Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি'র অস্থির বাজারে আসছে আরেক দফা দাম বৃদ্ধি

এলপিজি'র অস্থির বাজারে আসছে আরেক দফা দাম বৃদ্ধি

বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই আবারও এলপিজির দাম বাড়ানোর আয়োজন চলছে। দেশজুড়ে যখন গৃহিণীরা যখন বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহারে অভ্যস্থ হয়ে উঠছেন, ঠিক তখনই এই গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে বাজারকে অস্থির করে তুলছে। একটি রাবার স্ট্যাম্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই কাজে সহায়তা করে চলেছে জ্বালানির দাম সমন্বয়কারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই পর্যন্ত যতোবার দাম সমন্বয় করে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বিইআরসি, কোনো দামই বাজারে কার্যকর হয়নি। সরকারি সংস্থাটির নির্ধারিত দামে আজ পর্যন্ত কোথাও কোনো সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। বরং বিইআরসির ‘এক ধাপ’ দাম বৃদ্ধি, বাজারে ‘দুই ধাপ’ দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় বিইআরসি’তে আবারও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। এলপিজি বোতলজাতকারী কোম্পানিগুলো ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া, প্রতি কেজিতে মজুত ও বোতলজাতকরণ খরচ ১৯.৫০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত করার আবেদন করা হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং বিক্রেতা কমিশন ৪৫ থেকে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাড়তে থাকা এলপিজির দাম নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানির দিন ধার্য করেছে সংস্থাটি। এতে সরকারি এলপিজির দাম ও বেসরকারি এলপিজির বিভিন্ন খরচ ও কমিশন পরিবর্তনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। এই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এলপিজির দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। তরল জ্বালানির মূল্যহার পরিবর্তনসংক্রান্ত গণশুনানির আগে কমিশনের কাছে এক চিঠিতে এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ না নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তাপর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জানিয়েছে ক্যাব। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি করেছে বিইআরসি। তখন ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বাজারে কোথাও ওই দামে তরল সিলিন্ডার গ্যাস মিলছে না। বিভিন্ন এলাকায় এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। হাই কোর্টের নির্দেশনায় ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। পরে ওই বছরের অক্টোবরে দাম নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। এরপর থেকে সৌদি আরামকোর প্রতি মাসের চুক্তিমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করছে কমিশন। ক্যাবের প্রস্তাবনা গত ২৬ অক্টোবর এক লিখিত মতামতে ক্যাব বলেছে, বিদ্যমান নির্ধারিত মূল্যই বাজারে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় নতুন করে মূল্য ও চার্জ বাড়ানো হলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। ক্যাবের লিখিত মতামতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনেক ভোক্তাকে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার খরচ যুক্ত হলেও সিলিন্ডারের দাম ও পরিবহন খরচের পৃথক হিসাব স্পষ্ট করা হচ্ছে না। সংগঠনটি বলছে, এই পরিস্থিতি নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে দুর্বলতা এবং সরবরাহব্যবস্থায় জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তাই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনার আগে বাজারে বিদ্যমান মূল্য কার্যকর করা এবং অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ক্যাবের মতে, পাইপলাইনের গ্যাসসুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য এলপিজি রান্নার অপরিহার্য জ্বালানি। খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটানোর পর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন। ফলে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি হলে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। লিখিত মতামতে সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখা, মজুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ না করা এবং বাজারে পণ্য সরবরাহ সীমিত করে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, সংশ্লিষ্ট অপারেটর ও পরিবেশকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জাহাজভাড়া, ডলারের বিনিময় হার ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে ক্যাব। সংগঠনটির দাবি, এসব ব্যয় প্রকৃত লেনদেনের দলিল, নিরীক্ষিত হিসাব ও নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। একই ব্যয় একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা, অযৌক্তিক ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো কিংবা অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ রাখা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি ব্যয় কমলে তার সুফলও যথাসময়ে ভোক্তাদের দিতে হবে। এছাড়া মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার চার্জ নির্ধারণে প্রকৃত পরিচালন ব্যয়, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের পরিমাণ বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব। সরকারি এলপিজির উৎপাদন বা ক্রয়ব্যয় ও বিতরণ ব্যয় পৃথকভাবে মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছ বরাদ্দ ও সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশও করেছে সংগঠনটি। ক্যাবের ৭ দফা সুপারিশে বলা হয়েছে, এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন না করা, নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, চার্জ ও কমিশন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই, আমদানি ও বিতরণ ব্যয়ের পৃথক হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও রসিদ প্রদান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অতিরিক্ত মূল্য আদায়, সিলিন্ডার না পাওয়া, কম ওজন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের সহজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গণশুনানিতে আবেদনকারীদের প্রস্তাবের পাশাপাশি ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব। চূড়ান্ত মূল্যহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন ব্যয় গ্রহণ বা বর্জন করা হয়েছে এবং উত্থাপিত আপত্তিগুলো কিভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও চেয়েছে সংগঠনটি। ক্যাবের প্রত্যাশা, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ ও ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন না করে নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কোম্পানিগুলোর মুল্যবৃদ্ধির অজুহাত বিইআরসির কাছে দেয়া প্রস্তাবে, বর্তমান সরকারি দামে তাদের না পোষাণোর কথা তুলে ধরে নতুন মূল্য নির্ধারণে কমিশন বাড়ানোসহ গ্যাস বাজারজাত করার বিভিন্ন ধাপে বাড়তি ব্যয়ের সমন্বয়ের কথা বলেছে এলপিজি বোতলজাতকারী কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলো কেজিপ্রতি গ্যাস মজুত ও বোতলজাত করার খরচের সঙ্গে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশনও বাড়ানোর আবেদন করেছে। পাশাপাশি বিনিয়োগের ওপর মুনাফা বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছে। দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে ব্যাংকঋণের সুদ, পরিবহন, কারখানা পরিচালনা ও নিরাপত্তা খরচ বাড়ার কথা বলেছে কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাবে খরচের হিসাবে পার্থক্য দেখা গেছে। প্রতি কেজি এলপিজি মজুত ও বোতলজাত করার খরচ ওমেরা এলপিজি ১২ টাকা ২৫ পয়সা, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি ২৫ টাকা, ডেল্টা এলপিজি ৩০ টাকা, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সাড়ে ১৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। কোম্পানিভেদে খরচের হিসাবে পার্থক্যের বিষয়ে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, প্রতিটি কোম্পানি নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী প্রস্তাব দিয়েছে। কোন কোম্পানির হিসাব কতটা গ্রহণযোগ্য তা সরকার বিবেচনা করবে। এলপিজির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলপিজির বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা যাচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৮ অক্টোবর একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আবার কোম্পানিগুলো (যারা অপারেটর হিসাবে পরিচিত) আলদাভাবেও প্রস্তাব জমা দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি মাসে সমন্বয়ের সময় সৌদি কার্গো মূল্য, প্রিমিয়াম (জাহাজভাড়া, বিমা), ডলারের দর ও জ্বালানি তেলের দাম ধরে নতুন দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে অন্য খরচও বেড়েছে; তাই দাম বাড়াতে হবে। প্রস্তাবে লোয়াব-এর চিঠিতে বলা হয়, বিইআরসি তার মূল্য গণনায় অন্যান্য চার্জকে ফিস্কড এবং ভেরিঅ্যাবল দুই ভাগে ভাগ করেছে। ফিস্কড অংশে ল্যান্ডিং চার্জ, লেভি চার্জ, রিভার ডিউজ, কাস্টম সার্ভে এবং পোর্ট চার্জ প্রতি মেট্রিক টন ৩০০ টাকা ধরে গণনা করে যেখানে প্রকৃত খরচ হয় ৩৮০ টাকা। অন্য চার্জের ভেরিঅ্যাবল অংশে এলসি চার্জ, ইন্স্যুরেন্স চার্জ, সিঅ্যান্ডএফ কমিশন, ডিসপোর্ট ইন্সপেকশন চার্জ মোট সিএফআর মূল্যের উপর শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ হারে চার্জ গণনা করে যেখানে প্রকৃতপক্ষে খরচ হয় দুই দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বিইআরসির মূল্য নির্ধারণে প্রতি ১২ কেজিতে অন্য খরচ ধরা হয় ৮ দশমিক ৮ টাকা যেখানে অপারেটদের প্রকৃত খরচ ২৫ দশমিক ১ টাকা এবং প্রতি ১২ কেজি রিফিলের জন্য অপারেটরদের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ১৬ দশমিক ৫ টাকা। এছাড়া বিইআরসি পূর্ববর্তী মাসের এভারেজ সেটেলমেন্ট রেট নিয়ে চলতি মাসের মূল্য নির্ধারণ করে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাবার কারণে প্রতি মাসে অপারেটরদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্যাক্টরি ওভারহেড হিসেবে বিইআরসি খরচ ধার্য করেছে ২৩ দশমিক ৪৩ টাকা, যা প্রকৃতপক্ষে প্রতি ১২ কেজি রিফিলের জন্য ৪২ টাকা। বিতরণ এবং পরিবহন (প্ল্যান্ট টু প্ল্যান্ট এলপিজি ট্রান্সফার এবং এলপিজি সিলিন্ডার ডিস্ট্রিবিউশন) খরচ প্রতি ১২ কেজির রিফিলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ দশমিক ০৯ টাকা (ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি সমন্বয়ের পর)। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা শুধু অবাস্তবই নয় অসম্ভবও বটে। প্রকৃত হিসেবে এই খরচ নিম্নপক্ষে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিইআরসির মূল্য নির্ধারণ সূত্রে অবচয় ধরেছে ৫৭ দশমিক ৯৮ টাকা, যা প্রকৃত হিসেবে ৬৩ টাকা বা তার বেশি। বিআরসি তাদের মূল্য নির্ধারণ সূত্রে ২০২১ সালের ফাইনান্সিয়াল চার্জকে এখনও পর্যন্ত কার্যরত রেখেছে এবং যেখানে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে ফিনান্সিয়াল চার্জের অনেক খাতেই পরিবর্তন এসেছে। এদিকে বিইআরসি তার মূল্য গণনায় প্রতি ১২ কেজির জন্য অপারেটর প্রফিট মার্জিন এবং করপোরেট ট্যাক্স ধরছে ৩৩ টাকা যা অক্টোবর, ২০২৩ মাসের অপারেটর মূল্যের ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজির মতো বিশাল বিনিয়োগনির্ভর কোম্পানির জন্য তা খুবই নগণ্য এবং পরিচালকদেরকে এই ব্যবসা পরিচালনা এবং বিনিয়োগ করতে অনুৎসাহিত করবে। এ অবস্থায় কোম্পানির পরিচালনাকে উৎসাহিত করার জন্য অপারেটর প্রফিট মার্জিন ১০ শতাংশ করার জন্য অনুরোধ করা হল। এতে ১২ কেজিতে মুনাফা দাঁড়াবে প্রায় ১৪০ টাকা। অন্যদিকে ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ ৫০ টাকা এবং রিটেইলার চার্জ ৪৫ টাকা, যা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ধার্যকৃত টাকা দিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরের এবং রিটেইলার ব্যবসা পরিচালনা করে টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তাদের বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে এলপিজি বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই ডিস্ট্রিবিউটর এবং রিটেইলার চার্জ বৃদ্ধি করার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারে রিটেইলার চার্জ ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় সমন্বয় করে সব মিলিয়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারি দর ১ হাজার ৮৩৭ থেকে প্রতি সিলিন্ডারে আরও ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে যা চায় অপারেটরগুলো ওমেরা পেট্রোলিয়াম গত ১৩ অক্টোবর তাদের প্রস্তাব জমা দেন। এতে লোয়াবের ২০২৩ সালের ১৮ অক

Advertisement
Advertisement