Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এর আগে, জাপানের নারিতা বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা শুরু হয়েছিলো স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা)। সরকারপ্রধানের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিলো সন্ধ্যা ৬টায়। কিন্তু বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই যাত্রায় প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্ব হয়। সেই বিলম্বের কারণে ঢাকায় পৌঁছাতে গভীর রাত হয়ে যায় সরকারপ্রধান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের। ৪ দিনের সরকারি সফরে গত ২৬ অক্টোবর জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নানা দিক উঠে আসে। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করতে একটি জাপানি প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশে আসবে বলে জানানো হয়। সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ৬টি সরকারি সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২.১২ বিলিয়ন ইয়েনের অনুদান চুক্তি এবং ২পর্যায়ের ‘উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের দু’টি ‘ইয়েন-লোন’ ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর বাইরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ২৮ অক্টোবর টোকিওতে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে অটোমোবাইল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, উচ্চগতির রেল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই ৫টি অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জেবিআইসি গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সুমিতোমো কর্পোরেশন ও জেরার মতো শীর্ষ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফুত্তসুতে ‘জেরা’ এলএনজি টার্মিনাল, ইচিকাওয়ার ‘নিতসু’ লজিস্টিকস হাব এবং নাগোয়াতে টয়োটার মোতোমাচি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন। /এমএএইচ/

ত্রুটি সারিয়ে জাপান ছাড়লো প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ
ত্রুটি সারিয়ে জাপান ছাড়লো প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ

রাত আনুমানিক ২টার দিকে উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। এর আগে, উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় টোকিও থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটির যাত্রা বিলম্বিত হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যায়। তবে উড্ডয়নের আগেই সেটি থেমে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর পাইলট ইমামুল ঘোষণা করেন, কারিগরি সমস্যার কারণে উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন করতে পারছে না। তিনি জানান, ২ প্রকৌশলী ত্রুটি মেরামতের কাজ করছেন। সমস্যা সমাধানের পর ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করবে বলেও জানান তিনি। পরে উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে টারমাকে নেওয়া হয়। জাপানে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিলো। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটির ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিলো। /শান্ত/

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলাই হবে বড় সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী
পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলাই হবে বড় সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তারেক রহমান বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। অথচ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়ায়। তাই নগরবাসীকে সুস্থ রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ও যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার কাছে সংস্কার বলতে এমন উদ্যোগ বোঝায়, যার সুফল সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষও পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে সাধারণ মানুষের উপকার হয়, এমন সংস্কার বাস্তবায়নই সরকারের অগ্রাধিকার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকারের কাজগুলো সঠিক মনে হলে প্রবাসীরা যেন সেগুলোকে সমর্থন দেন। তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে গণতন্ত্রমনা জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। /শান্ত/

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই সহযোগিতা চান।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানী বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়। এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তাঁর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সময় ২ দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। /এমএএইচ/

পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে: প্রধানমন্ত্রী
পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। জ্বালানি, আইসিটি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তারা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে প্রথম দিকেই স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর অন্যতম জাপান। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। /শান্ত/

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে একাধিক এমওইউ সইয়ের আশা
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে একাধিক এমওইউ সইয়ের আশা

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন। সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কতটি দলিল সই হবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সফরকালে এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে।’ প্রত্যাশিত যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সংযোগ ঘটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে পারে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রস্তাবিত সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারদ স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য সফর করবেন। প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জাপান যাবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাইরেও এ সফরে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্তও আলোচনায় আসবে। ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে কি না-- এমন প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামো সহযোগিতার এসব বিষয় অবশ্যই আলোচনায় আসবে।’ তিনি জানান, আলোচনা শুধু মেট্রোরেল প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সিয়াম বলেন, ‘আমরা সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থায়নব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। জাপান বাংলাদেশে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে সহায়তা করছে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। পররাষ্ট্র সচিব জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নও আলোচনায় স্থান পাবে। দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করবে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এ সফরের লক্ষ্য। কেআর/

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে রাষ্ট্রদূত ঢাকায় থাকবেন, দায়িত্ব পালন করবেন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ক সচিব
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে রাষ্ট্রদূত ঢাকায় থাকবেন, দায়িত্ব পালন করবেন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ক সচিব

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালে দাঊদ আলীকে টোকিও থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাাশি এই সফরের কূটনৈতিক বিষয়াবলী তদারকি এবং সার্বিক আয়োজন সমন্বয়ের বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ১৯ অক্টোবর বিকেলে নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আর রাষ্ট্রদূতকে তলব বা প্রত্যাহার সংক্রান্ত আদেশে সই হয় ১৫ অক্টোবর। তাকে দুই দিনের মধ্যে ঢাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রদূতকে ঢাকাতেই অবস্থান করতে হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নজরুল ইসলাম ইতোমধ্যে জাপানে পৌঁছে গেছেন। পুরো সফরের সময় তিনি টোকিওতে অবস্থান করবেন এবং দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় ও কূটনৈতিক কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনার জন্য দাঊদ আলীকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরামর্শের জন্য ডেকে পাঠানো হলেও রাষ্ট্রদূতকে সফরের প্রস্তুতির কাজে রাখা হয়নি। দাঊদ আলী ১৫তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডার। জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। এ বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের ওপর আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। সফরে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য এ সফর সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বৃদ্ধি, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ আলোচনা হবে। এছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। তার খসড়া সফরসূচিতে ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এছাড়া, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন (জেবিআইসি), জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং সাকাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রধানদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি পারমাণবিক কেন্দ্র এবং নাগোয়ায় টয়োটার উৎপাদন প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারেন। মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ির মতো বৃহৎ অবকাঠামো ও পরিবহন প্রকল্পে সহায়তার মাধ্যমে জাপান দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। এ সফরের ফলে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত করার পাশাপাশি নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে এশিয়া জুড়ে জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। /কেআর/

প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গনের চেষ্টা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ
প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গনের চেষ্টা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-১ শাখার উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক এক আদেশে তাঁর বিষয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ জারির পর মঙ্গলবারই (২০ অক্টোবর) রাজশাহী ছেড়েছেন ইউসুফ আলী। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে সরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে প্রটোকল দেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিভাগীয় কমিশনারের প্রটোকল ভঙ্গের চেষ্টার ভিডিও। পরে সরকারি প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গজনিত কারণে রাতেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এর আগে, ২০ আগস্ট অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলীকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। এই সময় রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটকের বাইরে উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীসহ উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক এক করে হাত মেলান। ওই সময় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর তার সঙ্গে কোলাকুলির চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সেই সুযোগ না দিয়ে সরিয়ে দেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এই প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গের চেষ্টায় প্রটোকলের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের আদেশ হাতে পেয়ে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান। /এমএইচ/