টিআইএন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে
ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা ফেসবুক মনিটাইজেশনের জন্য অনেকেই ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) নিয়েছেন। কিন্তু পরে আয় বন্ধ হয়ে গেলেও তাদের অনেকে টিআইএন বাতিলের নিয়ম জানেন না। ফলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নিয়ে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।
তবে আয় না থাকলেই টিআইএন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে করদাতার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারায় এই বিষয়ে বিধান রয়েছে।
কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিল করা যায়?
ভুল করে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে, নিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন না থাকলে, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হলে, করদাতার মৃত্যু হলে কিংবা স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে গিয়ে বাংলাদেশে আয়-উপার্জনের কার্যক্রম না থাকলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। এছাড়া আইনে নির্ধারিত অন্যান্য বৈধ কারণেও আবেদন করা যায়।
টানা তিন বছর করযোগ্য আয় শূন্য থাকা এবং ভবিষ্যতেও করযোগ্য আয় না হওয়ার পরিস্থিতি টিআইএন বাতিলের একটি ভিত্তি। তবে সবার ক্ষেত্রে পরপর তিন বছর শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়াই বাধ্যতামূলক, এমন নয়। আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও আইনি শর্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন?
টিআইএন সনদে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের উপকর কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করতে পারেন। অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনে সরাসরি কর অফিসে যোগাযোগ করা যায়।
আবেদনের সঙ্গে সাধারণত ই-টিআইএন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বাতিলের কারণের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আগের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও চাওয়া হতে পারে।
আবেদন জমা দিলেই টিআইএন বাতিল হয়ে যায় না। কর কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দিলে নিবন্ধন বাতিল হবে। তাই বাতিলের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর অফিসের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
/শান্ত/
