ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের দূরত্ব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করেছে। দূরে থাকা পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে দ্রুত কথা বলা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু অনলাইনে যোগাযোগের পরিমাণ বাড়লেই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বর্তমান সময়ে আমরা এতোটাই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছি যে, কারও বাসায় বেড়াতে গেলে বা সবাই মিলে আড্ডায় বসলেও হাতে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকি। যার ফলে পরস্পরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয় না। আবার কোনো সময় সম্পূর্ণ কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনার কারণে কথার ভুল মানে করা হয়। তখন সম্পর্কে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সম্পর্কে ফাটল ধরে।
অন্যদিকে, মেসেজের উত্তর দিতে দেরি হওয়া বা অনলাইনে সক্রিয় থাকা নিয়ে অযথা সন্দেহও তৈরি হতে পারে।
ডিজিটাল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা হলো, লিখিত বার্তায় কণ্ঠস্বর ও মুখের অভিব্যক্তি সব সময় বোঝা যায় না। ফলে সহজ কথাও কখনও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। এই পরিস্থিতি সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের জন্য সরাসরি কথা বলা বা ফোনে আলোচনা করা উপকারী। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা উচিত।
একই সঙ্গে অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সময়কে সম্মান করা প্রয়োজন। অনলাইনে সব সময় উপস্থিত থাকার দাবি সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এই দ্রুত যোগাযোগের কারণে মানুষের মাঝে আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ কমে যাচ্ছে।
তাছাড়া সবার সব খবরাখবর এক মুহূর্তে পাওয়ার কারণে সামনাসামনি যোগাযোগ বা কথোপকথনও কমে যাচ্ছে। যার ফলে আত্মীয়তার বন্ধনও নড়বড়ে হচ্ছে। একে অপরের প্রতি আদর, মায়া, ভালোবাসার যোগাযোগগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রযুক্তি সম্পর্ককে কাছে আনার মাধ্যম হতে পারে, সম্পর্কের গভীরতা নির্ভর করে মনোযোগ, সময়, বিশ্বাস ও পারস্পরিক যত্নের ওপর। তাই আমাদের কাছের মানুষগুলোর জন্যে অন্তত মুখোমুখি তাদের সাথে যোগাযোগের সময়খানি পরিবার থেকেই অভ্যাস করতে হবে। না হয় একসময় নিজের পরিবার, অর্থাৎ বাবা-মা-ভাই-বোন ছাড়া আর সব আপন মানুষ দূরের হয়ে যাবে।
/শিউলী/
