আবারও ঢাকায় কোম্পানিভিত্তিক বাস, পরিচালনার দায়িত্বে যারা
ওএসবি গ্রাফিক্স
রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এসব রুটে ছয়টি কোম্পানিকে বাস পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি রুটে চলবে নন-এসি বাস এবং দুটি রুটে থাকবে এসি ও নন-এসি বাস।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, রবিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
ছয়টি রুটে চলবে বাস
প্রাথমিক পরিকল্পনায় ছয়টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর এবং টঙ্গী থেকে আজিমপুর। রুটগুলোর দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ১৮ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। প্রতিটি রুটে ২০ থেকে ২৫৩টি পর্যন্ত বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিববাড়ী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস চালাবে ভিআইপি পরিবহন। বর্তমানে এই পথে ভিআইপি ও বিকাশ পরিবহনের বাস চলাচল করছে।
মিরপুরের চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার রুটে ১৩৩টি বাস পরিচালনা করবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস। বর্তমানে এই রুটে দিশারী, তানজিল ও মেট্রোলিংক পরিবহনের বাস চলাচল করছে।
ঘাটারচর থেকে ডেমরা পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার রুটে ৭০টি বাস চালাবে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার রুটে ১৫০টি বাস পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ফোর স্টার বাস লাইন।
অন্যদিকে, ঘাটারচর থেকে ধউর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রুটে ১৯০টি বাস চালাবে পিএনপি সিটি সার্ভিস। আর টঙ্গী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস পরিচালনা করবে ঢাকা চাকা।
নির্ধারিত হচ্ছে বাস রাখার স্থান
নতুন পরিকল্পনায় বাস রাখার স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। গাজীপুরের শিববাড়ী, মিরপুরের চিড়িয়াখানা বা দুয়ারীপাড়া, কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর, ডেমরা, কাঁচপুর ও কামারপাড়ায় বাস রাখার ব্যবস্থা থাকবে। শিববাড়ী-আজিমপুর রুটের ক্ষেত্রে পলাশী মোড় থেকে আজিমপুর অংশে অস্থায়ীভাবে ১০টি বাস রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই রুটে একাধিক কোম্পানির প্রতিযোগিতা কমানোর লক্ষ্য
বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় নির্দিষ্ট রুটে নির্ধারিত কোম্পানির বাস চলাচল করবে। এর মাধ্যমে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা কমিয়ে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন ব্যবস্থায় বাসের নির্ধারিত রুট অনুসরণ, পরিচালনব্যবস্থায় সমন্বয় এবং যাত্রীসেবার মান কতটা নিশ্চিত করা যায়, তা কার্যক্রম শুরুর পরই স্পষ্ট হবে।
/শান্ত/
