জাতিসংঘে ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিশ্বশান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈষম্যহীন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।
ভাষণে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকার ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা 3-R কৌশল অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের স্টার্টআপ উদ্যোগে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরানোই-এর সমাধান। এই বিষয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং পরিচ্ছন্ন ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এআই প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তির সুযোগ যেন বৈষম্যের কারণ না হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
/শান্ত/
