এআই চশমা শনাক্ত করার ৫ উপায়
ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) স্মার্ট চশমা। ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, অডিও শোনা, ভয়েস কমান্ড দেওয়া ও বিভিন্ন তথ্য জানার সুবিধা থাকায় এসব ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর অপব্যবহার করে কারও অজান্তে ভিডিও ধারণ বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কাও রয়েছে। আশপাশে কেউ এই ধরনের চশমা ব্যবহার করছেন কি না, তা বোঝার কয়েকটি উপায় রয়েছে।
চশমার গঠন লক্ষ্য করুন
সাধারণ চশমার তুলনায় অনেক স্মার্ট চশমার ফ্রেম কিছুটা মোটা ও ভারী হয়। দুই পাশের ডাঁটিতে প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ থাকায় সেগুলো পুরু দেখাতে পারে। লেন্সের বাইরের দিকে ছোট ক্যামেরা এবং ডাঁটিতে স্পিকার, মাইক্রোফোন বা অন্যান্য যন্ত্রাংশের ছিদ্র থাকতে পারে।
ইন্ডিকেটর লাইট দেখুন
অনেক স্মার্ট চশমায় ভিডিও ধারণের সময় ছোট এলইডি বাতি জ্বলে ওঠে। এটি রেকর্ডিংয়ের একটি ইঙ্গিত হতে পারে। তবে সব স্মার্ট চশমায় এমন নির্দেশক বাতি থাকে না। ফলে আলো না জ্বললেই ভিডিও ধারণ হচ্ছে না, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
ব্যবহারের ধরন খেয়াল করুন
চশমার ডাঁটিতে বারবার আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়া, বোতাম বা স্পর্শনির্ভর অংশে হাত দেওয়া কিংবা নিচু স্বরে ভয়েস কমান্ড দেওয়ার মতো আচরণ স্মার্ট চশমা ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এসব লক্ষণ দেখেই কেউ গোপনে ভিডিও ধারণ করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করুন
‘নিয়ারবাই গ্লাসেস’ ও ‘জাকঅফ’-এর মতো কিছু অ্যাপ ব্লুটুথের মাধ্যমে আশপাশের স্মার্ট চশমা শনাক্ত করার চেষ্টা করে। তবে ব্লুটুথ বন্ধ থাকলে ডিভাইস শনাক্ত নাও হতে পারে। আবার অন্য ডিভাইসকে ভুল করে স্মার্ট চশমা হিসেবে শনাক্ত করার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই এসব অ্যাপের ফলাফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না।
সন্দেহ হলে কী করবেন?
কেউ গোপনে ভিডিও ধারণ করছেন বলে সন্দেহ হলে উত্তেজিত হয়ে মুখোমুখি না হয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন। গোপনীয় বৈঠক বা অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা আগে থেকেই স্মার্ট চশমা ব্যবহার ও ভিডিও ধারণের বিষয়ে বিধিনিষেধ জানিয়ে রাখতে পারেন।
মনে রাখতে হবে, চশমার গঠন, আলো বা ব্যবহারকারীর আচরণ দেখে গোপনে ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে এসব বিষয়ে সচেতনতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
/শান্ত/
