মহাবিশ্বের শৈশবের ছায়াপথে তিন কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান
মহাবিশ্বের শুরুর দিকের একটি দূরবর্তী ছায়াপথে তিনটি সক্রিয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে দু'টি কৃষ্ণগহ্বরের দূরত্ব মাত্র ৬২০ আলোকবর্ষ। আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের প্রাচীন যুগে কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে দ্রুত বড় হয়ে উঠেছিলো, তা বুঝতে নতুন সূত্র দিচ্ছে বিজ্ঞানীদের।
মহাবিশ্বের বয়স যখন খুব কম ছিলো, তখনকার একটি ছায়াপথে তিনটি সক্রিয় কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জে০১৪৮-৪২১৪ নামের ছায়াপথটিতে থাকা কৃষ্ণগহ্বরগুলো আশপাশের গ্যাস ও পদার্থ আকর্ষণ করে নিজেদের ভর বাড়াচ্ছে।
গবেষকদের হিসাবে, ছায়াপথটি পৃথিবী থেকে ১২৫০ কোটি আলোকবর্ষেরও বেশি দূরে। ফলে বিজ্ঞানীরা ছায়াপথটিকে দেখছেন মহাবিশ্বের জন্মের প্রায় ১২০ কোটি বছর পরের অবস্থায়। মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর।
জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ফিজিক্সের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকদলটি জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই আবিষ্কার করেছে। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস-এ।
দু'টি কৃষ্ণগহ্বরের দূরত্ব মাত্র ৬২০ আলোকবর্ষ
গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, তিনটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে দু'টি ছায়াপথটির কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। তাদের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৬২০ আলোকবর্ষ। তৃতীয় কৃষ্ণগহ্বরটি ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরের প্রবল মহাকর্ষের প্রভাবে আশপাশের হাইড্রোজেন গ্যাসের গতিবিধি থেকে সেগুলোর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন। এই কাজে জেমস ওয়েব দূরবীক্ষণযন্ত্রের বিশেষ বর্ণালি বিশ্লেষণপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, তিনটি কৃষ্ণগহ্বরের ভর যথাক্রমে সূর্যের ভরের প্রায় ৮ কোটি, ৬ লাখ ও ২০ লাখ গুণ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবচেয়ে ছোট কৃষ্ণগহ্বরটি তুলনামূলক দ্রুত হারে পদার্থ আকর্ষণ করছে।
একসময় কি একীভূত হবে কৃষ্ণগহ্বর দুটি?
গবেষকদের ধারণা, ছায়াপথটির কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা দু'টি কৃষ্ণগহ্বর আগামী কয়েক শ মিলিয়ন বছরের মধ্যে একীভূত হতে পারে। কৃষ্ণগহ্বর দু'টি একীভূত হলে আরও বড় একটি কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হতে পারে।
তৃতীয় কৃষ্ণগহ্বরটির ভবিষ্যৎ অবশ্য এখনো অনিশ্চিত। এটি আগে অন্য কোনো কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে দূরে সরে গিয়ে থাকতে পারে। আবার এটি ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে এগোতেও পারে।
মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস বুঝতে নতুন সূত্র
বিজ্ঞানীদের কাছে বড় প্রশ্ন হলো, মহাবিশ্বের জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই কীভাবে এতো বিশাল কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয়েছিলো। সাধারণভাবে কৃষ্ণগহ্বর আশপাশের পদার্থ আকর্ষণ করে বড় হয়। পাশাপাশি ছায়াপথের সংঘর্ষ ও একীভূত হওয়ার সময় তাদের কেন্দ্রের কৃষ্ণগহ্বরগুলোও কাছাকাছি চলে আসতে পারে।
নতুন আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের শুরুর দিকে ছায়াপথগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া কৃষ্ণগহ্বরের দ্রুত বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আরও দূরবর্তী ছায়াপথে এই ধরনের একাধিক কৃষ্ণগহ্বর শনাক্ত করা গেলে মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস এবং বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের বিবর্তন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
//আইই//
