২০ মিনিটের সাইবার হামলা, যেভাবে চুরি হলো ৬৩০ কোটি ডলার
সংগৃহীত ছবি
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা ঘটেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নিয়েছে। এর বড় অংশ চুরি করতে সময় লেগেছে মাত্র ২০ মিনিট। এই ঘটনায় উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত টিআরএম ল্যাবসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫ মিনিট ইউটিসি'র দিকে বাইন্যান্সের বিভিন্ন ওয়ালেট থেকে অর্থ সরানো শুরু হয়। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ১০টি ব্লকচেইনে প্রায় ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বর্তমান বাজারদরে এসব সম্পদের মূল্য কিছুটা কমে প্রায় ৬২৩ কোটি ডলার।
কীভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে এক কর্মীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ডেভঅপস বিভাগের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপের মাধ্যমে হ্যাকাররা অভ্যন্তরীণ সার্ভিস ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। তবে পরবর্তী তদন্তে আরও কয়েকটি নিরাপত্তা দুর্বলতার সন্ধান পেয়েছে বাইন্যান্স। ফলে হামলার প্রকৃত পদ্ধতি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
টিআরএম ল্যাবসের বিশ্লেষণ বলছে, হ্যাকাররা বাইন্যান্সের লেনদেন অনুমোদনকারী অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলো। ফলে ওয়ালেট থেকে অর্থ স্থানান্তরের অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থায় কারসাজি করে তারা বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ইথেরিয়াম নেটওয়ার্কে ইআইপি-৭৭০২ প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং আগে থেকে প্রস্তুত করা অনুমোদন ব্যবহার করা হয়েছিলো বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআরএম ল্যাবস হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটরকে দায়ী করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আগের সাইবার হামলাগুলোর সঙ্গে এই ঘটনার কৌশলগত মিল রয়েছে। তবে বাইন্যান্স এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
এদিকে চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ আটকে দিতে পেরেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলো। টেথার, সার্কেল, রিপলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রায় ২৭০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো যেসব ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলো জব্দ করা তুলনামূলক কঠিন।
ঘটনার পর নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য কয়েকটি নেটওয়ার্কে আমানত ও অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহকদের অর্থের কোনো ক্ষতি বহন করতে হবে না। চুরি হওয়া অর্থের ক্ষতি তাদের ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা তহবিল (এসএএফইউ) এবং নিজস্ব তহবিল থেকে পূরণ করা হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছিলো। এবারের ঘটনা সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
//আইই//
