গেমিং পারফরম্যান্স নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, স্যামসাংকে ১৮৮ কোটি টাকা জরিমানা
গেম খেলার পারফরম্যান্স নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা স্যামসাংকে ২০ দশমিক ১ বিলিয়ন ওন জরিমানা করেছে দেশটির ফেয়ার ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা। গ্যালাক্সি এস২১ ও এস২২ স্মার্টফোন এবং গ্যালাক্সি ট্যাব এস৮ ট্যাবলেটের গেমিং সক্ষমতা নিয়ে প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোরিয়া জুংআং ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী গেম চালানোর সময় ডিভাইসগুলোর প্রসেসরের গতি কমিয়ে দেওয়া হলেও বিজ্ঞাপনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি বলে মনে করছে কমিশন। এতে ক্রেতারা পণ্যগুলোর গেমিং পারফরম্যান্স সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং যুক্তিসংগত ক্রয়-সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এফটিসি।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্যামসাংয়ের গেম অপটিমাইজিং সার্ভিস (জিওএস) নির্দিষ্ট কিছু গেম চালু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিপিইউ ও জিপিইউর কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতো। সাধারণত অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন ঠেকাতে প্রসেসরের গতি কমানো হলেও এসব ডিভাইসে তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছানোর আগেই ব্যবস্থা কার্যকর হতো। ফলে গেমিং পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ত।
স্যামসাংয়ের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ডিভাইসের পারফরম্যান্স বজায় রাখা এবং গেমগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে চালানোর জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। তবে প্রতিষ্ঠানটি উন্নত গেমিং অভিজ্ঞতার প্রচার করলেও জিওএসের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য না দেওয়াকে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখেছে কমিশন।
জরিমানার বিরোধিতা করেছে স্যামসাং। সিউল ইকোনমিক ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিজ্ঞাপনের কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন রায় কোনো আদালত দেননি। ভবিষ্যতের আইনি কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার কথাও জানিয়েছে তারা।
এর আগে প্রসেসরের গতি কমানোর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইসরায়েলে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিলো।
/শান্ত/
