Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শেষ বিকেলের স্বস্তিতে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ
শেষ বিকেলের স্বস্তিতে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে নতুন দিনের খেলা শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার সাদমান ইসলাম এদিন মাঠে নেমেই ক্যারিয়ারের আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে শতক ছোঁয়ার পর ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি তিনি, ব্যক্তিগত ১০৫ রানে সাজঘরে ফেরেন। সাদমানের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। গতকাল চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া তাওহিদ হৃদয় আজ ব্যাটিংয়ে ফিরলেও নিজের নামের পাশে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। আগের দিনের ৪২ রানেই আউট হন তিনি। এরপর ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণি জাদুতে খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিক মিডল ও লোয়ার অর্ডার। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ২২১ রান করা বাংলাদেশ মাত্র ৫১ রানের ব্যবধানে শেষ ৭টি উইকেট হারিয়ে বসে। উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও দল অলআউট হয় ২৭২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জোমেল ওয়ারিক্যান ৫৩ রান খরচায় ৫টি উইকেট নেন। এছাড়া আলজারি জোসেফ ও জেইডন বিশপ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। ২৭২ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৯ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংকে (১৫) সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল। এই জুটি বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করে স্কোরবোর্ডে ৬১ রান যোগ করেন। দু’জনই ক্রিজে থিতু হয়ে যাওয়ায় যখন বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হচ্ছিলো, ঠিক তখনই ব্রেকথ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অর্ধশতক হাঁকানো ক্যাম্পবেলকে (৫৮) অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন এই অফস্পিনার। ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন তাইজুল ইসলাম। শেষ বিকেলে নিজের এক ওভারেই কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয় শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে হুট করেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান তুলে দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল ৪৩ এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ৪৪ রানে ২টি, হাসান ২৫ রানে ১টি এবং মিরাজ ৪৪ রানে ১টি উইকেট নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে): • বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭২/১০ (৯৭.৪ ওভার); সাদমান ১০৫, হৃদয় ৪২, লিটন ৩৪*; ওয়ারিক্যান ৫/৫৩, জোসেফ ২/৪১। • ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১৩৪/৪ (৪৮ ওভার); ক্যাম্পবেল ৫৮, চন্দরপল ৪৩*, গ্রিভস ১৫*; তাইজুল ২/৪৪, হাসান ১/২৫, মিরাজ ১/৪৪। /এমএএইচ/

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লো ভারত
নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লো ভারত

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ওয়েলিংটনে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তুলেছিলো নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ১৩.২ ওভারেই ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। এতে ৫ ম্যাচ সিরিজে প্রথম ৩ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিলো ভারত। রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিশ্বরেকর্ড গড়ে ভারত। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন বৈভব সূর্যবংশী। দু’জন মিলে মাত্র ২.২ ওভারে দলীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। যার টি-২০তে আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দলের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড। শুরুর সেই ব্যাটিং ঝড় চলে আরও অনেকটা সময়। কিউই বোলারদের নাস্তানাবুদ করে উদ্বোধনী জুটিতে শত রান তুলে নেয় ভারত। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে সূর্যবংশী ফিরলে ভাঙে ১৩৩ রানের জুটি। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করে ম্যাথিউ ফিশারের বলে ড্যারিয়েল মিচেলকে ক্যাচ দেন তিনি। সূর্যবংশী ফিরলেও থামেনি অভিষেকের তাণ্ডব। কিউই বোলারদের আরও কিছুক্ষণ পরীক্ষা নেন তিনি। মাত্র ৩৫ বলে তুলে নেন আন্তর্জাতিক টি-২০তে তৃতীয় সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে সহজ জয়ের পথ দেখিয়ে ফেরেন অভিষেক। এরপর ২ দুই উইকেট হারালেও ভারতের জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। মাত্র ১৩.২ বলে জয় তুলে নেয় ভারত। নিউজিল্যান্ডের হয়ে কেইল জেমিসন সর্বোচ্চ দু’টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান ম্যাথিউ ফিশার আর মিচেল স্যান্টনার। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ফিরে যান ওপেনার টিম শেইফার্ট। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলকে বড় রানের দিকে নিয়ে যান ফিন অ্যালেন আর ড্যারিয়েল মিচেল। ২৫ বলে ৪০ রান করেন ফিন অ্যালেন। ৪ নম্বরে নামা গ্লেন ফিলিপস অবশ্য এদিন কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করেছেন। ১৪ বল থেকে মাত্র ১৭ রান করে ফেরেন তিনি। শেষদিকে আবারও ঝোড়ো ব্যাটিং করেন ড্যারিয়েল ও বেভন জ্যাকবস। চতুর্থ উইকেটে ৪৮ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন তাঁরা। ২৩ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন জ্যাকবস। আর ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন ড্যারিয়েল জ্যাকবস। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৯৮ রানে। /এমএএইচ/

ক্যানসারে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারের মৃত্যু
ক্যানসারে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারের মৃত্যু

হৃদয়ের স্বপ্ন ছিলো ক্রিকেটের মাঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো মরণব্যাধি ক্যানসার। জীবন বাঁচানোর আশায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নেওয়া হচ্ছিলো ঢাকায়। গন্তব্যে আর পৌঁছানো হয়নি তাঁর। হৃদয় আক্রান্ত ছিলেন অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়ায় (এএমএল)। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ২ প্রতিষ্ঠান থেকেই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিলো। গত ২ জুলাই বিসিবির কার্যালয়ে হৃদয়ের বাবার হাতে চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিসিবিও চিকিৎসার জন্য একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দিয়েছিলো। আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসার নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো এই তরুণ ক্রিকেটারকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর, সিলেটে। ২ ম্যাচই আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রের অংশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন ব্যাটার সৌম্য সরকার ও পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। তাসকিন ফিরেছেন দলে। লিটনকে নিয়ে অবশ্য কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিলো। ডান নিতম্বের সংযোগস্থলে চোটের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে খেলতে পারেননি তিনি। তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হয়েছে। চোটের কারণে এই টেস্টের দলেও নেই তরুণ তারকা পেসার নাহিদ রানা। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হওয়ার পর পুনর্বাসনে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি পিঠে ব্যথা ও নিতম্বের আশপাশে দুর্বলতা অনুভব করায় তাঁর ফেরার অপেক্ষা আরও বেড়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। /এমএএইচ/

ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বাংলাদেশ
ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জিততে পারলে হয়তো এত হিসাব-নিকাশ করতে হতো না বাংলাদেশকে। এখন ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের দিকেও। সেই ম্যাচের ফল বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। হিসাব-নিকাশের বাইরে নিজেদের কাজটাও ঠিকঠাক করতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই তাড়না আছে বলে জানিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ দল এখন শারজায়। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের হার নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে যেভাবে ধস নেমেছিলো, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে দলকে। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে না পারার সমস্যাও আবার সামনে এসেছে। ম্যাচের পর দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও। বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানডে সিরিজ জিততে না পারার হতাশার মধ্যেই এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে। আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় শারজায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে পরের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দল। তিনি বলেন, ছেলেদের মধ্যে এখনও উদ্যম আছে। আজ সকালেও সভা হয়েছে। কী ভালো হয়েছে, কী ভালো হয়নি, সেসব নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা জানি, এখন আমাদের কী করতে হবে। আমরা ভালো খেলছিলাম। এটা ছিলো এমন এক দিন, যেদিন কিছুই আমাদের পক্ষে যায়নি। জানি, এখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হচ্ছি। বাংলাদেশের সামনে এখন নিজেদের ম্যাচ জেতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সমীকরণেও নজর রাখতে হচ্ছে। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই ম্যাচের দিকে নজর রাখার কথা স্বীকার করেছেন সিমন্সও। প্রতিপক্ষের ম্যাচের ফল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ক্যারিবীয় এই কোচ বলেন, ম্যাচটা তো দেখতেই হবে (হাসি)। ভেতরে ভেতরে আমরা কী চাই, তা তো জানোই। ওই ম্যাচে কী হবে, সেটা আমাদের হাতে নেই। আমাদের ভালো অনুশীলন করে নিজেদের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ওয়ানডেতে ৫০ ওভার ব্যাটিং করার সামর্থ্য কাজে লাগাতে হবে ব্যাটসম্যানদের। সিমন্সের মতে, আগের ম্যাচে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে না পারাটাই ছিলো বড় ঘাটতি। তিনি বলেন, সঠিক মুহূর্ত বুঝতে না পারাই ছিলো গত ম্যাচের ঘাটতি। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, ওয়ানডে ম্যাচে যেন পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারি। /এমএএইচ/

চাপ সামলাতে পারছে না বাংলাদেশ, বলছেন তাসকিন
চাপ সামলাতে পারছে না বাংলাদেশ, বলছেন তাসকিন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় হারে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ২৭২ রানের লক্ষ্যে ১৬ ওভার শেষে দলের স্কোর ছিলো ৩ উইকেটে ৯৪, তখনও জয়ের আশা টিকে ছিলো। কিন্তু এরপর ১৭.৪ ওভারে বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ ৪ ওয়ানডের কোনোটিতেই পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ। এই ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে চাপ সামলাতে না পারাকেই দেখছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ১৬ ওভার পর্যন্ত সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়দের নেতৃত্বে দল ওভারপ্রতি প্রায় ৫.৮৭ রান তুলছিলো। কিন্তু এরপর ডট বলের আধিক্য, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো এবং চাপের মুখে দ্রুত ধস, সব মিলিয়ে জুটি গড়তে না পারার পুরোনো সমস্যাই আবার সামনে এসেছে। জয়ের পথ নিজেরাই কঠিন করে ফেলেছে বাংলাদেশ। শুরুতে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও হাল ছাড়েনি জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ১৫০ রানের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এনে দেয়। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা জুটি গড়ার বদলে একের পর এক উইকেট হারিয়েছেন। তাসকিনের মতে, এই পিচে ২৭২ রান তাড়া করা সম্ভব ছিলো। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এই পিচে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা সম্ভব। এখানে রান করার সুযোগ ছিলো এবং চাইলে বড় জুটিও গড়ে তোলা যেত। প্রতিপক্ষ সেটি করেও দেখিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকের পিচের কথা বিবেচনা করলে ২৭০ রান অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিলো। আমরাও এই পিচে বোলিং করেছি। দেখেছি, সামান্য ভুল হলেই প্রতিপক্ষ তার সুযোগ নিয়েছে।’ জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে খেলা কঠিন হলেও আমিরাতের উইকেটে বাংলাদেশের জেতা উচিত ছিলো বলে মনে করেন এই পেসার। তার ভাষায়, ‘জিম্বাবুয়ের মাটিতে খেলা কঠিন। তারা নিজেদের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াকেও যথেষ্ট চাপে ফেলেছে। এ কন্ডিশনে আমাদের রান তাড়া করে জেতা উচিত ছিলো। আমরা আসলে ভালো খেলতে পারিনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ব্যাটিংয়ে আমরা কোনো কার্যকর জুটি গড়তে পারিনি। অন্তত একটি ভালো জুটি গড়তে পারলেও ম্যাচটি জেতা সম্ভব হতো। ব্যাটিংয়ে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন তাসকিন। /শুভ/

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবরের নতুন কীর্তি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবরের নতুন কীর্তি

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলো পাকিস্তান। নামের পাশে ১৫,৯৯৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামেন বাবর আজম। তাঁর প্রয়োজন ছিলো মাত্র ৭ রান। দ্রুতই সেই রান তুলে নেন ৩২ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার। ৫৭ বলে ৪৫ রান করে ইশান মালিঙ্গার বলে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি ৪। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মোট রান এখন ১৬,০৩৮। তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩৯৯ ইনিংসে ১৬ হাজার রান পূর্ণ করেছেন বাবর। পাকিস্তানের হয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার চেয়ে কম ইনিংস লেগেছে কেবল মোহাম্মদ ইউসুফ ও জাভেদ মিয়াদাদের। ইউসুফের লেগেছিলো ৩৮৮ ইনিংস, মিয়াদাদের ৩৯৮ ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইনজামাম উল হক। ৪৯৫ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২০ হাজার ৫৪১ রান। দ্বিতীয় স্থানে ইউনিস খান। ৪০৮ ম্যাচে ১৭ হাজার ৭৯০ রান করেছেন তিনি। মোহাম্মদ ইউসুফের রান ১৭ হাজার ১৩৪ এবং জাভেদ মিয়াঁদাদের ১৬ হাজার ২১৩। তিন সংস্করণেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন বাবর। ৬৬ টেস্টে তাঁর রান ৪ হাজার ৭৭১। ১৪৫ টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে করেছেন ৪ হাজার ৫৯৬ রান। ওয়ানডেতে তাঁর সংগ্রহ সাড়ে ৬ হাজারের বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে তাঁর সেঞ্চুরি ৩২টি এবং ফিফটি ১১১টি। পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে ওপেনার সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক বাবর। দু’জনেই ২০টি করে সেঞ্চুরি করেছেন। আর একটি শতক করতে পারলেই আনোয়ারকে ছাড়িয়ে রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেবেন বাবর। ওয়ানডেতে ২১টি সেঞ্চুরি করতে দ্রুততম ব্যাটারদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে বাবরের সামনে। দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা ১১৬ ইনিংসে ২১টি সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড গড়েন। ভারতের বিরাট কোহলি এই মাইলফলকে পৌঁছান ১৩৮ ইনিংসে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ১৬ হাজার রানের মালিক কোহলি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে ভারতীয় তারকার লেগেছিলো মাত্র ৩৫০ ইনিংস। /এমএএইচ/