মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫’ পর্যালোচনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাসুদ খান। সভায় কমিশনার ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি, সম্পদ ব্যবস্থাপক ও কাস্টোডিয়ান প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অংশীজনদের মতামত নিয়ে বিধিমালা পর্যালোচনা
সভায় বিদ্যমান বিধিমালার বিভিন্ন দিক এবং সম্ভাব্য সংশোধনের ক্ষেত্র তুলে ধরেন বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. মাহমুদুল হক। পরে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশীজনেরা বিধিমালার বিভিন্ন ধারা নিয়ে নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
আলোচনায় মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উপযোগী বিধিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, অংশীজনদের মতামত কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে বিধিমালা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এই ক্ষেত্রে কোনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। পাশাপাশি কমিশনের উদ্দেশ্য ও সদিচ্ছার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান অংশীজনদের।
পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ
মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে গতিশীল, টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। শুধু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে বাজারের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিএসইসি, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
/শান্ত/
