দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৪ কোটি ছাড়ালো
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৪ কোটি ছাড়িয়েছে। এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে অঞ্চলটির ডিজিটাল অর্থনীতির আকার চলতি বছর শেষে ৩৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।
গুগল, সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেমাসেক ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কম্পানির যৌথ প্রতিবেদন ‘ই-কনমি এসইএ’-তে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই অঞ্চলের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইয়ের ব্যবহার ই-কমার্সে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের অভিজ্ঞতা বদলে দিচ্ছে। বিক্রেতারা এআই দিয়ে পণ্যের প্রচারমূলক ছোট ভিডিও তৈরি করছেন। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের সুপারিশ পাচ্ছেন। ৬টি দেশের ভোক্তাদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ ক্রেতা পণ্য তুলনা করতে এআই ব্যবহার করছেন।
বেইন অ্যান্ড কম্পানির অংশীদার ফ্লোরিয়ান হপে জানান, এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ই-কমার্সে বিক্রির সম্ভাব্য রূপান্তর হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে।
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত ই-কমার্সের আকার চলতি বছর ২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। গত বছর এই খাতের আকার ছিলো ১৯১ বিলিয়ন ডলার। সে-ই হিসাবে প্রবৃদ্ধি হবে ১৮ শতাংশ।
এই অঞ্চলে অনলাইন ভ্রমণ খাতের লেনদেন চলতি বছর ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। উড়োজাহাজের টিকিট, হোটেল ও ছুটির আবাসন বুকিং এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। ভ্রমণের গন্তব্য নির্বাচন, পরিকল্পনা, বুকিং ও ভ্রমণসূচি পরিবর্তনেও বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার।
এদিকে অনলাইনে পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের বাজার চলতি বছর ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। গত বছর এই বাজারের আকার ছিলো ৩৫ বিলিয়ন ডলার। সে-ই হিসাবে প্রবৃদ্ধি হবে ১৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আসিয়ান অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৯ শতাংশ, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
/এমএএইচ/
