জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ৪ দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার কিছু পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এর আগে, জাপানের নারিতা বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা শুরু হয়েছিলো স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা)।
সরকারপ্রধানের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিলো সন্ধ্যা ৬টায়। কিন্তু বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই যাত্রায় প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্ব হয়। সেই বিলম্বের কারণে ঢাকায় পৌঁছাতে গভীর রাত হয়ে যায় সরকারপ্রধান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের।
৪ দিনের সরকারি সফরে গত ২৬ অক্টোবর জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নানা দিক উঠে আসে। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করতে একটি জাপানি প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশে আসবে বলে জানানো হয়।
সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ৬টি সরকারি সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২.১২ বিলিয়ন ইয়েনের অনুদান চুক্তি এবং ২পর্যায়ের ‘উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের দু’টি ‘ইয়েন-লোন’ ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর বাইরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
২৮ অক্টোবর টোকিওতে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে অটোমোবাইল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, উচ্চগতির রেল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই ৫টি অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জেবিআইসি গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সুমিতোমো কর্পোরেশন ও জেরার মতো শীর্ষ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফুত্তসুতে ‘জেরা’ এলএনজি টার্মিনাল, ইচিকাওয়ার ‘নিতসু’ লজিস্টিকস হাব এবং নাগোয়াতে টয়োটার মোতোমাচি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন।
/এমএএইচ/
