বদলে যাচ্ছে অর্থবছরের হিসাব: যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার
অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে আগেই। এখন বাস্তবায়নের পালা। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা-বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরের আইন, বিধি-বিধান, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি-সমঝোতা স্মারক ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ। এই বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ১৫ অক্টোবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে সব দপ্তরে। ওই চিঠিতে আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রেরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিটি সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের প্রভাব চিহ্নিত করা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
যেভাবে অর্থবছর কার্যকর
সরকারি চিঠির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রচলিত সময়সীমা পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে এর মেয়াদ ৯ মাস নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণ করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্তের কথা চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে অর্থবছর চলছে ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রস্তাবিত সময়সূচি কার্যকর হলে সরকারি বাজেট প্রণয়ন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, বার্ষিক পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়সীমায় পরিবর্তন আসবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক প্রস্তুতি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাসংশ্লিষ্ট আইন, বিধি-বিধান, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসহ প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের ফলে বিদ্যমান বিধান বা প্রশাসনিক নির্দেশনার কোথাও সংশোধন প্রয়োজন হলে তা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কোন কোন দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে?
চিঠির সংযুক্ত তালিকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি); জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন অ্যাকাডেমি (নাডা); বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন অ্যাকাডেমি; বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন; সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর ও পরিবহন কমিশনারের কার্যালয়; ঢাকার ফুলবাড়িয়াস্থ সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। চিঠির তালিকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব
অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন কার্যকর হলে সরকারি দপ্তরের বার্ষিক বাজেট, ব্যয় পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক প্রতিবেদন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়সূচি নতুনভাবে সমন্বয় করতে হতে পারে। বিশেষ করে ২০২৭-২৮ অর্থবছর ৯ মাসের হলে ওই সময়ের আয়-ব্যয় ও বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন হতে পারে।
তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, ছুটি, বার্ষিক আর্থিক সুবিধা কিংবা অন্যান্য অধিকার কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে এই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ে পরবর্তী সময়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র বা প্রয়োজনীয় বিধিমালা জারি করা হলে তা অনুসরণ করতে হবে।
পরিবর্তনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন কেবল ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আয়, উন্নয়ন ব্যয়, সরকারি ক্রয় এবং বিভিন্ন দপ্তরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা জড়িত। তাই পরিবর্তন কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রশাসনিক বিধান পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই চিঠি থেকে বোঝা যায়, অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার পর কী কী সংশোধন করা হবে, তা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
//আইই//
