২২ দেশের বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘট
সংগৃহীত ছবি
গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ডকশ্রমিকরা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বন্দরে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ দেশের ১১৩টি বন্দরে ২৫টির বেশি শ্রমিক সংগঠন এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে। এসব বন্দরের মধ্যে রয়েছে জার্মানির হামবুর্গ, স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া, ফ্রান্সের লে আভর, গ্রিসের পিরেয়াস, ইতালির জেনোয়া, মরক্কোর তাঞ্জিয়ার মেড এবং ভারতের নহভা শেভা বন্দর।
ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেন, তুরস্ক ও মরক্কোর শ্রমিক সংগঠনগুলো প্রথমে যৌথভাবে এই কর্মসূচির ডাক দেয়। পরে বিভিন্ন দেশের শ্রমিক সংগঠন এতে যুক্ত হয়। তাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে বন্দরগুলো ব্যবহার করা যাবে না।
আয়োজকদের বক্তব্য, বন্দরগুলোকে যুদ্ধের কাজে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান এবং ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সংহতি জানানোও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
ইতালির জেনোয়া, ত্রিয়েস্তে ও জিওইয়া তাউরো বন্দরে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। ফ্রান্সের লে আভর, মার্সেই, ডানকার্ক ও রুয়াঁ বন্দরে এক দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরে ডকশ্রমিকদের কর্মবিরতির পাশাপাশি নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (আইটিএফ) জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার, যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং বন্দরগুলোর সামরিকীকরণের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সংগঠনটি শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের দাবিকেও সমর্থন জানিয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সি এইচ রবিনসন জানিয়েছে, ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস ও পরিবহনে বিলম্ব হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এক দিনের এই কর্মসূচিতে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা কম।
//আইই//
