ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বাংলাদেশ
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জিততে পারলে হয়তো এত হিসাব-নিকাশ করতে হতো না বাংলাদেশকে। এখন ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের দিকেও। সেই ম্যাচের ফল বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। হিসাব-নিকাশের বাইরে নিজেদের কাজটাও ঠিকঠাক করতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই তাড়না আছে বলে জানিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ দল এখন শারজায়। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের হার নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে যেভাবে ধস নেমেছিলো, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে দলকে। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে না পারার সমস্যাও আবার সামনে এসেছে। ম্যাচের পর দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও। বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানডে সিরিজ জিততে না পারার হতাশার মধ্যেই এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে।
আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় শারজায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে পরের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দল।
তিনি বলেন, ছেলেদের মধ্যে এখনও উদ্যম আছে। আজ সকালেও সভা হয়েছে। কী ভালো হয়েছে, কী ভালো হয়নি, সেসব নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা জানি, এখন আমাদের কী করতে হবে। আমরা ভালো খেলছিলাম। এটা ছিলো এমন এক দিন, যেদিন কিছুই আমাদের পক্ষে যায়নি। জানি, এখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হচ্ছি।
বাংলাদেশের সামনে এখন নিজেদের ম্যাচ জেতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সমীকরণেও নজর রাখতে হচ্ছে। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই ম্যাচের দিকে নজর রাখার কথা স্বীকার করেছেন সিমন্সও। প্রতিপক্ষের ম্যাচের ফল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ক্যারিবীয় এই কোচ বলেন, ম্যাচটা তো দেখতেই হবে (হাসি)। ভেতরে ভেতরে আমরা কী চাই, তা তো জানোই। ওই ম্যাচে কী হবে, সেটা আমাদের হাতে নেই। আমাদের ভালো অনুশীলন করে নিজেদের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ওয়ানডেতে ৫০ ওভার ব্যাটিং করার সামর্থ্য কাজে লাগাতে হবে ব্যাটসম্যানদের। সিমন্সের মতে, আগের ম্যাচে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে না পারাটাই ছিলো বড় ঘাটতি।
তিনি বলেন, সঠিক মুহূর্ত বুঝতে না পারাই ছিলো গত ম্যাচের ঘাটতি। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, ওয়ানডে ম্যাচে যেন পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারি।
/এমএএইচ/
