ঢাকার প্রতিটি ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় ফুটপাত দখল হয়ে আছে এবং জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব হটস্পট চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে। একটি একটি করে ফুটপাত দখলমুক্ত করে নগরবাসীর হাঁটাচলার পথ তৈরি করা হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, গত ১৭ তারিখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জন্য সরকার ও সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। তাদের পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের কাজে যুক্ত করা হলে নগরবাসী আরও উপকৃত হবে এবং সিটি করপোরেশনও সহযোগিতা পাবে। শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন দেশ গড়ার সময়। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশকে আধুনিক ও বাসযোগ্য করার নির্দেশনা দিচ্ছেন, তাঁর একজন সহকর্মী হিসেবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে যেসব জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে, সেগুলোর পরিচর্যা করবেন। নতুন করে যেসব জায়গায় গাছ লাগানো হবে, সেখানেও নিয়মিত পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন রুটিন করে গাছে পানি দেওয়া এবং যেসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে আছে, সেগুলো নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করার কাজ করবেন। এই কাজে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে। নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘আমার ঢাকা’ নামে একটি অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, অ্যাপটির কাজ চলছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি উদ্বোধন করা হবে। নগরীর যেকোনো এলাকার সমস্যা অ্যাপের মাধ্যমে জানানো হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফিক্স ইট ডিএনসিসি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন। সেটির মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে এই এলাকার ফুটপাত দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতেন না। ব্যবসায়ীদেরও চলাচলে সমস্যা হতো। মিরপুরবাসী ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন সেটিকে আরও নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে সংস্কারকাজ চলছে। ইতিমধ্যে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে। শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুধু মিরপুর-১০ নয়, যেসব জায়গায় যানজট সৃষ্টি হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে কিংবা নগরবাসীর হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, সেসব এলাকার ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। /এমএএইচ/