সবুজ, হলুদ, কমলা নাকি লাল, কোন ক্যাপসিকামে পুষ্টি বেশি?
কাঁচা, গ্রিল করা কিংবা রান্না করে, নানা উপায়ে খাওয়া যায় ক্যাপসিকাম। সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল রঙের এই সবজির স্বাদ ও পুষ্টিগুণেও রয়েছে কিছু পার্থক্য। তবে এগুলো আলাদা জাতের ফল নয়। সাধারণত একই ক্যাপসিকাম পরিপক্ব হওয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন রং ধারণ করে।
মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপত্তি হওয়া ক্যাপসিকাম উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি ফল। ফুল থেকে জন্মানো এবং ভেতরে বীজ থাকার কারণে একে ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে রান্নায় সবজি হিসেবেই এর ব্যবহার বেশি।
রঙের সঙ্গে বদলায় স্বাদ
সবুজ ক্যাপসিকাম সাধারণত অপরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয়। এতে ক্লোরোফিল বেশি থাকায় রং সবুজ হয়। স্বাদ কিছুটা তেতো এবং গঠন শক্ত ও মচমচে। অন্যদিকে, পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হলুদ, কমলা ও লাল রং ধারণ করতে পারে ক্যাপসিকাম। এই সময় এর স্বাদও সাধারণত মিষ্টি হয়ে ওঠে।
ক্যাপসিকামের নিচে তিনটি খাঁজ থাকলে সেটি পুরুষ আর চারটি থাকলে স্ত্রী এবং স্ত্রী ক্যাপসিকাম বেশি মিষ্টি, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খাঁজের সংখ্যা মূলত ফলের গঠনগত বৈশিষ্ট্য, স্বাদ নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়।
কোন রঙে কী পুষ্টি?
সব রঙের ক্যাপসিকামেই ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বদলায়।
সবুজ ক্যাপসিকামে লুটিন ও অন্যান্য ক্যারোটিনয়েড থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। হলুদ ও কমলা ক্যাপসিকামে বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। লাল ক্যাপসিকামে সাধারণত ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন বেশি থাকে। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে, যা দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কাঁচা নাকি রান্না করে খাবেন?
কাঁচা ক্যাপসিকাম খেলে ভিটামিন সিসহ তাপসংবেদনশীল কিছু পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, রান্নার ফলে কিছু ক্যারোটিনয়েড শরীরের জন্য সহজলভ্য হতে পারে। তবে অতিরিক্ত তাপে ভিটামিন সি কমে যেতে পারে।
তাই পুষ্টিগুণের সুবিধা পেতে ক্যাপসিকাম কখনো কাঁচা, আবার কখনো হালকা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম রাখলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
সবুজ ক্যাপসিকাম তুলনামূলক কম পরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয় বলে অনেক ক্ষেত্রে এর দাম কম থাকে। গাছে বেশি সময় ধরে রেখে অন্য রঙে পরিপক্ব করতে হয় বলে হলুদ, কমলা ও লাল ক্যাপসিকামের দাম বেশি হতে পারে। তবে দাম নির্ভর করে উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারের ওপরও।
সব মিলিয়ে, কোনো একটি রঙের ক্যাপসিকামই সব দিক থেকে সেরা নয়। বরং বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম কাঁচা ও রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো।
/শান্ত/
