Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অফিসে কেউ আপনাকে পছন্দ করেন, বুঝবেন যেসব আচরণে
অফিসে কেউ আপনাকে পছন্দ করেন, বুঝবেন যেসব আচরণে

কোনো সহকর্মী আপনাকে বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু ভাবেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা কঠিন। তবে কিছু আচরণ তার বিশেষ আগ্রহের ইঙ্গিত দিতে পারে। ১. আপনার প্রশংসা করেন আপনার কাজের পাশাপাশি পোশাক, ব্যক্তিত্ব কিংবা ছোটখাটো বিষয়ও যদি কোনো সহকর্মী নিয়মিত লক্ষ করেন, তাহলে আপনার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ থাকতে পারে। আপনার সাফল্যে খুশি হওয়া কিংবা কঠিন সময়ে উৎসাহ দেওয়াও ভালো লাগার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে প্রশংসা করলেই প্রেমের সম্পর্কের সম্ভাবনা নিশ্চিত হয় না। ২. অফিসের বাইরেও সময় কাটাতে চান কাজের বাইরে কফি খেতে যাওয়া, ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া কিংবা নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার মাধ্যমে কেউ আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চাইতে পারেন। তবে এটি বন্ধুত্বের প্রকাশও হতে পারে। ৩. আপনাকে দেখলে হাসিমুখে কথা বলেন অফিসে আপনাকে দেখলে হাসিমুখে স্বাগত জানানো, কথা বলার উপলক্ষ খোঁজা কিংবা আপনার দিন কেমন কাটছে জানতে চাওয়া বিশেষ আগ্রহের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে কারও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণকে সরাসরি প্রেমের লক্ষণ ভাবা ঠিক নয়। ৪. আপনার সামনে নার্ভাস হয়ে পড়েন কথা বলতে গিয়ে জড়িয়ে যাওয়া, অপ্রস্তুত হয়ে পড়া কিংবা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে সংকোচ বোধ করা কখনো বিশেষ ভালো লাগার কারণে হতে পারে। তবে লাজুক স্বভাব বা কাজের চাপ থেকেও এমন আচরণ দেখা যায়। ৫. অন্য সহকর্মীর সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তি দেখান আপনি অন্য কারও সঙ্গে বেশি সময় কাটালে কোনো সহকর্মী চুপ হয়ে গেলে বা বাড়তি কৌতূহল দেখালে তা ঈর্ষার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এমন আচরণের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। অতিরিক্ত ঈর্ষা বা আপনার মেলামেশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকে ভালোবাসার লক্ষণ ভাবা উচিত নয়। অনুমান নয়, গুরুত্ব দিন বোঝাপড়াকে একটি বা দুটি আচরণ দেখে কারও অনুভূতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। বন্ধুত্ব, সৌজন্য ও প্রেমের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সময় নিন। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে খোলামেলা ও সম্মানজনক কথোপকথন অনেক ভুল ধারণা দূর করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখাও জরুরি। কারও প্রতি ভালো লাগা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে সেই অনুভূতি প্রকাশ ও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে দুজনের সম্মতি, স্বাচ্ছন্দ্য এবং পারস্পরিক সম্মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। /শান্ত/

ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের দূরত্ব
ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের দূরত্ব

বর্তমান সময়ে আমরা এতটাই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছি যে, কারও বাসায় বেড়াতে গেলে বা সবাই মিলে আড্ডায় বসলেও হাতে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকি। যার ফলে পরস্পরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয় না। আবার কোনো সময় সম্পূর্ণ কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনার কারণে কথার ভুল মানে করা হয়। তখন সম্পর্কে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সম্পর্কে ফাটল ধরে। অন্যদিকে, মেসেজের উত্তর দিতে দেরি হওয়া বা অনলাইনে সক্রিয় থাকা নিয়ে অযথা সন্দেহও তৈরি হতে পারে। ডিজিটাল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা হলো, লিখিত বার্তায় কণ্ঠস্বর ও মুখের অভিব্যক্তি সব সময় বোঝা যায় না। ফলে সহজ কথাও কখনও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। এই পরিস্থিতি সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের জন্য সরাসরি কথা বলা বা ফোনে আলোচনা করা উপকারী। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সময়কে সম্মান করা প্রয়োজন। অনলাইনে সব সময় উপস্থিত থাকার দাবি সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এই দ্রুত যোগাযোগের কারণে মানুষের মাঝে আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ কমে যাচ্ছে। তাছাড়া সবার সব খবরাখবর এক মুহূর্তে পাওয়ার কারণে সামনাসামনি যোগাযোগ বা কথোপকথনও কমে যাচ্ছে। যার ফলে আত্মীয়তার বন্ধনও নড়বড়ে হচ্ছে। একে অপরের প্রতি আদর, মায়া, ভালোবাসার যোগাযোগগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি সম্পর্ককে কাছে আনার মাধ্যম হতে পারে, সম্পর্কের গভীরতা নির্ভর করে মনোযোগ, সময়, বিশ্বাস ও পারস্পরিক যত্নের ওপর। তাই আমাদের কাছের মানুষগুলোর জন্যে অন্তত মুখোমুখি তাদের সাথে যোগাযোগের সময়খানি পরিবার থেকেই অভ্যাস করতে হবে। না হয় একসময় নিজের পরিবার, অর্থাৎ বাবা-মা-ভাই-বোন ছাড়া আর সব আপন মানুষ দূরের হয়ে যাবে। /শিউলী/

পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সুন্দর দাম্পত্য
পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সুন্দর দাম্পত্য

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পর্যাপ্ত যত্ন ও পরিচর্যার অভাবে দাম্পত্য জীবন বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল, ইন্টারনেটে আমরা এত বেশি সময় পার করছি যে, সম্পর্কগুলোর দিকে নজরই দেয়া হয় না। মনে রাখবেন সবার আগে সম্পর্ক। সম্পর্কের সঠিক যত্ন না নিলে সে সম্পর্ক খুব দ্রুত ভেঙে যায়। চলুন জেনে নেই কিভাবে সুন্দর রাখবেন দাম্পত্য সম্পর্ক- পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দাম্পত্য সম্পর্কে থাকতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, মতামত রয়েছ। আপনি যদি তাকে মূল্যায়ন না করেন, তবে আপনার প্রতি সঙ্গীর শ্রদ্ধাবোধ থাকবে না। তাই সঙ্গীকে মূল্যায়ন করুন, আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে যাবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জীবনসঙ্গীর বন্ধু হয়ে উঠার চেষ্টা করুন। না হয় আপনার দাম্পত্য জীবনে দুরত্ব সৃষ্টি হবে, সংসার হয়ে উঠবে বিরক্তিকর। কারণ একমাত্র বন্ধুর সঙ্গেই আমরা আমাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে জীবনকে সহজ করে তুলতে পারি। তাই পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তার ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে উঠুন। এতে দাম্পত্য সম্পর্ক সতেজ থাকবে। প্রশংসা করুন আমরা অনেক সময়ই সঙ্গীর দায়িত্বকে স্বাভাবিক কাজকর্মের মতো বিচার করি। কিন্তু এমনটা করা মোটেও উচিৎ নয়। সঙ্গীর প্রতি স্নেহশীল হতে হবে। তার যে কোনো ভালো কাজে প্রশংসা করতে হবে। মনোযোগী হওয়া আমরা অনেক সময় সঙ্গীর কাজ, কথা, তার প্রয়োজনীয়তার প্রতি নজর দেই না। তার কোনো সিদ্ধান্ত, কথাকে মনোযোগ দিয়ে শুনি না। যা ঠিক নয়। সঙ্গীর প্রতি মনোযোগী হোন। বুঝতে দিন আপনি তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। যে কাজই করুন না কেন, সঙ্গী কিছু বললে তাতে মনোযোগ দিন, না হয় এক সময় অভিমান জমে পাহাড় হয়ে গেলে তা পেরোনো মুশকিল হয়ে যাবে। উপহার দিন কোনো উপলক্ষ্য থাকুক আর না থাকুক, সঙ্গীকে মাঝে মাঝে উপহার দিন। হোক সেটি একটিমাত্র গোলাপ। দেখবেন তার মন কেমন ফুরফুরে হয়ে উঠে। তাতে আপনার প্রতি তার ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধও বাড়বে। একসঙ্গে সময় কাটানো সম্পর্ক যতই পুরনো হোক, নিজেদের জন্যে কিছু সময় সব সময় রাখুন। প্রাপ্য সময়টুকু দুজন দুজনকে দেওয়ার মাধ্যমেই সম্পর্কে মধুরতা আসে, সম্পর্ক মজবুত হয়। এই সময়টুকু হেলায় পার করে দেওয়ার পর দাম্পত্য জীবনে সুখ খোঁজা, খড়ের গাঁদায় সুচ খোঁজার মতো হবে। মনে রাখবেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার চাইতে টিকিয়ে রাখা কঠিন। আপনি যদি দায়সারাভাবে সম্পর্কে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেন তাহলে নিজে যেমন সুখ পাবেন না, তেমনি সঙ্গীকেও সুখে রাখতে পারবেন না। সম্পর্ককে ধরে রাখতে অবশ্যই আপনাকে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। সেটা মৌখিকভাবেই হোক, কিছু আদান-প্রদান, ছোট এক টুকরো হাসির মাধ্যমেই হোক। /শিউলী/

সম্পর্কের রকম ফের
সম্পর্কের রকম ফের

এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যারা একে-অপরকে ভালোবাসেন, কিন্তু একসঙ্গে নেই। এমন নানা সম্পর্ক আমাদের চারপাশেই রয়েছে। ইদানীং প্রেমের সম্পর্কেও একে-অপরের প্রতি ‘কমিটেড’ থাকে না। বিবাহিত সম্পর্কে থাকলেও অনেক সময় দু’জনের মাঝে কোনো মানসিক টান থাকে না। আবার এমন অনেক বন্ধুত্ব রয়েছে, যার জন্য একে অপরকে জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত। চলুন কয়েকটি সম্পর্কের নাম জেনে নেই রোমান্টিক রিলেশনশিপ: প্রথম প্রেমে পড়লে মানুষ যা করেন, তাকেই বলা হয় রোম্যান্টিক রিলেশনশিপ। এই সম্পর্কই পরবর্তীতে আরও মজবুত হয়। দুটি মানুষের মধ্যেই তৈরি হয় ভরসার জায়গা। প্রেমে পড়া, একে-অপরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া সবই রয়েছে এই সম্পর্কে। সেই সঙ্গে গড়ে ওঠে ইমোশনাল ইন্টিমেসিও। এই সম্পর্কে একে-অপরের সঙ্গে জীবন কাটানোর প্রতিশ্রুতি দেন। প্ল্যাটনিক রিলেশনশিপ: এই রিলেশনশিপে একে-অপরের খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকেন আজীবন। এই বন্ধুত্বের মাঝে প্রেমও থাকতে পারে। দু’জন একে-অপরের মনের কথা বোঝেন, একে অপরকে সাপোর্ট করেন। সেই সঙ্গে কেয়ারও করেন। কিন্তু দু’জনের মাঝে কোনো শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় না। টক্সিক রিলেশনশিপ: এই রিলেশনশিপে সারাক্ষণ ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকে, এটাই মূলত টক্সিক রিলেশনশিপ। মানসিক অশান্তি যেন পিছুই ছাড়ে না। যে আপনার সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তে খারাপ আচরণ করছেন, সেই সম্পর্কে না থাকাই ভালো। টক্সিক রিলেশনশিপ থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততোই উত্তম। /শিউলী/

স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করা ছোট হওয়ার নয়
স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করা ছোট হওয়ার নয়

অফিস শেষে বাড়ি ফিরে বউ আপনাকে চা/কফি করে দিবে, রান্না করে গরম গরম খাবার খাওয়াবে আর আপনি বসে টিভি দেখবেন, কিংবা বন্ধুদের সাথে ফোনে গল্প করবেন-তেমন মানসিকতা থাকলে হবে না। সেক্ষেত্রে আপনাকেও তার কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। চা/কফিটা না হয় আপনিই করুন, দুজনে মিলে খান। এরপর আপনার স্ত্রী যখন রান্না করতে যাবে, হাতে হাতে তাকে কিছু কাজ এগিয়ে দিন। এতে আপনার স্ত্রী খুশি হবেন, কাজেও অনুপ্রেরণা পাবেন। রান্না শেষে খাবারটা না হয় আপনিই পরিবেশন করুন। খাওয়া শেষে নিজের প্লেটটা নিজেই ধুয়ে নিন। আপনার স্ত্রী বাকি প্লেট বাটিগুলো ধুতে থাকলে আপনি খাবারগুলো গুছিয়ে রাখুন। তাতে স্ত্রীর উপর কাজের চাপ অনেকটা কমে যাবে। স্ত্রী যদি চাকরিজীবি না হয়, তবে বাড়ি ফিরে তাকে কিছু সময় দিন। তাতে তার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হবে। কোনো একটা ছুটির দিনে তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। পথের পাশে দাঁড়িয়ে এক প্লেট ফুচকাই খান। তাতে সংসার এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে তার ক্লান্তি দূর হবে। ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা বাড়বে। স্ত্রীকে পাশে থেকে সহায়তা করলে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মান বাড়ে। সহযোগিতা মানে শুধু রান্নাই করতে হবে, তা নয়। ছোটছোট কাজগুলো পাশে থেকে করে দিলেও সাহায্য হয়। /শিউলী/