পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সুন্দর দাম্পত্য
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিটি সম্পর্কেই প্রয়োজন ভালো বোঝাপড়া। দাম্পত্য জীবনে যেহেতু দুজন মানুষ দীর্ঘদিন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়াটা অনেক বেশি জরুরি। একজন অন্যজনকে না বুঝলে, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা, শ্রদ্ধবোধ না থাকলে দীর্ঘ এই সম্পর্ক টেনে নেয়া দুষ্কর।
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পর্যাপ্ত যত্ন ও পরিচর্যার অভাবে দাম্পত্য জীবন বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল, ইন্টারনেটে আমরা এত বেশি সময় পার করছি যে, সম্পর্কগুলোর দিকে নজরই দেয়া হয় না। মনে রাখবেন সবার আগে সম্পর্ক। সম্পর্কের সঠিক যত্ন না নিলে সে সম্পর্ক খুব দ্রুত ভেঙে যায়। চলুন জেনে নেই কিভাবে সুন্দর রাখবেন দাম্পত্য সম্পর্ক-
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ
দাম্পত্য সম্পর্কে থাকতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, মতামত রয়েছ। আপনি যদি তাকে মূল্যায়ন না করেন, তবে আপনার প্রতি সঙ্গীর শ্রদ্ধাবোধ থাকবে না। তাই সঙ্গীকে মূল্যায়ন করুন, আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে যাবে।
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
জীবনসঙ্গীর বন্ধু হয়ে উঠার চেষ্টা করুন। না হয় আপনার দাম্পত্য জীবনে দুরত্ব সৃষ্টি হবে, সংসার হয়ে উঠবে বিরক্তিকর। কারণ একমাত্র বন্ধুর সঙ্গেই আমরা আমাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে জীবনকে সহজ করে তুলতে পারি। তাই পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তার ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে উঠুন। এতে দাম্পত্য সম্পর্ক সতেজ থাকবে।
প্রশংসা করুন
আমরা অনেক সময়ই সঙ্গীর দায়িত্বকে স্বাভাবিক কাজকর্মের মতো বিচার করি। কিন্তু এমনটা করা মোটেও উচিৎ নয়। সঙ্গীর প্রতি স্নেহশীল হতে হবে। তার যে কোনো ভালো কাজে প্রশংসা করতে হবে।
মনোযোগী হওয়া
আমরা অনেক সময় সঙ্গীর কাজ, কথা, তার প্রয়োজনীয়তার প্রতি নজর দেই না। তার কোনো সিদ্ধান্ত, কথাকে মনোযোগ দিয়ে শুনি না। যা ঠিক নয়। সঙ্গীর প্রতি মনোযোগী হোন। বুঝতে দিন আপনি তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। যে কাজই করুন না কেন, সঙ্গী কিছু বললে তাতে মনোযোগ দিন, না হয় এক সময় অভিমান জমে পাহাড় হয়ে গেলে তা পেরোনো মুশকিল হয়ে যাবে।
উপহার দিন
কোনো উপলক্ষ্য থাকুক আর না থাকুক, সঙ্গীকে মাঝে মাঝে উপহার দিন। হোক সেটি একটিমাত্র গোলাপ। দেখবেন তার মন কেমন ফুরফুরে হয়ে উঠে। তাতে আপনার প্রতি তার ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধও বাড়বে।
একসঙ্গে সময় কাটানো
সম্পর্ক যতই পুরনো হোক, নিজেদের জন্যে কিছু সময় সব সময় রাখুন। প্রাপ্য সময়টুকু দুজন দুজনকে দেওয়ার মাধ্যমেই সম্পর্কে মধুরতা আসে, সম্পর্ক মজবুত হয়। এই সময়টুকু হেলায় পার করে দেওয়ার পর দাম্পত্য জীবনে সুখ খোঁজা, খড়ের গাঁদায় সুচ খোঁজার মতো হবে।
মনে রাখবেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার চাইতে টিকিয়ে রাখা কঠিন। আপনি যদি দায়সারাভাবে সম্পর্কে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেন তাহলে নিজে যেমন সুখ পাবেন না, তেমনি সঙ্গীকেও সুখে রাখতে পারবেন না। সম্পর্ককে ধরে রাখতে অবশ্যই আপনাকে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। সেটা মৌখিকভাবেই হোক, কিছু আদান-প্রদান, ছোট এক টুকরো হাসির মাধ্যমেই হোক।
/শিউলী/
