তাহসিফের সেই ‘জুনিয়র বন্ধু’ দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই
তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর সেই ‘জুনিয়র বন্ধু’ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের ডাকেই বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাহসিফ।
তাঁকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তিনি জানান, গত রাতে তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়। দু’জন একসঙ্গে ছিলেন বলে তাঁরা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে-ই বিষয়ে রেজা দ্বীপের দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
এর আগে, বুধবার বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁরা বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপের ফোনেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তাঁর মায়ের মোবাইলে একটা বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন।
বিমান বাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তাঁর মরদেহ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ মোবাইল ও মানিব্যাগ পেলেও বাইকটির সন্ধান পায়নি। তাহসীফকে ডেকে নেওয়া বন্ধুস্থানীয় ‘ছোট ভাই’ দ্বীপের সঙ্গে পরিবারের তরফে কথা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানান এক স্বজন। তাঁর ভাষ্য, দ্বীপ তাঁদের বলেছেন, তাঁরা একসঙ্গে রাতে খাওয়াদাওয়া করেছেন। পরে তাহসিফকে তাঁর বাসার এলাকাতেই রেখে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন দ্বীপ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বাইক নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে এসে হাজির হন দ্বীপ। গ্যারেজে ঢুকে প্রথমেই তিনি নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন এবং পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাহসিফ ওপর থেকে নেমে নিচে চলে আসেন এবং দ্বীপের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে হাত মেলান। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দু’জনকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
/এমএএইচ/
