দক্ষতা আছে, চাকরি নেই: হতাশ জেন-জি প্রজন্ম
গ্রাফিক ডিজাইন জানি, ভিডিও এডিটিং পারি, ইংরেজিতে ভালো, তবুও চাকরি পাচ্ছি না- এটাই এখন হাজারো জেন-জি’র আর্তনাদ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েই তারা বুঝতে পারছে, সার্টিফিকেট দিয়ে আর চাকরি হয় না। কোম্পানিগুলো ২ বছরের অভিজ্ঞতা চায় ফ্রেশারদের কাছ থেকেও।
বর্তমান বিশ্বে জেন-জি প্রজন্মের অনেকেরই কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ কাজ করছে। তারা ইউটিউব দেখে স্কিল শিখছে, ফ্রিল্যান্সিং করছে, কিন্তু স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা পাচ্ছে না। অনেকেই হতাশায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। চাকরিদাতারা বলছেন, জেন-জি’র ধৈর্য কম, তারা দ্রুত পদোন্নতি চায়। আর জেন-জি বলছে, কোম্পানিগুলো তাদের আইডিয়াকে মূল্য দেয় না।
কেন এই সংকট
কাজের ধারণার পরিবর্তন: এই প্রজন্ম প্রচলিত ৯টা থেকে ৫টার গতানুগতিক চাকরি বা পরিবেশের প্রতি তেমন আগ্রহী নয়। অর্থ উপার্জন ও স্বাধীনতার সংজ্ঞা তাদের কাছে আলাদা। ফলে অনেকের মানসিকতার সাথে করপোরেট সংস্কৃতির মিল হয় না।
যোগাযোগ দক্ষতার ঘাটতি: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৩৯ শতাংশ নিয়োগকর্তার মতে জেন-জি কর্মীদের মাঝে ভালো যোগাযোগ দক্ষতার অভাব রয়েছে। যেমন: করপোরেট শিষ্টাচার, সরাসরি কথা বলা, টিমের সাথে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা।
সফট স্কিলের অভাব: শুধু টেকনিক্যাল বা হার্ড স্কিল (কোডিং, ডিজাইন ইত্যাদি) থাকলেই হয় না। নেতৃত্ব দেওয়া, সমস্যার সমাধান এবং ধৈর্যের মতো সফট স্কিলগুলো অনেক সময় তাদের ক্ষেত্রে দুর্বল থাকে।
কর্মসংস্থানের কাঠামোগত সংকট: দেশের বড় একটি অংশ তরুণ, যাদের প্রায় ২৩ শতাংশ পড়াশোনা, কাজ কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের মধ্যেই নেই।
এআই (AI) ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে সাধারণ অনেক কাজ এআই নিজে করে ফেলায় এন্ট্রি-লেভেল বা জুনিয়র চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে আসছে।
এই গ্যাপ কমাতে এখন ইন্টার্নশিপ ও স্কিল-বেইজড হায়ারিং জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/শিউলী/
