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়। বিশাখাপত্তনমে শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে, ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে গাছ ভেঙে পড়ায় বিচ রোড এবং সীথাম্মাধারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। কাকিনাডাতেও একই ছবি লক্ষ্য করা গিয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা, নিচু এলাকায় বেশ কিছু বাসভবনের মধ্যে জল প্রবেশ করেছে। গাছ উপড়ে গেছে এবং একাধিক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। মছিলিপট্টনমে ভারী বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও সমুদ্রের জল ঢুকে পড়ায় কাকিনাডা জেলার বোম্বে কাট্টা এলাকার কাছে বন্যার জলে আটকে পড়েছিলেন চার ব্যক্তি। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে। বিশাখাপত্তনম আবহাওয়া কেন্দ্রের পরিচালক পিভিএন মূর্তি বলেছেন, "বৃষ্টির তীব্রতা আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সন্ধ্যা থেকে এর তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। একই সঙ্গে বাতাসের গতিও ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার কথা।" অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, "এখনো পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের আগে থেকে নেওয়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কোনো প্রাণহানি রোধ করতে সাহায্য করেছে।" যদিও বেলা গড়াতেই সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের সূত্রে তিনটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আপাতত এই তিনটি মৃত্যু নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যসরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি। ঘূর্ণিঝড় অর্ণব রাত দুটো থেকে সকাল আটটার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করায় তার প্রভাব পন্ডিচেরিতে লক্ষ্য করা গিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট লক্ষ্য করা গিয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ৫,০০০ মানুষের জন্য ২০টা ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে করা হয়েছিল। মোতায়েন করা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে রাস্তার পাশের গাছগুলোও ছেঁটে দেওয়া হয়েছে। তবে ইয়ানামের আঞ্চলিক প্রশাসক শিবরাজ মীনা জানিয়েছেন, বলেন, অধিকাংশ বাসিন্দারাই ত্রাণ শিবিরে যেতে রাজি ছিলেন না। অন্ধ্রপ্রদেশ-ইয়ানাম উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে পড়লেও কিন্তু দক্ষিণ ওড়িশা জুড়ে এর প্রভাব এখনো অনুভূত হচ্ছে। দক্ষিণ ওড়িশার বেশ কয়েকটা জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরি। নবরঙ্গপুরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক জেলায় ঘণ্টায় আশি কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সতর্কতা জারি করেছে। উত্তর ওড়িশার কিছু জেলাতেও প্রবল বাতাসেরসঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে বহু মানুষকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আশ্রয় শিবির চালু করা হয়েছে। মৎসজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার আগাম পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি ভুবনেশ্বরে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ ওড়িশার আটটা জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের পরিস্থিতির উপর বিশেষভাবে নজর রাখা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ, মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসা, ত্রাণ ও জরুরি পরিষেবা দেওয়ার জন্য সমস্ত ব্যবস্থাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব মঙ্গলবার রাত থেকেই দেখা গিয়েছে ঝাড়খণ্ডে। রাঁচিতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর কমলা সতর্কতা জারি করেছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের জানিয়েছে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটা জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতেও দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দীঘা-সহ উপকূলবর্তী অঞ্চলে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সমুদ্র সৈকত এড়িয়ে চলার পাশাপাশি মৎসজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জায়গায় জায়গায় মাইকিং চলছে। /কেআর/

দিলজীত দোসাঞ্ঝের অনুষ্ঠান ঘিরে ২০০০ নিরাপত্তারক্ষী, ৭০০ মিটারের মধ্যে চলবে না গাড়ি!

দিলজীত দোসাঞ্ঝের অনুষ্ঠান ঘিরে ২০০০ নিরাপত্তারক্ষী, ৭০০ মিটারের মধ্যে চলবে না গাড়ি!

দিল্লিতে দিলজীত দোসাঞ্ঝের অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। আগামী ৩০ অক্টোবর জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা গায়কের অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান দিয়েই ভারতে শুরু হবে তাঁর ‘অরা’ সফর। প্রথমে দিল্লির অনুষ্ঠানে পুলিশের অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই অনুমতি মিলেছে। তবে অনুষ্ঠান যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের আরও বেশি সংখ্যক বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করতে বলেছে পুলিশ। দর্শকদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথের সংখ্যাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিপুল ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান। তাই নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নতুন করে সাজানো হচ্ছে। প্রথমে ৪০০ জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান ও দিলজীতের জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে সেই সংখ্যা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন আধিকারিকেরা। তাঁদের মতে, ভিড় সামলাতে ১৫০০ থেকে ২০০০ জন নিরাপত্তারক্ষীর প্রয়োজন হতে পারে। আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তার পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। স্টেডিয়ামের চারপাশে ৫০০ থেকে ৭০০ মিটার এলাকার মধ্যে গাড়ি চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করার কথা ভাবছে প্রশাসন। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কেবল শিল্পীদের গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে একসঙ্গে প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক অনুষ্ঠান দেখতে পারেন। সেই বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা। অনুষ্ঠানে দিলজীত যাতে দর্শকদের আরও কাছে পৌঁছোতে পারেন, তাই মঞ্চের সামনের চলার পথ অর্থাৎ র‌্যাম্পটির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর তবে এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পরেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্য দিকে, ওই অনুষ্ঠান ঘিরে হুমকির খবরও উঠে আসছে। দিল্লি পুলিশ টিকিট বিক্রির সংস্থাকে হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। কারণ, কয়েক দিন আগে মুম্বইয়ে দিলজিতের আসন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ নভেম্বর মুম্বইয়ে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেই অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে একটি হুমকি ই-মেল এসেছে মুম্বইয়ের মেয়রের কাছে। অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি জলসা এবং দিলজীতের অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা। এ সব কারণেই দিল্লির অনুষ্ঠান নিয়েও নিরাপত্তাজনিত কোনও শিথিলতা যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চায় দিল্লি পুলিশ। চলতি বছরের বেশির ভাগ সময় ইউরোপ ও আমেরিকায় ‘অরা’ সফর নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন দিলজিৎ। এ বার দেশের দর্শকদের সামনে সেই অনুষ্ঠান তুলে ধরবেন তিনি। তবে দিল্লির অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিয়ে যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, তাতে অনুরাগীদের একাংশের অনুমান, অনুষ্ঠানটি পিছতে পারে। /কেআর/

Entertainment Sidebar
Entertainment Sidebar Bottom
চিনি ছাড়াই গ্রিন টি সুস্বাদু করার ৬ উপায়

চিনি ছাড়াই গ্রিন টি সুস্বাদু করার ৬ উপায়

১. লেবুর রস চিনি ছাড়াই গ্রিন টি সুস্বাদু করার ৬ উপায়গ্রিন টিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদে আসবে হালকা টক ভাব। যারা চিনি ছাড়া গ্রিন টি খেতে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হতে পারে। লেবুতে ভিটামিন সি রয়েছে। ২. মধু গ্রিন টি তৈরির পর সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চায়ের স্বাদে মিষ্টি ভাব যোগ হবে। তবে মধুতেও চিনি ও ক্যালরি থাকে, তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা ভালো। ৩. আদা গ্রিন টিতে কয়েক টুকরো আদা বা সামান্য আদার রস যোগ করলে স্বাদে আসবে ঝাঁজালো আমেজ। আদা চায়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে পারে। ৪. দারুচিনি দারুচিনির হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ গ্রিন টির স্বাদে ভিন্নতা আনতে পারে। চা তৈরির সময় দারুচিনির ছোট একটি টুকরো দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিলেই হবে। তবে দারুচিনি মেশানো চা খেলেই ওজন কমবে বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ৫. তুলসী পাতা গ্রিন টি তৈরির সময় চার-পাঁচটি পরিষ্কার তুলসী পাতা যোগ করতে পারেন। এতে চায়ের ঘ্রাণে পরিবর্তন আসবে এবং স্বাদও হবে সতেজ। ৬. পুদিনা পাতা গ্রিন টিতে কয়েকটি তাজা পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিলে পাওয়া যাবে সতেজ ঘ্রাণ ও ভিন্ন স্বাদ। পুদিনা অনেকের হজমের অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। চায়ের স্বাদ বাড়াতে এসব উপকরণ অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে গ্রিন টি বা এসব উপকরণ একাই শরীরের মেদ কমায় কিংবা শরীর থেকে ‘টক্সিন’ দূর করে, এমন দাবি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। সুস্থ থাকতে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। /শান্ত/

সোনায় মোড়া পথে হাঁটবেন? দুবাইতে তৈরি হচ্ছে স্বর্ণখচিত রাস্তা!

সোনায় মোড়া পথে হাঁটবেন? দুবাইতে তৈরি হচ্ছে স্বর্ণখচিত রাস্তা!

সোনার রাস্তা! চারপাশে স্বর্ণখচিত সব বিলাসদ্রব্য। চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া সে পথে হাঁটতে গিয়ে মনে হতেই পারে—‘এই পথ যদি না শেষ হয়’। সোনার শহর ‘এল ডোরাডো’ যা এতদিন ছিল লোককথা ও কল্পনায়, তাকেই বাস্তব করে তোলার পথে দুবাই। বিশ্বে প্রথম সোনার রাস্তা তৈরি হচ্ছে দুবাইয়ের ডেরা এলাকায়। দুবাইয়ের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণবাজার হল ডেরা। বিশ্বের নানা দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। সেই স্বর্ণবাজারকেই আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সোনার রাস্তা তৈরি হচ্ছে সেখানে। দুবাইয়ের আল-রাস এলাকায় রয়েছে ডেরা সোনার বাজার। এটি কেবল দুবাই নয়, গোটা বিশ্বেরই বৃহত্তম সোনার বাজার। প্রায় চারশোটি সোনার দোকান রয়েছে সেখানে। ১৮ থেকে ২৪ ক্যারাটের সোনা, রুপো, প্ল্যাটিনাম, হিরের দোকানে সাজানো সেই এলাকায়। রয়েছে সোনার তৈরি নানা বিলাসবহুল সামগ্রীর দোকানও। সেই এলাকার রাস্তাটিকেই এ বার সোনায় মুড়ে দিতে চলেছে ‘দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’। অর্থাৎ, রাস্তাটি হবে সোনার পাতে মোড়া। সেই সোনার উপর দিয়েই হাঁটতে পারবেন পর্যটকেরা। এই বছরের শেষেই রাস্তাটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক রশিদ আল হারমুদি জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য সকাল থেকে রাত অবধি খোলা থাকবে সোনার পথ। রাস্তার দু’পাশে স্বর্ণ অলঙ্কারের প্রদর্শনীও হবে রোজ। ২৪ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মুড়ে তৈরি হবে সে রাস্তা। বাস্তবে সোনার উপর দিয়েই হাঁটবেন লোকজন। তাতে রাজকীয় অনুভূতি হবে পথচারীদের। বাণিজ্যিক ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ডেরার নাম ও খ্যাতি আরও বৃদ্ধি করার জন্যই এই প্রচেষ্টা বলে জানানো হয়েছে। বিশ্বের নানা দেশের হাজারের বেশি অলঙ্কার প্রস্তুতকারক সংস্থা ডেরায় পৌঁছে গিয়েছে। সোনার পথে হাঁটার সময়ে সেই সব নামীদামি ব্র্যান্ডের সোনার ও হিরের গয়না দেখতে পাবেন পর্যটকেরা। তা কেনার আকর্ষণীয় ছাড়ও থাকবে। দুবাইতে হলুদ ধাতুর দাম এমনিতেও তুলনামূলক ভাবে কম। এ বার সোনা কেনার সেই সুযোগকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। /কেআর/

সবুজ, হলুদ, কমলা নাকি লাল, কোন ক্যাপসিকামে পুষ্টি বেশি?

সবুজ, হলুদ, কমলা নাকি লাল, কোন ক্যাপসিকামে পুষ্টি বেশি?

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপত্তি হওয়া ক্যাপসিকাম উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি ফল। ফুল থেকে জন্মানো এবং ভেতরে বীজ থাকার কারণে একে ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে রান্নায় সবজি হিসেবেই এর ব্যবহার বেশি। রঙের সঙ্গে বদলায় স্বাদ সবুজ ক্যাপসিকাম সাধারণত অপরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয়। এতে ক্লোরোফিল বেশি থাকায় রং সবুজ হয়। স্বাদ কিছুটা তেতো এবং গঠন শক্ত ও মচমচে। অন্যদিকে, পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হলুদ, কমলা ও লাল রং ধারণ করতে পারে ক্যাপসিকাম। এই সময় এর স্বাদও সাধারণত মিষ্টি হয়ে ওঠে। ক্যাপসিকামের নিচে তিনটি খাঁজ থাকলে সেটি পুরুষ আর চারটি থাকলে স্ত্রী এবং স্ত্রী ক্যাপসিকাম বেশি মিষ্টি, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খাঁজের সংখ্যা মূলত ফলের গঠনগত বৈশিষ্ট্য, স্বাদ নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়। কোন রঙে কী পুষ্টি? সব রঙের ক্যাপসিকামেই ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বদলায়। সবুজ ক্যাপসিকামে লুটিন ও অন্যান্য ক্যারোটিনয়েড থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। হলুদ ও কমলা ক্যাপসিকামে বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। লাল ক্যাপসিকামে সাধারণত ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন বেশি থাকে। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে, যা দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা নাকি রান্না করে খাবেন? কাঁচা ক্যাপসিকাম খেলে ভিটামিন সিসহ তাপসংবেদনশীল কিছু পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, রান্নার ফলে কিছু ক্যারোটিনয়েড শরীরের জন্য সহজলভ্য হতে পারে। তবে অতিরিক্ত তাপে ভিটামিন সি কমে যেতে পারে। তাই পুষ্টিগুণের সুবিধা পেতে ক্যাপসিকাম কখনো কাঁচা, আবার কখনো হালকা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম রাখলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। সবুজ ক্যাপসিকাম তুলনামূলক কম পরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয় বলে অনেক ক্ষেত্রে এর দাম কম থাকে। গাছে বেশি সময় ধরে রেখে অন্য রঙে পরিপক্ব করতে হয় বলে হলুদ, কমলা ও লাল ক্যাপসিকামের দাম বেশি হতে পারে। তবে দাম নির্ভর করে উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারের ওপরও। সব মিলিয়ে, কোনো একটি রঙের ক্যাপসিকামই সব দিক থেকে সেরা নয়। বরং বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম কাঁচা ও রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। /শান্ত/

চোখ বা কানের সমস্যা থেকেও হতে পারে জটিল রোগ

চোখ বা কানের সমস্যা থেকেও হতে পারে জটিল রোগ

ছোট ছোট বিষয় ভুলে যাওয়া মানেই যে ভবিষ্যতে স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়া হবে তা কিন্তু নয়। স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা সদ্য ঘটা ঘটনা মনে না পড়ার মতো লক্ষণ, অন্য মনোরোগের কারণেও হতে পারে। আবার স্নায়বিক এমন কিছু রোগ হয়, যার লক্ষণ অনেক আগেই ধরা পড়ে চোখে। চিকিৎসকেরা বলছেন, চোখ ও কানে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যা ভবিষ্যতে স্মৃতিনাশ, ডায়াবিটিস অথবা শরীরে রক্তজমাট বাঁধার পূর্বাভাস হতে পারে। এখন মনে হতেই পারে, এইসব জটিল রোগের লক্ষণ চোখ ও কান দেখে কী ভাবে বোঝা যাবে? তার উপায় আছে। রোজের জীবনে এমন কিছু সমস্যা চোখে বা কানে হয়, যা সাধারণ বলেই ভ্রম হতে পারে। তবে এগুলো থেকে ভবিষ্যতে জটিল রোগ হতে পারে। চোখ দেখে কী ভাবে জটিল রোগ ধরা যাবে? রেটিনা অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। দেখা , রেটিনার স্নায়ুর স্তর পাতলা হতে শুরু করলে তা থেকে পরবর্তীকালে স্মৃতিনাশ বা মস্তিষ্কের জটিল রোগ হতে পারে। তা ছাড়া ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কারণেও চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দৃষ্টিশক্তি যদি ঝাপসা হতে শুরু করে, সোজা লাইন বাঁকা দেখায় বা সামনের দৃশ্য আঁকাবাঁকা দেখাতে থাকে, তা হলে সেটি মস্তিষ্ক বা শরীরের কোনও অংশে রক্তজমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে। চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা বা কোনও স্পট দেখা গেলে, তা স্নায়ুর রোগের পূর্বসঙ্কেত হতে পারে। ডায়াবিটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে হতে চলে যেতে পারে। এই সমস্যা ডায়াবিটিক রেটিনোপ্যাথির কারণ হয়ে উঠতে পারে। চোখের সামনে কালো পর্দার মতো দেখলে, চোখে যন্ত্রণা হলে, আশপাশের জিনিস ঝাপসা দেখলে তা ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। কানের কোন সমস্যায় সতর্ক হতে হবে? চোখের মতো কানের ভিতরের অংশ বা ককলিয়ার সঙ্গেও মস্তিষ্কের স্নায়ুর যোগ নিবিড়। হার্ট বা মস্তিষ্কের রক্তনালিতে কোনও সমস্যা হলে তার প্রভাব সবচেয়ে আগে কানের উপর পড়ে। মধ্য বয়সে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রষ্টতার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হতে পারে। অতিরিক্ত আওয়াজ বা উচ্চমাত্রার শব্দ কানে গেলে যদি মাথাঘোরা বা মাথা যন্ত্রণার লক্ষণ দেখা দেয়, ঘাড় ও পিঠে যন্ত্রণা হতে থাকে, তা হলে সতর্ক হতে হবে। এটি স্নায়বিক রোগের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। সবসময় কানে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া অথবা নানা রকম শব্দ শোনা রক্তনালিতে রক্তজমাট বাঁধা বা স্নায়বিক রোগের লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবিটিস রোগীদের মধ্যে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কারণ, কানের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলিতে সুগার বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রভাব সরাসরি ককলিয়ার স্নায়ুকে দুর্বল করে দেয়। তাই কানে কম শোনার লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। কেআর/

After Lifestyle

বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিলম্ব হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নে বিলম্ব হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিজি ৩৭৭ ফ্লাইটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারছে না। ত্রুটি নিরসনে বিমানের এয়ার ক্রু ও প্রকৌশল দল কাজ করছে। এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। /কেআর/

বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিলম্ব হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা

শেকৃবি’র গবেষণা মাঠে সচিবালয় নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিলেন শিক্ষার্থীরা

এছাড়া মাঠ পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ৩ দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান এবং সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাঠটি অন্য কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। দাবি পূরণে অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ও আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গণজমায়েত করেন। পরে পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে যান। সেখানে অবস্থান নিয়ে সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এই সময় পরীক্ষার সরঞ্জাম ও নমুনা সংগ্রহের দু’টি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তাঁরা। মাঠের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো একটি সাইনবোর্ডও ভেঙে ক্যাম্পাসে এনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাখা হয়। এই আন্দোলনের সমর্থনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, মাঠটি হাতছাড়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কৃষি গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী জানান, পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত বিভাগের চেয়ারম্যানদের সভায় নেওয়া হয়। তাই আপাতত আগের সূচি অনুযায়ীই পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ জানান, বাণিজ্য মেলার মাঠ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট কমিটি কাজ করছে। রিট করার ব্যাপারে কমিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। /এমএএইচ/

শেকৃবি’র গবেষণা মাঠে সচিবালয় নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিলেন শিক্ষার্থীরা

সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৬ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ৫ কার্গো এবং কাতারের কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এক কার্গো এলএনজি আনা হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি আয়োজিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৫০তম বৈঠকে এলএনজি কেনার এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হলো। বৈঠকে বিপি সিঙ্গাপুরের থেকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচক থেকে ০.১৭ ডলার কমে কেনার বিষয়টিতে সম্মতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কাতার এনার্জি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে থাকা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর দর জেকেএম সূচকের তুলনায় ০.১০ ডলার কম ধরা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম সভায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে জাপানি প্রতিষ্ঠান জেরা গ্লোবাল মার্কেটস পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি কেনার বিষয়ে একটি প্রস্তাব তোলা ছিলো। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ 'পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬'-এর ৬৮ ধারা এবং 'পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫'-এর ৯৯(২) বিধি মেনে দরকষাকষি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি সইয়ের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবটি জমা দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের আইনি পরীক্ষা বা ভেটিং শেষে সিদ্ধান্তটি পরবর্তী বৈঠকে তোলার জন্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ জাপানি প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্গো কেনার চূড়ান্ত সায় দেওয়া হয়নি। //আইই//

সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
শব্দদূষণের নতুন ৪ উৎস শনাক্ত

শব্দদূষণের নতুন ৪ উৎস শনাক্ত

দেশে ক্রমবর্ধমান শব্দ দুষণের আরও চারটি নতুন উৎস শনাক্ত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব উৎস থেকে অতিরিক্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ সৃষ্টি হলে, তা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ জরিপে শব্দদূষণের নতুন এই উৎসগুলোকে চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হলো- বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ভিক্ষুক ও হকারদের হ্যান্ড মাইক এবং চিকিৎসকদের চেম্বারের ঘোষণা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দেশের ৬৪ জেলা শহরে ‘শব্দের মাত্রা পরিমাপ’— শীর্ষক জরিপটি পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। সম্প্রতি জরিপটির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেশে শব্দদূষণের প্রধান ২৫টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- যানবাহনের চলাচল, হাইড্রোলিক হর্ন ও সাধারণ হর্ন, যানজট, মাইকিং, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দিবস উদযাপন ও ডিজে সাউন্ডবক্সের ব্যবহার, ভিআইপি গাড়ির হর্ন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের গাড়ির সাইরেন, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠান, হুটার, নির্মাণকাজ, বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম। এ ছাড়া গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, মোটরসাইকেল, যানবাহনের ওভারটেকিং, অতিরিক্ত অটোরিকশা, নসিমন ও করিমন, রেলগাড়ির হর্ন, পর্যটকবাহী যানবাহন ও বাইক, সরু সড়ক, জাহাজ, উড়োজাহাজ, বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত যানবাহন, মুঠোফোন, টেলিভিশন ও রেডিওর মতো যোগাযোগের মাধ্যম এবং অবকাঠামো উন্নয়নকাজও শব্দদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, আবাসিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিশ্রিত এলাকায় যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা বেড়েছে। ঢাকায় যাত্রাবাড়ীর গোলচত্বর, শংকর, ধানমন্ডি ও শ্যামলী মোড় এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ ছাড়া ঢাকার ইংলিশ রোড, নবাবপুর, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও শান্তিনগরের মতো বাণিজ্যিক ও যান চলাচলপ্রবণ এলাকায় সার্বক্ষণিক শব্দদূষণ বেড়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৪ জেলা শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ শব্দের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর গোলচত্বর এলাকায়। সেখানে শব্দের মাত্রা ছিল ১২৯ দশমিক ৪ ডেসিবেল (ডিবি)। পরিবেশ অধিদপ্তর বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর আশপাশের এলাকা, আগারগাঁও এবং জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের এলাকাকে নীরব এলাকা (সাইলেন্ট জোন) হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনকে নীরব এলাকা ঘোষণা করে। যদিও এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর অন্তত চারটি নীরব এলাকায় শব্দের মাত্রা নির্ধারিত সীমার অনেক বেশি। ২০২২ সালের মার্চে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজের (ক্যাপস) একটি দল সচিবালয়, আগারগাঁও, জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের চারটি নীরব এলাকায় শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে। সেখানে দেখা গেছে, এলাকাগুলোতে শব্দের গড় মাত্রা ছিল ৯৭ দশমিক ৬৩ ডেসিবেল, যা অনুমোদিত ৫০ ডেসিবেল সীমার প্রায় দ্বিগুণ। গবেষণায় সচিবালয় এলাকায় শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া যায় ১০০ দশমিক ১৭ ডেসিবেল, সেখানে সর্বোচ্চ শব্দের মাত্রা ছিল ১২৭ ডেসিবেল। জাতীয় সংসদ এলাকায় গড় শব্দের মাত্রা ছিল ৯৯ দশমিক ৩৫ ডেসিবেল। চারটি এলাকার মধ্যে তুলনামূলক কম শব্দের মাত্রা ছিল আগারগাঁওয়ে, যেখানে গড় মাত্রা ছিল ৭৮ দশমিক ১১ ডেসিবেল। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত শব্দের অনুমোদিত মাত্রা হলো, নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ও রাতে ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ও রাতে ৪৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় (আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প) দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ও রাতে ৬০ ডেসিবেল ও শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ও রাতে ৭০ ডেসিবেল। পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপ চলাকালে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সুপারিশ করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হটলাইন চালু, যাতে এ সেবার মাধ্যমে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে সহজে মামলা করা যায়। এ ছাড়া সরকারি আইন অনুযায়ী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শব্দের মাত্রা ও শব্দ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ এবং শব্দদূষণ কমাতে ধীরগতির যানবাহনের চলাচল কমানো ও মহাসড়কের পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। অবৈধভাবে হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি ও বাজারজাত বন্ধ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল সীমিত করা, শহরের শিল্পাঞ্চল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, সব ধরনের যানবাহনের জন্য শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ, মাইকের ব্যবহার সীমিত করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নেরও সুপারিশ করেন অংশীজনেরা। /কেআর/

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা, জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা, জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে

আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ। নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশে তীব্র পানিসংকট দেখা দিতে পারে, যা কয়েক কোটি মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ। এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশের শুষ্ক বরেন্দ্র অঞ্চলের ৭২ বছর বয়সী বিকাশ সরেনের এখনো মনে আছে, একসময় গঙ্গা নদী দিয়ে সারা বছর বড় বড় নৌকা চলাচল করত। ভারতের মধ্য দিয়ে বয়ে আসা নদীটি ছিল তার গ্রামের পাশেই। প্রটেস্ট্যান্ট ধর্মযাজক সরেন বলেন, 'বছরে প্রায় তিন মাস এই নদীতে পানির কোনো প্রবাহই চোখে পড়ে না।' তার ভাষ্য, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ধান ও গমের ফসল নষ্ট হয়ে গত মৌসুমে দুই কৃষক আত্মহত্যা করেন। বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত গঙ্গার প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীতে মাছের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ৫৫ বছর বয়সী আবু বকর সিদ্দিক একসময় নদীতে মাছ ধরতেন। এখন নদী ছেড়ে পুকুরে মাছ চাষ করছেন তিনি। সিদ্দিক বলেন, 'আমরা এখন মাছ কোথায় পাব? আমি আগে কত রকমের মাছ ধরতাম।' বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৫২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গা নদী বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নদী অববাহিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ অববাহিকায় বাস করে প্রায় ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে বাংলাদেশেরই ৫ কোটির বেশি মানুষ। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে। চুক্তিটির আওতায় বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজে শুষ্ক মৌসুমে পানি বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পানি বণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বাংলাদেশের এখন 'পারস্পরিক সুবিধা ও শ্রদ্ধার' ভিত্তিতে একটি নতুন চুক্তি প্রয়োজন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এসব নদীর মধ্যে গঙ্গা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। পানি বণ্টন তদারককারী সংস্থা যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সাবেক সদস্য মালিক ফিদা এ খান বলেন, ভারত উজানে 'অতিরিক্ত বাঁধ' নির্মাণ করেছে। তার মতে, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি পুরো নদী অববাহিকাকে বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হলেও নয়াদিল্লি এখনো সাড়া দেয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নদীসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা যৌথ নদী কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। কমিশনের সর্বশেষ কারিগরি বৈঠক হয়েছিল গত মে মাসে। তবে কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের সর্বশেষ নিশ্চিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে, দীর্ঘ ১২ বছরের বিরতির পর। এদিকে অভিন্ন তিস্তা নদীর পানি বণ্টনে প্রস্তাবিত চুক্তিও ২০১১ সাল থেকে ঝুলে আছে। এদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ ধরনের সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ১৯৭৫ সালে, যখন ভারত ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফারাক্কা ব্যারেজ চালু করে। সে সময় বাংলাদেশের অভিযোগ ছিল, ভারত নদীর বেশির ভাগ পানি সরিয়ে নিচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে ১৯৭৭ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এক দশক পর ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে বলে জানান ঢাকাভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন রিভারাইন পিপলের শেখ রোকন। তিনি বলেন, 'চুক্তিহীন বছরগুলোতে গঙ্গা মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল এবং অন্তত তিনটি নদী প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল।' এসব নদীর একটি গড়াই। নদীটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে মিষ্টি পানি সরবরাহ করে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে লবণাক্ত পানি যাতে বনের ভেতরে বেশি প্রবেশ করতে না পারে, সে ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেখ রোকনের ভাষ্য, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জিকে প্রজেক্ট) পানির অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। প্রকল্পটি ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার ফসলি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। পানিসংকট মোকাবিলায় গত মে মাসে ঢাকা ২৮০ কোটি ডলারের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটিতে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রও রয়েছে। তবে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে পানি বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। শেখ রোকন বলেন, 'আমরা যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হই, তবে আমার আশঙ্কা, পরিস্থিতি অতীতে চুক্তিহীন বছরগুলোতে যা দেখেছিলাম, তার চেয়েও খারাপ হবে। কারণ, উভয় দেশেই এখন মিষ্টি পানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।' রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর থাকার সময়েও গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতাধীন জমির পরিমাণ কমে ৫৫০ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, 'নদীতে যদি পর্যাপ্ত পানি না থাকে, তবে তার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়কর।' জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও বাংলাদেশের কৃষি ও জনজীবন ক্রমেই চাপে পড়ছে। নদীর প্রবাহে পরিবর্তন, শুষ্ক মৌসুমে তীব্র খরা এবং বর্ষায় প্রবল বন্যা—সব মিলিয়ে কৃষিপ্রধান দেশটির সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। বন্যায় ফসলি জমি ও গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিকাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীটির প্রস্থ প্রায় তিন কিলোমিটার হয়েছে, যা এর স্বাভাবিক প্রস্থের প্রায় দ্বিগুণ। ফিল্ডার বাজার গ্রামের ৫০ বছর বয়সী রেহানা খাতুন জানেন, নদীর এমন পরিবর্তন কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা আমি জানি। বন্যায় নিজের বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে ফেরে। বর্তমানে একটি বাঁশের ঘরে বসবাস করা খাতুন সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে নদীর 'ভয়াল গর্জনের' কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, 'নদীটি হিংস্র রূপ ধারণ করে তীরের সবকিছু গিলে খেতে শুরু করেছিল। আর বন্যার পানি নেমে যাওয়ার অনেক পরও সেই মানসিক ক্ষত শিশুদের মনে থেকে যায়।' সূত্র; এএফপি /কেআর/

Environment Sidebar
২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবে কৃষি কার্ড

২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবে কৃষি কার্ড

আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা, প্রাক-পাইলটিংয়ের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং তাদের কাছে আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশব্যাপী কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির জন্য ইতোমধ্যেই তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রমের অগ্রগতি হয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ৯ লাখ। কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলার এ কার্যক্রম কর্মসূচির প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই ও প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এ পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণের প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রাক-পাইলটিংয়ের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে এ পর্যায়ে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। প্রাক-পাইলটিংয়ের এ অভিজ্ঞতার পর কর্মসূচির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত এলাকায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অক্টোবর মাসে দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত উপজেলায় একযোগে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় ভার্চুয়ালি একই সঙ্গে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে মোট ৭৭টি কৃষি ব্লকে কর্মসূচির কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন। নির্বাচিত এলাকাগুলোতে কৃষক কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এ সহায়তার আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তার আওতাভুক্ত কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ জন। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন ও বাকি ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক রয়েছেন। কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে এ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি হয়েছে। এটি কর্মসূচির দেশব্যাপী বাস্তবায়নের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য অর্জনে বিপুলসংখ্যক কৃষকের তথ্য সংগ্রহ ও তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হবে। সে বিবেচনায় এ কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কার্ড বিতরণের অগ্রগতি ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক কার্ড কর্মসূচি একযোগে দেশের সব কৃষি ব্লকে বাস্তবায়ন না করে পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ছয়টি কৃষি ব্লকের কৃষকদের মধ্যে ৭ হাজার ৬৪৩টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। এ পরিকল্পনার আওতায় দেশের ৬৪ জেলা, ৫০৩টি উপজেলা ও ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি মূল্যায়নে কৃষক নিবন্ধন, কার্ড বিতরণ, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের বিপুলসংখ্যক কৃষককে একটি সমন্বিত কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ও ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ কর্মসূচি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ডিপিডি) মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তাদের চাহিদা নিরূপণ ও কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকের চাহিদা যেহেতু সৃজনভিত্তিক পরিবর্তন হয়, তাই কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার পর তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হবে। রাকিবুজ্জামান খান বলেন, ইতোমধ্যেই ২২ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষককে বিভিন্ন কৃষিসেবার আওতায় আনা ও মাঠপর্যায়ে সরকারি উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষিসেবা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি ও কৃষক বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকের কল্যাণে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকগণ ১০টি সেবা পাবেন। কৃষক স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষি বীমা,আবহাওয়া তথ্য ও বালাই নাশক পরামর্শ ইত্যাদি সুবিধাসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে তার প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শনসহ সরকার ও রাষ্ট্র যে তাদের পাশে রয়েছে এরই প্রতিফলন হচ্ছে কৃষক কার্ড। সূত্র: বিএসএস /কেআর/

সবজি চাষে স্বাবলম্বী রংপুরের সেলিনা

সবজি চাষে স্বাবলম্বী রংপুরের সেলিনা

সেলিনা আক্তার উপজেলার কান্দী ইউনিয়নের কান্দী কাবিলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এক সময় সংসারে সচ্ছলতা আনতে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হতো। পরে বাড়ির পাশের এক একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পরিচর্যায় ধীরে ধীরে সাফল্য আসে। শীত ও গ্রীষ্ম দুই মৌসুমেই তার জমিতে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, করলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, শিমসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। স্থানীয় বাজারে চাহিদা মেটানোর পর অবশিষ্ট সবজি আড়তে বিক্রি করেন তিনি। অনেক সময় পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনে নেওয়ায় পরিবহন খরচও কমে। সেলিনা আক্তার জানান, প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে আয় থাকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এই আয় দিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি অনার্সপড়ুয়া একমাত্র ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করছেন। তার খেতে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে ছয়জন শ্রমিক কাজ করেন। সেলিনা জানান, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন করছেন তিনি। স্থানীয় শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষি পরামর্শ, উন্নত বীজ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তার মতো উদ্যোক্তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, সেলিনার মতো নারী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার সাফল্য অন্য নারী ও বেকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। /শান্ত/

অনলাইন জরিপ

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কৃতি ঋণখেলাপির মাধ্যমে নষ্ট হয়েছে। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?

হ্যাঁ০
না১
মন্তব্য নেই০

মোট ভোট: ১

নীরব ক্লাসরুম থেকে অক্সফোর্ডের আঙিনায় ব্র্যাকের নাফিসা

নীরব ক্লাসরুম থেকে অক্সফোর্ডের আঙিনায় ব্র্যাকের নাফিসা

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সবসময়ই প্রথম সারিতে। এর আগেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। এবার সেই একই গৌরব বয়ে আনলেন নাফিসা। অক্সফোর্ডে মাস্টার্সে সম্পূর্ণ স্কলারশিপ পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। নাফিসা সুযোগ পেয়েছেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘অক্সফোর্ড-ওয়াইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রাম’-এর আওতায়। এই স্কলারশিপের সুবিধাগুলো হলো: ১০০% কোর্স ফি মওকুফ, থাকা-খাওয়ার জন্য বড় অঙ্কের লিভিং গ্র্যান্ট (যা ২০২৭ সালের জন্য প্রায় ২১,৮০৫ পাউন্ড), ভিসা এবং যাতায়াতের সম্পূর্ণ খরচও বহন করা হয়। বাংলাদেশ এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। নাফিসা যে ফুল ফান্ডেড সুযোগটি পেয়েছেন, তা এই ধরনের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামের আওতায়। নাফিসা অক্সফোর্ডের বিখ্যাত ‘রিফিউজি স্টাডিজ সেন্টার’-এ ৯ মাস মেয়াদী ‘রিফিউজি রাইটস অ্যান্ড ফোর্সড মাইগ্রেশন’ কোর্সে পড়াশোনা করবেন। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারটি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও শরণার্থী অধিকার নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। যুদ্ধ, নিপীড়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষা করাই এই কোর্সের মূল লক্ষ্য। নাফিসার এই সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। মেধা, পরিশ্রম আর সঠিক লক্ষ্য থাকলে বিশ্বের যেকোনো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সম্ভব—নাফিসা সেটিই প্রমাণ করেছেন। অক্সফোর্ডের লাইব্রেরিতে বসে যখন তিনি বিশ্ব শরণার্থী সংকট নিয়ে পড়াশোনা করবেন, তখন তাঁর প্রতিটি পাতায় জড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের এক সাধারণ তরুণীর অদম্য স্বপ্নের গল্প। /এমএএইচ/

চারঘাট থেকে স্ট্যানফোর্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন সম্ভাবনা খুঁজছেন তৌহিদুল ইসলাম

চারঘাট থেকে স্ট্যানফোর্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন সম্ভাবনা খুঁজছেন তৌহিদুল ইসলাম

রাজশাহীর চারঘাটে বেড়ে ওঠা এক তরুণের স্বপ্ন ছিলো প্রকৌশলী হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা, এরপর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা। দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদে রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাঁর নাম মো. তৌহিদুল ইসলাম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার মান উন্নয়নের গবেষণায় কাজ করছেন তিনি। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বিশ্লেষণকে আরও নির্ভরযোগ্য করে রোগীভেদে কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করা। তৌহিদুলের বেড়ে ওঠা রাজশাহীর চারঘাটে। ছোটবেলা থেকেই প্রকৌশলী হওয়ার আগ্রহ ছিলো তাঁর। অন্যদিকে, বাবা চাইতেন ছেলে চিকিৎসক হোক। নিজের পছন্দের পথেই এগিয়ে যান তৌহিদুল। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ২০০৫ সালে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন তিনি। সেখানে পড়াশোনার সময় শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও সেলিয়া শাহনাজের অনুপ্রেরণায় গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বুয়েটে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি। ২০১৪ সালে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ প্রকৌশলে পিএইচডি শুরু করেন। ২০১৮ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তৌহিদুল। এর আগে ২০১৪ সালেই বুয়েট থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। তৌহিদুলের গবেষণার বিশেষ দিক হলো, প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধান খোঁজা। তাঁর গবেষণায় চিকিৎসাসংক্রান্ত ছবি, জিনগত তথ্য এবং অন্যান্য জৈবিক উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের প্রকাশিত প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ক্যানসার শনাক্তকরণ, নির্ভুল চিকিৎসা এবং চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। পাশাপাশি স্নায়বিক রোগ নিয়ে গবেষণাতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একই রোগের ক্ষেত্রেও রোগীভেদে উপসর্গ, জৈবিক বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ধরন ভিন্ন হতে পারে। এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তৌহিদুলের গবেষণা এই সম্ভাবনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তৌহিদুলের গবেষণাকাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের প্রোফাইলে তাঁর একাধিক সম্মাননা ও পুরস্কারের উল্লেখ রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) থেকে তিনি ‘কে৯৯/আর০০ পাথওয়ে টু ইন্ডিপেনডেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পান। এই পুরস্কার গবেষকদের স্বাধীন গবেষণা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে স্ট্যানফোর্ডের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ থেকে রেডিয়েশন সায়েন্সে অবদানের জন্য ‘আমাতো জিয়াচ্চিয়া অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন দ্য রেডিয়েশন সায়েন্সেস’ অর্জন করেন তিনি। স্ট্যানফোর্ডের প্রোফাইলে তাঁর গবেষণাপত্রের তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে জার্নাল নিবন্ধ ও সম্মেলনভিত্তিক গবেষণাপত্রসহ বিভিন্ন প্রকাশনার তথ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়া তৌহিদুলের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিলো। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্ট্যানফোর্ডে শিক্ষকতার সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিলো দীর্ঘ ও কঠিন। একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকার ও উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতার প্রস্তাব পাওয়ার পর স্ট্যানফোর্ডকে বেছে নেন তিনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর নতুন পদে যোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিলো। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে টেনিউর-ট্র্যাক পদে যোগ দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি তিনি। টেনিউর-ট্র্যাক হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘমেয়াদি অধ্যাপনা ও স্থায়ী একাডেমিক পদ অর্জনের সম্ভাবনাযুক্ত একটি নিয়োগব্যবস্থা। বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের গবেষণাগার ‘ইসলাম ল্যাব’ পরিচালনা করছেন তিনি। তাঁর কাজের লক্ষ্য, গবেষণাগারে তৈরি পদ্ধতিগুলোকে এমনভাবে উন্নত করা, যাতে সেগুলো বিভিন্ন রোগী ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যের ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা যায়। চারঘাটের যে তরুণ একসময় প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, আজ তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, গবেষণা করছেন ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা নিয়ে। তাঁর এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, গবেষণা আর কঠোর পরিশ্রম। তৌহিদুল ইসলামের গল্প মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের মাটি থেকে উঠে এসেও বিশ্বের বড় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে নিজের জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। এখন তাঁর কাজের দিকে তাকিয়ে আছেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা, আর তাঁর গবেষণা কতটা কাজে আসে চিকিৎসাক্ষেত্রে, সেটিই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তথ্যসূত্র: স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের শিক্ষক-প্রোফাইল, প্রথম আলো, ইউএনবি এবং ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত প্রতিবেদন //আইই//

ইন্টেল থেকে টেসলা, বিশ্ব প্রযুক্তিশিল্পে বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ

ইন্টেল থেকে টেসলা, বিশ্ব প্রযুক্তিশিল্পে বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ

বিশ্বের প্রযুক্তিশিল্পে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি তৈরি থেকে শুরু করে কম্পিউটার চিপ উৎপাদন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন দক্ষ প্রকৌশলী, গবেষক ও পরিকল্পনাবিদ। এই প্রতিযোগিতামূলক জগতে নিজের দক্ষতা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সারোয়ার মোর্শেদ। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলে কাজ করার পর এবার তিনি যুক্ত হয়েছেন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায়। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদন ও তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, সারোয়ার বর্তমানে টেসলার সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটির রোবোট্যাক্সি ও সেমি ট্রাক প্রকল্পে উৎপাদন পরিকল্পনা, সরবরাহব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের সমন্বয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। তাঁর এই পেশাগত যাত্রা বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিশিল্পে কাজ করার সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সারোয়ার মোর্শেদ তাঁর পরিচিত মহলে ‘রিপন’ নামেও পরিচিত। বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে ফলিত গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন সারোয়ার। পরে বোস্টনের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে শিল্প প্রকৌশলে গবেষণা শুরু করেন। ২০২২ সালে অপারেশনস রিসার্চ বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। তাঁর শিক্ষাজীবনের বিশেষ দিক হলো, প্রকৌশলের পাশাপাশি গণিত ও তথ্য বিশ্লেষণেও দক্ষতা অর্জন করেছেন তিনি। এই জ্ঞান পরবর্তী সময়ে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জটিল উৎপাদন ও পরিকল্পনাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজে এসেছে। সারোয়ারের গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র অপারেশনস রিসার্চ ও গাণিতিক অপ্টিমাইজেশন। সহজভাবে বললে, সীমিত সময়, অর্থ, যন্ত্রপাতি ও জনবল ব্যবহার করে কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর ফল পাওয়া যায়, তা নির্ধারণে এসব পদ্ধতি সাহায্য করে। ধরা যাক, একটি কারখানায় একসঙ্গে অনেক ধরনের পণ্য তৈরি করতে হবে। কিন্তু যন্ত্রপাতির সক্ষমতা সীমিত, কাঁচামাল সরবরাহের সময় নির্দিষ্ট এবং উৎপাদনের খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোন পণ্য কখন তৈরি হবে, কোন যন্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং কোথায় উৎপাদন আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গাণিতিক মডেল ব্যবহার করা যায়। এই ধরনের সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন সারোয়ার। তাঁর গবেষণায় বড় আকারের গাণিতিক সমস্যার সমাধানে অ্যালগরিদম তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার সময় তিনি বড় আকারের অপ্টিমাইজেশন সমস্যা সমাধানের অ্যালগরিদম এবং তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণপদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন। তাঁর গবেষণাপত্রের তালিকায় গাণিতিক অপ্টিমাইজেশন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক কাজের উল্লেখ রয়েছে। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর ২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের চ্যান্ডলারে ইন্টেল করপোরেশনে অপারেশনস রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন সারোয়ার। বিশ্বের অন্যতম বড় সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলে তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র ছিলো উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার জটিল সমস্যা সমাধান। তাঁর প্রকাশিত পেশাগত বিবরণ অনুযায়ী, তিনি উৎপাদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অ্যালগরিদম, অপ্টিমাইজেশন মডেল, সিমুলেশন এবং দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার পূর্বাভাস তৈরির পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। কম্পিউটার, স্মার্টফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সেমিকন্ডাক্টর চিপ। এসব চিপ তৈরিতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, নির্ভুল উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। উৎপাদনের একটি ধাপে সমস্যা দেখা দিলে পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই কারখানার সক্ষমতা, যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও সরবরাহকারীদের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টেলে সারোয়ারের কাজ ছিলো এই ধরনের জটিল সমস্যায় তথ্য ও গাণিতিক বিশ্লেষণের সাহায্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইন্টেলে ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সরবরাহকারী ও মূলধনি পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। ইন্টেলে কাজের অভিজ্ঞতার পর সারোয়ার মোর্শেদের কর্মজীবনে এসেছে নতুন অধ্যায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও তাঁর লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি এখন টেসলার সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার। টেসলা বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির পাশাপাশি স্বয়ংচালিত গাড়ি ও নতুন পরিবহনপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের লক্ষ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে সক্ষম গাড়ির মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন পরিষেবা দেওয়া। অন্যদিকে, টেসলা সেমি হলো ভারী পণ্য পরিবহনের জন্য তৈরি বৈদ্যুতিক ট্রাক। সারোয়ারের পেশাগত যাত্রা শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশেই। বুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করার পর ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, বিজিএমইএ ও বুয়েটের যৌথ প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা মূল্যায়নসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন। এর আগে ২০১৩ সালে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে ইন্টার্নশিপের সময় উৎপাদনপ্রক্রিয়ার জন্য সময়সূচি নির্ধারণের অ্যালগরিদম তৈরির কাজেও অংশ নেন তিনি। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। উৎপাদনব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করার ধারাবাহিকতা তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা যায়। বুয়েটে প্রকৌশল শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর গবেষণা, ইন্টেলে কাজ এবং এরপর টেসলায় নতুন দায়িত্ব- সারোয়ার মোর্শেদের কর্মজীবনের এই ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিশিল্পে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণের একটি দৃষ্টান্ত। প্রযুক্তির বিশ্বে বড় পরিবর্তন অনেক সময় দৃশ্যমান উদ্ভাবনের আড়ালে থাকা অসংখ্য পরিকল্পনা, বিশ্লেষণ ও সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে। সেই কাজের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা দিয়ে জায়গা করে নিতে পারেন। সারোয়ার মোর্শেদের পেশাগত যাত্রা সেই সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

যেভাবে প্রবাসে ‘সামুদ্রিক খাবারের রাজা’ হয়ে উঠলেন ইকবাল আহমেদ

যেভাবে প্রবাসে ‘সামুদ্রিক খাবারের রাজা’ হয়ে উঠলেন ইকবাল আহমেদ

সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে ওল্ডহ্যাম, আর সেখান থেকে বিশ্বজুড়ে হিমায়িত সামুদ্রিক খাবারের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন ইকবাল আহমেদ। পারিবারিক ব্যবসার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই ব্রিটিশ সিলেটি উদ্যোক্তা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো এই কিশোরই আজ ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় বাণিজ্যিক মহলে পরিচিত ‘মিস্টার শ্রিম্প’ বা ‘কিং প্রন’ নামে। তিনি সানডে টাইমস রিচ তালিকাতে অবস্থান করা শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ বাংলাদেশি। ১৯৫৬ সালের ৪ আগস্ট সিলেট বিভাগের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন ইকবাল আহমেদ। ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে সিটি কলেজ ওয়েস্টমিনস্টারে পড়াশোনা শেষ করেন। কয়েক বছর পর ওল্ডহ্যামে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তাঁর দুই ভাই কামাল ও বিলালও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। তিন ভাইয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সিমার্ক গ্রুপ’। ইকবাল আহমেদ এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব পালন করছেন। সিমার্ক গ্রুপের মূল কাজ হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইবকো’র মাধ্যমে ক্যাটারিং ব্যবসায় পণ্য সরবরাহ করা। উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক চিন্তার অধিকারী ইকবাল আহমেদই প্রথম রেফ্রিজারেটেড কন্টেইনারের মাধ্যমে হিমায়িত সামুদ্রিক খাবার আমদানি-রপ্তানি শুরু করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সর্বপ্রথম 'ব্ল্যাক টাইগার' চিংড়ি আমদানি করার কৃতিত্বও তাঁর। বর্তমানে সিমার্কের ‘মিস্টার প্রন’, ‘লিলি’, ‘ক্লাসিক’ ও ‘টাইগার’ ব্র্যান্ডের পণ্য বাংলাদেশি মালিকানাধীন ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু করে কারফুর ও কস্টকোর মতো বিশ্বখ্যাত ইউরোপীয় সুপারমার্কেট চেইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। ম্যানচেস্টারভিত্তিক সিমার্ক আজ ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, যার বার্ষিক টার্নওভার বা লেনদেন প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড। ইউরোপে সাফল্যের পর ২০০১ সালে উত্তর আমেরিকার বাজারে বিতরণের সুবিধার্থে নিউ জার্সি এবং ব্রুকলিনে নতুন সেলস অফিস খুলে প্রতিষ্ঠানটি। সামুদ্রিক খাবারের পাশাপাশি ইকবাল আহমেদ ম্যানচেস্টারে ‘ভারমিলিয়ন’ রেস্টুরেন্ট, ‘সিনাবার’ নাইটক্লাব, হোটেল এবং রিয়েল এস্টেট খাতেও নিজের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারেন, সেজন্য তিনি ‘এনআরবি ব্যাংক’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমাজসেবাতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ২০১৪ সালে নিজ জন্মভূমি সিলেটে একটি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তিনি নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ওবিই’ (OBE) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ২০১২ সালে তিনি ‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং নর্থ রিজিয়ন এন্টারপ্রেনার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। একটি ছোট পারিবারিক দোকান থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক খাবারের বিশাল বাজার জয় করার এই গল্প সিলেট থেকে ম্যানচেস্টারে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বব্যাপী প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। /এমএএইচ/

Namaz
ফজর --:--
জোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--

ঢাকা