চোখ বা কানের সমস্যা থেকেও হতে পারে জটিল রোগ
ছোট ছোট বিষয় ভুলে যাওয়া মানেই যে ভবিষ্যতে স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়া হবে তা কিন্তু নয়। স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা সদ্য ঘটা ঘটনা মনে না পড়ার মতো লক্ষণ, অন্য মনোরোগের কারণেও হতে পারে। আবার স্নায়বিক এমন কিছু রোগ হয়, যার লক্ষণ অনেক আগেই ধরা পড়ে চোখে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, চোখ ও কানে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যা ভবিষ্যতে স্মৃতিনাশ, ডায়াবিটিস অথবা শরীরে রক্তজমাট বাঁধার পূর্বাভাস হতে পারে। এখন মনে হতেই পারে, এইসব জটিল রোগের লক্ষণ চোখ ও কান দেখে কী ভাবে বোঝা যাবে? তার উপায় আছে। রোজের জীবনে এমন কিছু সমস্যা চোখে বা কানে হয়, যা সাধারণ বলেই ভ্রম হতে পারে। তবে এগুলো থেকে ভবিষ্যতে জটিল রোগ হতে পারে।
চোখ দেখে কী ভাবে জটিল রোগ ধরা যাবে?
রেটিনা অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। দেখা , রেটিনার স্নায়ুর স্তর পাতলা হতে শুরু করলে তা থেকে পরবর্তীকালে স্মৃতিনাশ বা মস্তিষ্কের জটিল রোগ হতে পারে। তা ছাড়া ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কারণেও চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দৃষ্টিশক্তি যদি ঝাপসা হতে শুরু করে, সোজা লাইন বাঁকা দেখায় বা সামনের দৃশ্য আঁকাবাঁকা দেখাতে থাকে, তা হলে সেটি মস্তিষ্ক বা শরীরের কোনও অংশে রক্তজমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে।
চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা বা কোনও স্পট দেখা গেলে, তা স্নায়ুর রোগের পূর্বসঙ্কেত হতে পারে।
ডায়াবিটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে হতে চলে যেতে পারে। এই সমস্যা ডায়াবিটিক রেটিনোপ্যাথির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
চোখের সামনে কালো পর্দার মতো দেখলে, চোখে যন্ত্রণা হলে, আশপাশের জিনিস ঝাপসা দেখলে তা ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
কানের কোন সমস্যায় সতর্ক হতে হবে?
চোখের মতো কানের ভিতরের অংশ বা ককলিয়ার সঙ্গেও মস্তিষ্কের স্নায়ুর যোগ নিবিড়। হার্ট বা মস্তিষ্কের রক্তনালিতে কোনও সমস্যা হলে তার প্রভাব সবচেয়ে আগে কানের উপর পড়ে। মধ্য বয়সে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রষ্টতার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হতে পারে।
অতিরিক্ত আওয়াজ বা উচ্চমাত্রার শব্দ কানে গেলে যদি মাথাঘোরা বা মাথা যন্ত্রণার লক্ষণ দেখা দেয়, ঘাড় ও পিঠে যন্ত্রণা হতে থাকে, তা হলে সতর্ক হতে হবে। এটি স্নায়বিক রোগের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
সবসময় কানে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া অথবা নানা রকম শব্দ শোনা রক্তনালিতে রক্তজমাট বাঁধা বা স্নায়বিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।
ডায়াবিটিস রোগীদের মধ্যে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কারণ, কানের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলিতে সুগার বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রভাব সরাসরি ককলিয়ার স্নায়ুকে দুর্বল করে দেয়। তাই কানে কম শোনার লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
কেআর/
