নীরব ক্লাসরুম থেকে অক্সফোর্ডের আঙিনায় ব্র্যাকের নাফিসা
ক্লাসরুমের যে মেয়েটি একদিন নীরবে নোট নিতো, আজ তাঁর সামনে খুলে গেছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট নাফিসা তাবাসসুম ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সবসময়ই প্রথম সারিতে। এর আগেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। এবার সেই একই গৌরব বয়ে আনলেন নাফিসা।
অক্সফোর্ডে মাস্টার্সে সম্পূর্ণ স্কলারশিপ পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। নাফিসা সুযোগ পেয়েছেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘অক্সফোর্ড-ওয়াইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রাম’-এর আওতায়। এই স্কলারশিপের সুবিধাগুলো হলো: ১০০% কোর্স ফি মওকুফ, থাকা-খাওয়ার জন্য বড় অঙ্কের লিভিং গ্র্যান্ট (যা ২০২৭ সালের জন্য প্রায় ২১,৮০৫ পাউন্ড), ভিসা এবং যাতায়াতের সম্পূর্ণ খরচও বহন করা হয়।
বাংলাদেশ এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। নাফিসা যে ফুল ফান্ডেড সুযোগটি পেয়েছেন, তা এই ধরনের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামের আওতায়।
নাফিসা অক্সফোর্ডের বিখ্যাত ‘রিফিউজি স্টাডিজ সেন্টার’-এ ৯ মাস মেয়াদী ‘রিফিউজি রাইটস অ্যান্ড ফোর্সড মাইগ্রেশন’ কোর্সে পড়াশোনা করবেন। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারটি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও শরণার্থী অধিকার নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। যুদ্ধ, নিপীড়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষা করাই এই কোর্সের মূল লক্ষ্য।
নাফিসার এই সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। মেধা, পরিশ্রম আর সঠিক লক্ষ্য থাকলে বিশ্বের যেকোনো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সম্ভব—নাফিসা সেটিই প্রমাণ করেছেন। অক্সফোর্ডের লাইব্রেরিতে বসে যখন তিনি বিশ্ব শরণার্থী সংকট নিয়ে পড়াশোনা করবেন, তখন তাঁর প্রতিটি পাতায় জড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের এক সাধারণ তরুণীর অদম্য স্বপ্নের গল্প।
/এমএএইচ/
