রাত জেগে ফোন ব্যবহার, ঘুম হারাচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা
ছবি: সংগৃহীত
গভীর রাতে চারপাশ নীরব থাকলেও স্মার্টফোনের পর্দায় চোখ রেখে সময় কাটায় অনেক কিশোর-কিশোরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রলিং, বার্তার নোটিফিকেশন ও বিভিন্ন অ্যাপের ব্যবহার তাদের ঘুমের স্বাভাবিক সময় কমিয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মেজাজ, আচরণ, শেখার ক্ষমতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস এবং আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের সুপারিশ অনুযায়ী, কিশোর-কিশোরীদের প্রতি রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান ফ্রান্সিসকো ক্যাম্পাসের শিশুরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক জেসন এম. নাগাতা এবং তার সহকর্মীরা কিশোর মস্তিষ্কের বিকাশ নিয়ে পরিচালিত গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, রাতে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপ ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় ফোন হাতে রাখার অভ্যাস কিশোরদের ঘুমের সময় কমিয়ে দিতে পারে।
২০২৩ সালে একই গবেষণার উপাত্ত নিয়ে পরিচালিত এক পর্যবেক্ষণে প্রায় ১৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী জানিয়েছে, রাতে নোটিফিকেশন, ফোনকল, বার্তা কিংবা ই-মেইলের শব্দে অন্তত একবার তাদের ঘুম ভেঙেছে। প্রায় ২০ শতাংশ জানিয়েছে, রাতে ঘুম ভেঙে গেলে তারা স্মার্টফোন ব্যবহার করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মধ্যে নোটিফিকেশনের শব্দে জেগে উঠলে মস্তিষ্ক আবার সজাগ হয়ে যায়। এতে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়া কঠিন হতে পারে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্লান্তি, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শেখা তথ্য মনে রাখার ক্ষমতাও ব্যাহত হতে পারে।
এi সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ডিজিটাল ডিভাইস বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি শোবার ঘরকে প্রযুক্তিমুক্ত রাখা এবং পরিবারের সবার জন্য ফোন ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। সন্তানদের সামনে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীলভাবে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
/শান্ত/
