Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রস্তুতিতে বাড়তি ৩ বছর সময় পেলো বাংলাদেশ
অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রস্তুতিতে বাড়তি ৩ বছর সময় পেলো বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১ টায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের পক্ষে উরুগুয়ের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব কাজ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও ৩ বছর বাড়ানো হলো। একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতিবছর উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রস্তুতির সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। রপ্তানি খাতে স্বস্তির আশা এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আসছিলেন। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য সুখবর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়তি সময় অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের কাজে ব্যবহার করতে হবে। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, শুধু উত্তরণের সময়সীমা বাড়ালেই অর্থনীতি প্রতিযোগিতাসক্ষম হবে না। এই জন্য বাণিজ্য, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। কেন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলো বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে বাংলাদেশ। পরে ইউএন-সিডিপি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়। নতুন সময়সীমার কারণে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদারদের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময়ে এলডিসি-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে কৃষি, শিল্প, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির ফলে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে দেশটি। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পরপর দুটি পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউএন-সিডিপি বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ করে। একই বছরের ৮ জুন ইকোসক এবং ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সেই সুপারিশ অনুমোদন করে। কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশকে স্বাভাবিক ৩ বছরের পরিবর্তে ৫ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিলো। সে অনুযায়ী উত্তরণের তারিখ নির্ধারিত ছিলো ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর। উত্তরণের পর যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ কয়েকটি বড় রপ্তানি বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তন হলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের মাত্রা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য অংশীদারদের নীতি ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার ওপর। বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে বলেছিলো, বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাবের একটি প্রাক্কলন, নিশ্চিত ফলাফল নয়। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান বলেন, উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে মেধাস্বত্বসংক্রান্ত ক্ষেত্রে আরও ৩ বছর সময় পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ এখনো কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে পারেনি। তাই এই ধরনের চুক্তি সম্পাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বাড়তি সময় কাজে লাগানো উচিত। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অনেক সুবিধা হারাবে। তাই বাড়তি সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারলে একই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। পোশাক ও ওষুধশিল্পে বাড়তি ঝুঁকি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার পরিবর্তন হলে এই খাতের পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এতে ক্রয়াদেশ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের মান উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বিধিমালার আওতায় কিছু বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তন ওষুধশিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পেটেন্টযুক্ত ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গবেষণা ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। উন্নয়ন অর্থায়নও উদ্বেগের একটি বিষয়। উত্তরণের পর এলডিসি-নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা ও সহজ শর্তের ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে উত্তরণের অর্থ এই নয় যে সব অনুদান বা সহজ শর্তের ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সামাজিক উন্নয়নে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা জরুরি। ২০২৯ সালের আগে যেসব সংস্কার জরুরি অতিরিক্ত ৩ বছরকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে বিকল্প বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্দর ও কাস্টমস সেবার উন্নয়ন এবং রপ্তানি সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য ও ইলেকট্রনিকস খাতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলাও জরুরি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, উত্তরণের পর শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধার সম্ভাব্য পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা শুরু করা উচিত। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, পাটজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, করের আওতা বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই জন্য স্পষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সংস্কার পরিকল্পনা নিতে হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি ৬ মাস পরপর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও প্রকাশের পরামর্শও দেন তিনি। /শান্ত/

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আলোচনা: প্রথম পর্বের ইতিবাচক সমাপ্তি
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আলোচনা: প্রথম পর্বের ইতিবাচক সমাপ্তি

৩ দিনব্যাপী এই আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ের খসড়া ও কাঠামোগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে উভয় পক্ষ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া এই আলোচনা বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব এবং বাণিজ্য সহজীকরণসহ পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করেন। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আলোচনায় ১৩টি ওয়ার্কিং গ্রুপ এফটিএ’র সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের খসড়া পাঠ ও কাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিলো ট্রেড ইন সার্ভিস, ট্রেড ইন গুডস, রুলস অফ অরিজিন, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা, বাণিজ্যে কারিগরি বাধা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। এসব ক্ষেত্রে উভয় দেশের অবস্থান, সম্ভাবনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। মালয়েশিয়ার ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হলে দেশটি থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভারসাম্য বজায় রেখে একটি কার্যকর ও ‘উইন-উইন’ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পরবর্তী আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ে মতপার্থক্য নিরসন এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এফটিএটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আসিয়ানভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি কার্যকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা খাতের বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, শিল্পে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনার বাস্তব সুফল নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি, শুল্কছাড়ের পরিধি, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। এই কারণে চলমান আলোচনায় উভয় দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে একটি টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম দফার আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার আলোচনা চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির পথ উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। /এসআই/এমএএইচ/

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী সারদা পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০০৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিদায়ী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং তাদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সামরিক-বেসামরিক আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দুঃখজনক। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন আমাদের হাতে না আসা পর্যন্ত এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আমরা সব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে তারপর আইনগত ব্যবস্থা ও এই বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করব। তিনি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকে এই বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করার এবং তদন্তাধীন কোনো বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যেকোনো মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আমাদের সবাইকে আস্থা রাখতে হবে। একই সময়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃঢ় অবস্থান ও পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান এবং অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। জনগণকে স্বস্তি প্রদান করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ও দেশে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা আমাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এবং জনমনে নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনতে সরকার যে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে, তা তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন। এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকালের দিকে ঢাকার উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা ও লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেছে নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের অধীনে থাকা টঙ্গী ফাঁড়ি। নৌপুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে তারা খবর পান যে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাত লাশ ভাসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির গাজীপুর অঞ্চলের অফিসার ও ফোর্সের একটি বিশেষ দল অনতিবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। /এমএএইচ/

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে নিয়োগের আবেদন শুরু
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে নিয়োগের আবেদন শুরু

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর রাজস্ব খাতভুক্ত ১৩ থেকে ২০ গ্রেডে ৯৫ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। করা যাবে আগামী ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত নিয়মাবলি ও শর্তসাপেক্ষে দেশের স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের নাম জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর চাকরির ধরন সরকারি চাকরি প্রকাশের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পদ সংখ্যা ০৮টি লোকবল নিয়োগ ৯৫ জন আবেদন করার মাধ্যম অনলাইন আবেদন শুরুর তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০২৬ অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://nationalsavings.gov.bd আবেদন করার লিংক অফিশিয়াল নোটিশের নিচে প্রতিষ্ঠানের নাম: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পদসংখ্যা: ০৮টি লোকবল নিয়োগ: ৯৫ জন পদের নাম: হিসাবরক্ষক পদসংখ্যা: ০৯টি বেতন: (গ্রেড-১৩) ২৪,০০০-৫৮,০০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: বাণিজ্যে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক ডিগ্রি। পদের নাম: সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদসংখ্যা: ০৩টি বেতন: (গ্রেড-১৩) ২৪,০০০-৫৮,০০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পদের নাম: উচ্চমান সহকারী পদসংখ্যা: ০৩টি বেতন: (গ্রেড-১৪) ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদসংখ্যা: ০৪টি বেতন: (গ্রেড-১৪) ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পদের নাম: গাড়িচালক পদসংখ্যা: ০১টি বেতন: (গ্রেড-১৫) ২২,৮০০-৫৫,২০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ; বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ লাইসেন্সসহ (হালকা বা ভারী লাইসেন্স) হালকা বা ভারী যানবাহন চালনায় পারদর্শী। পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদসংখ্যা: ৪০টি বেতন: (গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদসংখ্যা: ০২টি বেতন: (গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। পদের নাম: অফিস সহায়ক পদসংখ্যা: ৩৩টি বেতন: (গ্রেড-২০) ২০,০০০-৪৮,৪০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। /এমএএইচ/

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে ৮ ধরনের পদে ৯৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। রাজস্ব খাতভুক্ত এসব পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে সরাসরি জনবল নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদন শুরু হবে ২৯ অক্টোবর, চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানের নাম: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পদসংখ্যা: ৮ পদে মোট ৯৫ জন চাকরির ধরন: অস্থায়ী ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ আবেদন শুরুর সময়: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা আবেদনের শেষ সময়: ২৬ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা কোন পদে কত নিয়োগ ১. হিসাবরক্ষক পদসংখ্যা: ৯টি বেতন স্কেল: ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা (গ্রেড-১৩) যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক ডিগ্রি। ২. সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদসংখ্যা: ৯টি বেতন স্কেল: ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা (গ্রেড-১৩) যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলায় প্রতি মিনিটে ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দ এবং সাঁটলিপিতে বাংলায় ৫০ ও ইংরেজিতে ৮০ শব্দের গতি থাকতে হবে। ৩. উচ্চমান সহকারী পদসংখ্যা: ৯টি বেতন স্কেল: ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা (গ্রেড-১৪) যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। ৪. সাঁট মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদসংখ্যা: ৯টি বেতন স্কেল: ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা (গ্রেড-১৪) যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলায় প্রতি মিনিটে ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দ এবং সাঁটলিপিতে বাংলায় ৪৫ ও ইংরেজিতে ৭০ শব্দের গতি থাকতে হবে। ৫. গাড়িচালক পদসংখ্যা: ৮টি বেতন স্কেল: ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা (গ্রেড-১৫) যোগ্যতা: স্বীকৃত বোর্ড থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি বিআরটিএর ইস্যু করা বৈধ হালকা বা ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স এবং চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে। ৬. অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদসংখ্যা: ৮টি বেতন স্কেল: ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা (গ্রেড-১৬) যোগ্যতা: স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলায় ও ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০ শব্দ লেখার গতি থাকতে হবে। ৭. ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদসংখ্যা: ৫টি বেতন স্কেল: ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা (গ্রেড-১৬) যোগ্যতা: স্বীকৃত বোর্ড থেকে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলায় ও ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০ শব্দ লেখার গতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ৮. অফিস সহায়ক পদসংখ্যা: ৩৩টি বেতন স্কেল: ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা (গ্রেড-২০) যোগ্যতা: স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্তত এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়সসীমা ও আবেদন ফি ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদন ফি: ১ থেকে ৭ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা। ৮ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত অনগ্রসর নাগরিকদের জন্য আবেদন ফি ৫৬ টাকা। আবেদন করবেন যেভাবে আগ্রহী প্রার্থীদের জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আবেদন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনের সময় রঙিন ছবি ৩০০×৩০০ পিক্সেল এবং স্বাক্ষর ৩০০×৮০ পিক্সেল মাপে আপলোড করতে হবে। ছবির সর্বোচ্চ আকার ১০০ কিলোবাইট এবং স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ আকার ৬০ কিলোবাইট। আবেদনের শেষ তারিখ: ২৬ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা। বিস্তারিত তথ্য ও বিজ্ঞপ্তি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। /এমএএইচ/

নীরব ক্লাসরুম থেকে অক্সফোর্ডের আঙিনায় ব্র্যাকের নাফিসা
নীরব ক্লাসরুম থেকে অক্সফোর্ডের আঙিনায় ব্র্যাকের নাফিসা

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সবসময়ই প্রথম সারিতে। এর আগেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। এবার সেই একই গৌরব বয়ে আনলেন নাফিসা। অক্সফোর্ডে মাস্টার্সে সম্পূর্ণ স্কলারশিপ পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। নাফিসা সুযোগ পেয়েছেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘অক্সফোর্ড-ওয়াইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রাম’-এর আওতায়। এই স্কলারশিপের সুবিধাগুলো হলো: ১০০% কোর্স ফি মওকুফ, থাকা-খাওয়ার জন্য বড় অঙ্কের লিভিং গ্র্যান্ট (যা ২০২৭ সালের জন্য প্রায় ২১,৮০৫ পাউন্ড), ভিসা এবং যাতায়াতের সম্পূর্ণ খরচও বহন করা হয়। বাংলাদেশ এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। নাফিসা যে ফুল ফান্ডেড সুযোগটি পেয়েছেন, তা এই ধরনের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামের আওতায়। নাফিসা অক্সফোর্ডের বিখ্যাত ‘রিফিউজি স্টাডিজ সেন্টার’-এ ৯ মাস মেয়াদী ‘রিফিউজি রাইটস অ্যান্ড ফোর্সড মাইগ্রেশন’ কোর্সে পড়াশোনা করবেন। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারটি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও শরণার্থী অধিকার নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। যুদ্ধ, নিপীড়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষা করাই এই কোর্সের মূল লক্ষ্য। নাফিসার এই সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। মেধা, পরিশ্রম আর সঠিক লক্ষ্য থাকলে বিশ্বের যেকোনো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সম্ভব—নাফিসা সেটিই প্রমাণ করেছেন। অক্সফোর্ডের লাইব্রেরিতে বসে যখন তিনি বিশ্ব শরণার্থী সংকট নিয়ে পড়াশোনা করবেন, তখন তাঁর প্রতিটি পাতায় জড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের এক সাধারণ তরুণীর অদম্য স্বপ্নের গল্প। /এমএএইচ/

মা-হারা হলেন চিত্রনায়িকা পপি
মা-হারা হলেন চিত্রনায়িকা পপি

চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন মরিয়ম বেগম। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসায় স্ট্রোক করলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিলো। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মডেলিং থেকে চলচ্চিত্রে আসেন পপি। লাক্স আনন্দ বিচিত্রার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ ছায়াছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন পপি। তবে তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কুলি’। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন ওমর সানি। ছবিটি সেই সময়ে ৭ কোটি টাকা ব্যবস্যা করে মাইলফলক করে। বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। ৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি বেশ কয়েক বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে জীবনযাপন করছেন। /এমএএইচ/

‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে:  জুবাইদা রহমান
‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: জুবাইদা রহমান

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনের অবদানের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। চিকিৎসক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্য খাতে আরও সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাসও দেন তিনি। /শান্ত/