Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষতা আছে, চাকরি নেই: হতাশ জেন-জি প্রজন্ম
দক্ষতা আছে, চাকরি নেই: হতাশ জেন-জি প্রজন্ম

বর্তমান বিশ্বে জেন-জি প্রজন্মের অনেকেরই কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ কাজ করছে। তারা ইউটিউব দেখে স্কিল শিখছে, ফ্রিল্যান্সিং করছে, কিন্তু স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা পাচ্ছে না। অনেকেই হতাশায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। চাকরিদাতারা বলছেন, জেন-জি’র ধৈর্য কম, তারা দ্রুত পদোন্নতি চায়। আর জেন-জি বলছে, কোম্পানিগুলো তাদের আইডিয়াকে মূল্য দেয় না। কেন এই সংকট কাজের ধারণার পরিবর্তন: এই প্রজন্ম প্রচলিত ৯টা থেকে ৫টার গতানুগতিক চাকরি বা পরিবেশের প্রতি তেমন আগ্রহী নয়। অর্থ উপার্জন ও স্বাধীনতার সংজ্ঞা তাদের কাছে আলাদা। ফলে অনেকের মানসিকতার সাথে করপোরেট সংস্কৃতির মিল হয় না। যোগাযোগ দক্ষতার ঘাটতি: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৩৯ শতাংশ নিয়োগকর্তার মতে জেন-জি কর্মীদের মাঝে ভালো যোগাযোগ দক্ষতার অভাব রয়েছে। যেমন: করপোরেট শিষ্টাচার, সরাসরি কথা বলা, টিমের সাথে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। সফট স্কিলের অভাব: শুধু টেকনিক্যাল বা হার্ড স্কিল (কোডিং, ডিজাইন ইত্যাদি) থাকলেই হয় না। নেতৃত্ব দেওয়া, সমস্যার সমাধান এবং ধৈর্যের মতো সফট স্কিলগুলো অনেক সময় তাদের ক্ষেত্রে দুর্বল থাকে। কর্মসংস্থানের কাঠামোগত সংকট: দেশের বড় একটি অংশ তরুণ, যাদের প্রায় ২৩ শতাংশ পড়াশোনা, কাজ কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের মধ্যেই নেই। এআই (AI) ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে সাধারণ অনেক কাজ এআই নিজে করে ফেলায় এন্ট্রি-লেভেল বা জুনিয়র চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। এই গ্যাপ কমাতে এখন ইন্টার্নশিপ ও স্কিল-বেইজড হায়ারিং জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। /শিউলী/

জেন-জি'দের টাকার ধারণা বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি
জেন-জি'দের টাকার ধারণা বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

টাকা জমিয়ে রাখার ধারণায় বিশ্বাসী নয় জেন-জি। তারা বিশ্বাস করে YOLO-You Only Live Once অর্থ আপনি কেবল একবারই বাঁচবেন। তাই সঞ্চয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতায় খরচ করতে পছন্দ করে। নগদ অর্থ থেকে দূরত্ব ও ক্যাশলেস ঝোঁক: তারা নগদ টাকার চেয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড এবং ইউপিআই ভিত্তিক লেনদেনে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সফট সেভিংস বা নমনীয় সঞ্চয়: অতীতের কঠোরভাবে সঞ্চয় বা অবসরের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠার বিপরীতে জেন-জিরা সফট সেভিংস-এ বিশ্বাসী। তারা ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমানের মানসিক শান্তি ও জীবনযাত্রার মানকে বেশি প্রাধান্য দেয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও টিকে থাকার মানসিকতা: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং পড়াশোনার ঋণের কারণে তাদের অনেকে মনে করেন প্রথাগত উপায়ে ধনী হওয়া কঠিন। তাই তারা জীবনকে উপভোগ করার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিলাসী পণ্যের বদলে অভিজ্ঞতা: জেন-জির কাছে দামি ঘড়ি, গাড়ি বা বড় কোনো স্থায়ী সম্পত্তি কেনার চেয়ে ভ্রমণ, কনসার্ট কিংবা অভিজ্ঞতা অর্জনের পেছনে খরচ করাকে বেশি মূল্যবান মনে হয়। স্বচ্ছতা ও মুক্ত আলোচনা: তারা টাকা-পয়সা নিয়ে লুকোচুরি না করে খোলামেলা কথা বলতে পছন্দ করে এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা ফিনফ্লুয়েন্সারদের (Finfluencers) পরামর্শ দেখে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়। এই পরিবর্তনগুলো ব্যাংক, রিটেইল বাজার ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার পুরো কাঠামোকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। তাদের টাকা যায় কনসার্টের টিকিট, বিদেশ ট্রাভেল, নতুন আইফোন বা ট্রেন্ডি কফি শপে। অনেকেই মাসের শেষে টানাটানি করলেও, ইনস্টাগ্রামে লাইফস্টাইল বজায় রাখতে তারা পিছপা হয় না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতা অর্থনীতিতে নতুন ধারা তৈরি করেছে। ইক্সপেরিয়েন্স ইকোনোমি এখন বড় হচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলো এখন পণ্য নয়, অভিজ্ঞতা বিক্রি করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের উদাসীনতা বিপজ্জনক হতে পারে। জেন-জির উত্তর, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তাই বর্তমানটাই উপভোগ করতে চাই। /শিউলী/

কেন ৯টা-৫টার চাকরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে জেন-জি
কেন ৯টা-৫টার চাকরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে জেন-জি

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং লিংকডইনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই প্রজন্মের কাছে চাকরির ক্ষেত্রে বেতনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য এবং কাজের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট ওয়ার্ক এবং হাইব্রিড মডেল তাদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশেও-এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অনেক তরুণ এখন কনটেন্ট ক্রিয়েশন, গ্রাফিক ডিজাইন এবং আইটি ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে 'কোয়াইট কুইটিং' বা শুধুমাত্র নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের প্রবণতাও আলোচিত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মানে এই নয় যে তারা কাজ করতে চায় না। বরং তারা কাজের পরিবেশ নিয়ে বেশি সচেতন। তাদের ধরে রাখতে অনেক কোম্পানি এখন নমনীয় সময় এবং কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করছে। /শিউলী/