নেটফ্লিক্সে দর্শকের আগ্রহ কমছে, যা জানা গেলো
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স অ্যাপটি আগের তুলনায় মাসে কম দিন খুলছেন গ্রাহকেরা। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে সময় কাটানোর পরিমাণও কমেছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত নিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন মাসে কম দিন নেটফ্লিক্স ব্যবহার করছেন গ্রাহকেরা। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি ‘কোয়ালিফায়েড প্লে ডেজ’ বা কিউপিডি নামের একটি সূচক ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা কতো দিন অ্যাপটি ব্যবহার করছেন, তা পরিমাপ করা হয়।
শুধু অ্যাপ খোলার দিন নয়, একজন গ্রাহক গড়ে কতো সময় কনটেন্ট দেখছেন, সেটিও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে নেটফ্লিক্সে মোট সময় কাটানোর পরিমাণ কয়েক শতাংশ বেড়েছে। তবে এর কারণ নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়া। ব্যক্তিগতভাবে একজন গ্রাহকের দেখার সময় কমেছে।
পাসওয়ার্ড ভাগাভাগি বন্ধ
নেটফ্লিক্সের নেতৃত্বের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২২ সালে পাসওয়ার্ড ভাগাভাগি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে ব্যবহার কমতে শুরু করে। প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, একই অ্যাকাউন্টে একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তা সাময়িক হবে। কিন্তু প্রবণতা অব্যাহত থাকায় এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, গ্রাহকেরা নেটফ্লিক্সে আগের মতো মূল্য পাচ্ছেন না, কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় কাটাচ্ছেন।
গ্রাহকদের ধরে রাখতে ও নতুন দর্শক আকৃষ্ট করতে নেটফ্লিক্স কনটেন্ট তৈরিতে বাজেট বাড়িয়েছে। পাশাপাশি পডকাস্ট ও সরাসরি ক্রীড়া সম্প্রচারের মতো নতুন ক্ষেত্রেও প্রবেশ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের সূচক নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি নেটফ্লিক্স।
চলতি সপ্তাহে বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক আলোচনায় প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টেড সারানডোস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকসংখ্যা যে গতিতে বাড়ার কথা, সে গতিতে বাড়ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে দর্শক বৃদ্ধির গতি কম
সারানডোস ও সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রেগ পিটার্স দু’জনই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ভালো করছে এবং ব্যবসায়িক মডেলও যথেষ্ট শক্তিশালী। ব্যবহার কমলেও এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের ব্যাপকভাবে সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার প্রবণতা দেখা যায়নি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যান্টেনার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নেটফ্লিক্সের গ্রাহক বাতিলের হার ২ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা স্ট্রিমিং শিল্পে সর্বনিম্ন।
এছাড়া আগের বছরগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে নেটফ্লিক্স তেমন সংখ্যক জনপ্রিয় সিনেমা ও সিরিজ তৈরি করতে পারেনি। পুরোনো সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মৌসুমেও দর্শক ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যবহার কমার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নতুন অ্যাপের নকশা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, কনটেন্টের মান কমে যাওয়া এবং প্ল্যাটফর্মের বাইরে প্রচারের ঘাটতির মতো বিষয় চিহ্নিত করেছেন নেটফ্লিক্সের কর্মকর্তারা।
অ্যাপ ব্যবহারের তথ্যেও একই প্রবণতা
মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়ার তথ্যেও নেটফ্লিক্স ব্যবহারের সময় কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব গ্রাহক নেটফ্লিক্স অ্যাপ একবারও খোলেননি, তাঁদের অনুপাত বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
কনটেন্ট বিভাগে নেতৃত্ব বদল
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসার গতি কমে যাওয়ার মধ্যে নেটফ্লিক্সের নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্ট বিভাগের প্রধান বেলা বাজরিয়া ও চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীসংখ্যার ৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।
এখন নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট কৌশলের নেতৃত্ব দেবেন পিটার রাইস। তিনি ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি ও ২১st সেঞ্চুরি ফক্সে কাজ করেছেন। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দর্শক ধরে রাখা ও নতুন কনটেন্টের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করবে নেটফ্লিক্স।
/এমএএইচ/
