Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মা-হারা হলেন চিত্রনায়িকা পপি
মা-হারা হলেন চিত্রনায়িকা পপি

চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন মরিয়ম বেগম। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসায় স্ট্রোক করলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিলো। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মডেলিং থেকে চলচ্চিত্রে আসেন পপি। লাক্স আনন্দ বিচিত্রার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ ছায়াছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন পপি। তবে তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কুলি’। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন ওমর সানি। ছবিটি সেই সময়ে ৭ কোটি টাকা ব্যবস্যা করে মাইলফলক করে। বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। ৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি বেশ কয়েক বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে জীবনযাপন করছেন। /এমএএইচ/

নেটফ্লিক্সে দর্শকের আগ্রহ কমছে, যা জানা গেলো
নেটফ্লিক্সে দর্শকের আগ্রহ কমছে, যা জানা গেলো

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স অ্যাপটি আগের তুলনায় মাসে কম দিন খুলছেন গ্রাহকেরা। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে সময় কাটানোর পরিমাণও কমেছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত নিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন মাসে কম দিন নেটফ্লিক্স ব্যবহার করছেন গ্রাহকেরা। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি ‘কোয়ালিফায়েড প্লে ডেজ’ বা কিউপিডি নামের একটি সূচক ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা কতো দিন অ্যাপটি ব্যবহার করছেন, তা পরিমাপ করা হয়। শুধু অ্যাপ খোলার দিন নয়, একজন গ্রাহক গড়ে কতো সময় কনটেন্ট দেখছেন, সেটিও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে নেটফ্লিক্সে মোট সময় কাটানোর পরিমাণ কয়েক শতাংশ বেড়েছে। তবে এর কারণ নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়া। ব্যক্তিগতভাবে একজন গ্রাহকের দেখার সময় কমেছে। নেটফ্লিক্সের নেতৃত্বের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২২ সালে পাসওয়ার্ড ভাগাভাগি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে ব্যবহার কমতে শুরু করে। প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, একই অ্যাকাউন্টে একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তা সাময়িক হবে। কিন্তু প্রবণতা অব্যাহত থাকায় এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, গ্রাহকেরা নেটফ্লিক্সে আগের মতো মূল্য পাচ্ছেন না, কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় কাটাচ্ছেন। গ্রাহকদের ধরে রাখতে ও নতুন দর্শক আকৃষ্ট করতে নেটফ্লিক্স কনটেন্ট তৈরিতে বাজেট বাড়িয়েছে। পাশাপাশি পডকাস্ট ও সরাসরি ক্রীড়া সম্প্রচারের মতো নতুন ক্ষেত্রেও প্রবেশ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের সূচক নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি নেটফ্লিক্স। চলতি সপ্তাহে বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক আলোচনায় প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টেড সারানডোস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকসংখ্যা যে গতিতে বাড়ার কথা, সে গতিতে বাড়ছে না। সারানডোস ও সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রেগ পিটার্স দু’জনই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ভালো করছে এবং ব্যবসায়িক মডেলও যথেষ্ট শক্তিশালী। ব্যবহার কমলেও এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের ব্যাপকভাবে সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার প্রবণতা দেখা যায়নি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যান্টেনার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নেটফ্লিক্সের গ্রাহক বাতিলের হার ২ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা স্ট্রিমিং শিল্পে সর্বনিম্ন। এছাড়া আগের বছরগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে নেটফ্লিক্স তেমন সংখ্যক জনপ্রিয় সিনেমা ও সিরিজ তৈরি করতে পারেনি। পুরোনো সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মৌসুমেও দর্শক ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহার কমার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নতুন অ্যাপের নকশা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, কনটেন্টের মান কমে যাওয়া এবং প্ল্যাটফর্মের বাইরে প্রচারের ঘাটতির মতো বিষয় চিহ্নিত করেছেন নেটফ্লিক্সের কর্মকর্তারা। মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়ার তথ্যেও নেটফ্লিক্স ব্যবহারের সময় কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব গ্রাহক নেটফ্লিক্স অ্যাপ একবারও খোলেননি, তাঁদের অনুপাত বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসার গতি কমে যাওয়ার মধ্যে নেটফ্লিক্সের নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্ট বিভাগের প্রধান বেলা বাজরিয়া ও চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীসংখ্যার ৬ শতাংশ কমানো হয়েছে। এখন নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট কৌশলের নেতৃত্ব দেবেন পিটার রাইস। তিনি ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি ও ২১st সেঞ্চুরি ফক্সে কাজ করেছেন। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দর্শক ধরে রাখা ও নতুন কনটেন্টের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করবে নেটফ্লিক্স। /এমএএইচ/

৯৯৯ টাকা দেনমোহরে সুজাত শিমুলের বিয়ে
৯৯৯ টাকা দেনমোহরে সুজাত শিমুলের বিয়ে

সুজাত শিমুল জানান, দুই পরিবারের স্বজনদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ডিসেম্বর মাসে সহকর্মী ও সতীর্থদের নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেতা লেখেন, একান্তই পরিবারের স্বজনদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন স্বল্প পরিসরে সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে আপনাদের (সহকর্মী-সতীর্থ) সবাইকে নিয়ে মূল আয়োজন সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়। মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের ভাবনাও জানিয়েছেন সুজাত। তার ভাষায়, আমরা বিয়েকে জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি অংশ মনে করি। বিয়ের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়, একধরনের পরিপূর্ণতা আসে। অন্যদিকে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিপদ-আপদে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি; সেখান থেকেই ট্রিপল নাইন ধারণাটা আসে। দেনমোহরের অঙ্কটি বেছে নেওয়ার পেছনে আরও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় যে বার্তা দিতে চেয়েছি, আমরা বিয়েতে কাবিন করতে গিয়ে এতো লাখ টাকা, এতো লাখ টাকা—এর মধ্যে যেন মনে হয়, একটা বিনিময় কিংবা আস্থা-অনাস্থার বিষয় সামাজিকভাবে হয়ে আসছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, নারী হিসেবে একটা সাহস—৯৯৯ টাকা কাবিনে বিয়ে করছে। অনেক কিছু মিলেই এই ৯৯৯ টাকার ভাবনাটা এসেছে। সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছার বিয়েতে দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদসহ আরও অনেকে। /এমএএইচ/

চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী’র জীবনাবসান
চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী’র জীবনাবসান

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রক্তের ক্যান্সারে ভুগছিলেন গুণী এই শিল্পী। ১৪ মাসে তাঁকে একাধিকবার কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। সম্প্রতি মূত্রনালির সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ছবিতে অভিনব রেখার ব্যবহার এবং মানুষের শরীরের বিভিন্ন ভঙ্গি, আবেগ ও অনুভূতি ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ দক্ষতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। নিজস্ব শৈলীর কারণে ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলায় তিনি স্বতন্ত্র পরিচিতি অর্জন করেন। চিত্রকলার বাইরেও প্রশাসন ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাঁর। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সংগ্রহশালায় অবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন যোগেন চৌধুরী। শিল্পভাবনা, সমাজ, পরিবেশ, শিল্পকলা শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। তাঁর লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয়ের ওপর তাঁর একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়। এছাড়া সাহিত্যচর্চার অংশ হিসেবে কবিতাও লিখেছেন এই শিল্পী। ১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দহরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যোগেন চৌধুরী। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার। তাঁর মাও আলপনা আঁকায় পারদর্শী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিলো তাঁর। ১৯৪৮ সালে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি। ১৯৫৫ সালে কলকাতার সরকারি চারুকলা ও কারুশিল্প মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন যোগেন চৌধুরী। ১৯৬০ সালে পড়াশোনা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কলকাতার তাঁত বোর্ডে নকশাকার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে শিল্পশিক্ষার জন্য প্যারিসে যান। সেখানে চারুকলা বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাপচিত্রের চর্চা করেন। ইউরোপীয় শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পকর্মে নতুন মাত্রা যোগ করে। দেশে ফেরার পর সমাজসচেতন শিল্পী হিসেবে পরিচিতি বাড়তে থাকে তার। সমাজ ও রাজনীতির অসংগতি, ক্ষমতার কদর্যতা এবং মানুষের জীবনের টানাপোড়েন তার শিল্পকর্মে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তার ছবিতে মানুষের অবয়ব হয়ে উঠেছে সমাজের অন্তর্লীন যন্ত্রণা ও বৈপরীত্যের প্রতীক। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পদ্মভূষণসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। ললিতকলা একাডেমির স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ফ্রান্সেও তার শিল্পকর্ম সম্মানিত হয়েছে। জীবনের শেষ পর্যায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে ভারতের রাজ্যসভার সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন যোগেন চৌধুরী। /এমএএইচ/

সংগীতশিল্পী কৃষ্ণরাজ আর নেই
সংগীতশিল্পী কৃষ্ণরাজ আর নেই

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের ভালাসারাভাক্কম এলাকায় থাকতেন এই সংগীতশিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তামিল বিনোদন জগতে ৩টি মৃত্যুর ঘটনায় শোক আরও গভীর হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর প্রয়াত হন সংগীত পরিচালক দেবা। তার দু’দিন পর ২০ অক্টোবর মৃত্যু হয় দেবার ভাইপো তথা অভিনেতা কার্তিক সাবেশের। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের গোড়ার দিক পর্যন্ত তামিল ছবির গানে দেবা ও কৃষ্ণরাজের জুটি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলো। চারশোরও বেশি ছবিতে সংগীত পরিচালনা করা দেবা তাঁর বহু গানে কৃষ্ণরাজের কণ্ঠ ব্যবহার করেছেন। প্রাণবন্ত গায়কি, লোকসংগীতের স্বাদ এবং আবেগপূর্ণ পরিবেশনায় শ্রোতাদের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন কৃষ্ণরাজ। দেবার সুরে তাঁর গাওয়া গান তামিল সংগীতজগতের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রয়েছে। কৃষ্ণরাজের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লেখেন, কৃষ্ণরাজের মৃত্যু তামিল চলচ্চিত্র জগতের কাছে এক বিরাট ক্ষতি। স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর এবং প্রাণশক্তিতে ভরা গানের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। প্রয়াত শিল্পীর পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। গায়িকা চিন্ময়ী শ্রীপদার প্রতিক্রিয়ায় ধরা পড়েছে গত কয়েক দিনের শোকের আবহ। তিনি লেখেন, হে ঈশ্বর! সপ্তাহটা সত্যিই খুব কঠিন। গায়িকা সুজাতা মোহনের বার্তায় উঠে এসেছে কৃষ্ণরাজের সঙ্গে তাঁর সংগীতের সম্পর্ক। তিনি লেখেন, কৃষ্ণরাজ আর নেই, এই খবর শুনে ভেঙে পড়েছি। দেবা স্যারের চলে যাওয়ার পর এই ধাক্কা আরও কঠিন। কৃষ্ণরাজ ছিলেন দেবা স্যরের প্রিয় গায়ক, আমারও খুব পছন্দের শিল্পী। দেবা স্যারের সুরে আমার গাওয়া বহু গানের কাজেও তিনি তদারকি করেছেন। এতো তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন। শান্তিতে থেকো, প্রিয়। সংগীতমহলে কৃষ্ণরাজের প্রয়াণ তাই শুধু এক শিল্পীর বিদায় নয়, এক পরিচিত সুরেলা অধ্যায়ের অবসানও। কৃষ্ণরাজের উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘পোর্ক্কালাম’ সিনেমার ‘থাঞ্জাভুরু মান্নু এডুথু’ গান। দেবার সুর করা গানটি তামিল সিনেমার গণ্ডি অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো। এছাড়া সুরকার সির্পির সঙ্গেও ‘ভিন্নুক্কুম মান্নুক্কুম’ (২০০১) এবং ‘বান্দা পরমাসিবম’ (২০০৩)-এর মতো কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেছেন কৃষ্ণরাজ। /এমএএইচ/

আয়োজকদের বিরুদ্ধে ‘অপহরণের’ অভিযোগ মডেলের
আয়োজকদের বিরুদ্ধে ‘অপহরণের’ অভিযোগ মডেলের

শুধু তা-ই নয়, তার দাবি, অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিকও মেটানো হয়নি। প্রচারের কাজে তাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আয়োজকদের আচরণকে একপ্রকার ‘অপহরণ’ বলেও বর্ণনা করেছেন এই মডেল। পুনের পেডকর গ্রাউন্ডসে নবরাত্রির ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। আকাঙ্ক্ষার অভিযোগ, আয়োজক দলের মাত্র ৩ জন সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিলো। তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছরের কাছাকাছি। আকাঙ্ক্ষার দাবি, রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাঁকে আনতে আসেননি আয়োজকেরা। অথচ ততক্ষণে তাঁর অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা ছিলো। তার অভিযোগ, শিল্পীর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থাপনাই রাখেননি আয়োজকেরা। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ আকাঙ্ক্ষার। তার দাবি, জোর করে তাকে গাড়িতে বসিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে নিজের দলের সদস্যরা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন তিনি। এই অবস্থায় অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে পারবেন না বলে জানালেও আয়োজকেরা তাঁর কথায় গুরুত্ব দেননি। উল্টো তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকেন বলে অভিযোগ এই মডেলের। ঘটনাটিকে একপ্রকার ‘অপহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন আকাঙ্ক্ষা। /এমএএইচ/

জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু’র চলে যাওয়ার দিন আজ
জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু’র চলে যাওয়ার দিন আজ

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়ার এক বনেদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। পারিবারিক ডাক নাম ছিলো রবিন। তাঁর বাবা ইশহাক চৌধুরী এবং মা নুরজাহান বেগম। বাবার উপহারের দেওয়া প্রথম গিটার হাতে নিয়ে এক দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন তিনি। ১৯৭৭ সালে তাঁর সংগীতজীবন শুরু হয়। পরের বছর ব্যান্ড ফিলিংসে যোগ দেন। তাঁর প্রথম গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’। তারপর যোগ দেন সোলসে। ১৯৮০ থেকে পরবর্তী এক দশক ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সোলস ছাড়ার পর ১৯৯১ সালে নিজেই গঠন করেন ব্যান্ড এলআরবি। প্রথমে এর পূর্ণ অর্থ ছিলো লিটল রিভার ব্যান্ড। একই নামে অস্ট্রেলিয়ায় অন্য একটি ব্যান্ড থাকায় নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় লাভ রানস ব্লাইন্ড। আইয়ুব বাচ্চু দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে ‘লাল বাদশা’ ও ‘আম্মাজান’, ২০০০ সালে ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’, ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ ও ‘রং নাম্বার’, ২০০৯ সালে ‘চাঁদের মতো বউ’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’, ২০১৩ সালে ‘টেলিভিশন’ এবং ২০১৪ সালে ‘এক কাপ চা’ ইত্যাদি। তাঁর গাওয়া ‘আম্মাজান’ গানটি বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসের সেরা একটি গান। সুরের জাদুকর খ্যাত এই তারকার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ নামে’ প্রকাশ হয় ১৯৮৬ সালে। আর এলআরবির প্রথম অ্যালবাম হচ্ছে ‘এলআরবি’ (১৯৯২)। তারপর ‘ব্যান্ডের সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারী মন’, ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০০), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নেই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২) প্রকাশ হয়। এই ব্যান্ড তারকার একক অ্যালবামের মধ্যে আরও রয়েছে ‘ময়না’ (১৯৮৮), ‘কষ্ট’ (১৯৯৫), ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি!’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘প্রেম প্রেমের মতো’ (২০০৩), ‘পথের গান’ (২০০৪), ‘ভাটির টানে মাটির গানে’ (২০০৬), ‘জীবন’ (২০০৬), ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)। এছাড়াও বিভিন্ন সময় অনেক মিশ্র অ্যালবামেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে ব্যান্ড এলআরবি ও ও ফিলিংস যৌথভাবে ‘ক্যাপসুল’ ও ‘স্ক্রু ড্রাইভার’ নামে শ্রোতাপ্রিয় দুটি অ্যালবাম উপহার দেন সংগীতপ্রেমীদের। /এমএএইচ/

বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে রজনীকান্তের ‘জেলার ২’
বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে রজনীকান্তের ‘জেলার ২’

ট্রেড ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের তথ্য অনুসারে, মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে ১৬ হাজার ৫৯৯টি শো থেকে ‘জেলার ২’ নেট আয় করেছে ৫৯ দশমিক ৭০ কোটি রুপি, যেখানে গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ কোটি রুপিতে। এর বিপরীতে রজনীকান্তের গত মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘কুলি’ ভারতের বক্স অফিসে প্রথম দিনে নেট ৬৫ কোটি রুপি আয় করে একটি বড় রেকর্ড গড়েছিলো, যা এখনও থালাইভার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ওপেনিং কালেকশন হিসেবে টিকে রয়েছে। আর সেই কারণেই ‘জেলার ২’ প্রথম দিনের আয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বিশ্বব্যাপী এর মোট গ্রস কালেকশন পৌঁছে গেছে ১২৫ দশমিক ২৫ কোটি রুপি, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার বা ওভারসিজ থেকে এসেছে ৫৫ কোটি রুপি। এই সিনেমার আয়ের সিংহভাগ এসেছে ছবিটির তামিল সংস্করণ থেকে, যা ৯ হাজার ৩২৬টি শো থেকে ৪৩ দশমিক ৩৫ কোটি রুপি ঘরে তুলেছে। এর পরেই রয়েছে তেলুগু সংস্করণ, যা ২ হাজার ৭৯২টি শো থেকে ১২ দশমিক ৫০ কোটি রুপি আয় করেছে। তবে উত্তর ভারতের বাজারে পিভিআর-আইনক্সের সঙ্গে ওটিটি উইন্ডো সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হিন্দি সংস্করণের মুক্তি কিছুটা হোঁচট খেয়েছে, তবুও ৪ হাজার ৩৭১টি শো থেকে এটি ৩ দশমিক ৫০ কোটি রুপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি কন্নড় সংস্করণ থেকে যোগ হয়েছে শূন্য দশমিক ৩৫ কোটি রুপি। সিনেমাটি নিয়ে সমালোচক ও সামাজিক মাধ্যমের চর্চাও বেশ ইতিবাচক, যেখানে দর্শকের বিনোদনের খোরাক জোগাতে সফল হয়েছে এই গ্যাংস্টার ড্রামা। /এমএএইচ/