Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সবুজ, হলুদ, কমলা নাকি লাল, কোন ক্যাপসিকামে পুষ্টি বেশি?
সবুজ, হলুদ, কমলা নাকি লাল, কোন ক্যাপসিকামে পুষ্টি বেশি?

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপত্তি হওয়া ক্যাপসিকাম উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি ফল। ফুল থেকে জন্মানো এবং ভেতরে বীজ থাকার কারণে একে ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে রান্নায় সবজি হিসেবেই এর ব্যবহার বেশি। রঙের সঙ্গে বদলায় স্বাদ সবুজ ক্যাপসিকাম সাধারণত অপরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয়। এতে ক্লোরোফিল বেশি থাকায় রং সবুজ হয়। স্বাদ কিছুটা তেতো এবং গঠন শক্ত ও মচমচে। অন্যদিকে, পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হলুদ, কমলা ও লাল রং ধারণ করতে পারে ক্যাপসিকাম। এই সময় এর স্বাদও সাধারণত মিষ্টি হয়ে ওঠে। ক্যাপসিকামের নিচে তিনটি খাঁজ থাকলে সেটি পুরুষ আর চারটি থাকলে স্ত্রী এবং স্ত্রী ক্যাপসিকাম বেশি মিষ্টি, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খাঁজের সংখ্যা মূলত ফলের গঠনগত বৈশিষ্ট্য, স্বাদ নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়। কোন রঙে কী পুষ্টি? সব রঙের ক্যাপসিকামেই ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বদলায়। সবুজ ক্যাপসিকামে লুটিন ও অন্যান্য ক্যারোটিনয়েড থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। হলুদ ও কমলা ক্যাপসিকামে বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। লাল ক্যাপসিকামে সাধারণত ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন বেশি থাকে। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে, যা দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা নাকি রান্না করে খাবেন? কাঁচা ক্যাপসিকাম খেলে ভিটামিন সিসহ তাপসংবেদনশীল কিছু পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, রান্নার ফলে কিছু ক্যারোটিনয়েড শরীরের জন্য সহজলভ্য হতে পারে। তবে অতিরিক্ত তাপে ভিটামিন সি কমে যেতে পারে। তাই পুষ্টিগুণের সুবিধা পেতে ক্যাপসিকাম কখনো কাঁচা, আবার কখনো হালকা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম রাখলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। সবুজ ক্যাপসিকাম তুলনামূলক কম পরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয় বলে অনেক ক্ষেত্রে এর দাম কম থাকে। গাছে বেশি সময় ধরে রেখে অন্য রঙে পরিপক্ব করতে হয় বলে হলুদ, কমলা ও লাল ক্যাপসিকামের দাম বেশি হতে পারে। তবে দাম নির্ভর করে উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারের ওপরও। সব মিলিয়ে, কোনো একটি রঙের ক্যাপসিকামই সব দিক থেকে সেরা নয়। বরং বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম কাঁচা ও রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। /শান্ত/

সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান মিললো আমাদের ছায়াপথেই
সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান মিললো আমাদের ছায়াপথেই

ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে এই গবেষণা চলে। সম্প্রতি ‘রাস টেকনিক্‌স অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস’ জার্নালে তাঁদের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক ভাবে ১৫১টি বামন নক্ষত্র বিশ্লেষণ করে একটিই এমন সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান মিলেছে। তবে গবেষকদলের অনুমান, ব্রহ্মাণ্ডে এমন আরও সবুজ নক্ষত্র ছড়িয়ে রয়েছে। যা এখনও বিজ্ঞানীদের নজরে আসেনি। বাস্তবে এই প্রথম বার খোঁজ মিললেও কল্পবিজ্ঞানের কাহিনিতে এমন ‘সবুজ নক্ষত্রের’ কথা অবশ্য আগেও বলা হয়েছে। যেমন ডিসি কমিক চরিত্র নির্ভর সিনেমা ‘সুপার গার্ল’-এ এমন সবুজ রঙের নক্ষত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। গবেষকদলের প্রধান হল্যান্ডসের কথায়, “আমাদের এই মহাবিশ্ব মাঝে মাঝে কল্পবিজ্ঞানের মতোই অদ্ভুত।” বেশির ভাগ নক্ষত্রের রং নির্ভর করে সেই নক্ষত্রটির তাপমাত্রার উপরে। এবং তা নির্দিষ্ট কিছু রঙের আভার মধ্যেই সীমিত। কিন্তু জ্যোতির্পদার্থবিদ হলান্ডসের মতে, কিছু শ্বেত বামন নক্ষত্র অপ্রত্যাশিত কোনও রঙে জ্বলজ্বল করতে পারে। তুলনামূলক কম ভরের নক্ষত্রগুলো যখন নিজেদের আয়ুর একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায় (পারমাণবিক জ্বালানি ফুরিয়ে যায়), সেই মৃতপ্রায় নক্ষত্রগুলো শ্বেত বামন নক্ষত্রে পরিণত হয়। সে সময়ে নক্ষত্রের বাইরের স্তরগুলো মহকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিতরের অংশটি শ্বেত বামন নক্ষত্রের রূপ নেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের মৃতপ্রায় নক্ষত্রগুলো এক ধরনের ‘মহাজাগতিক খাদকে’ পরিণত হয়। এদের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করা গ্রহ, গ্রহাণুগুলোকে মহাকর্ষ শক্তির টানে গিলে ফেলে বামন নক্ষত্রগুলো। সঙ্গে ওই গ্রহ এবং গ্রহাণুতে থাকা ক্যালশিয়াম, সোডিয়াম, লিথিয়াম বা আয়রনও নক্ষত্রে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তার জেরেই কোনও কোনও ক্ষেত্রে সবুজ বা গোলাপি বা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত রঙের দেখাতে পারে গ্রহগুলোকে। আমাদের সূর্যের তাপমাত্রার কেন্দ্র ভাগের ১ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃষ্ঠ ভাগের প্রায় ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের বা এর কাছাকাছি তাপমাত্রার অন্য কোনও নক্ষত্রকে সাদা রঙের দেখায়। তুলনামূলক শীতল নক্ষত্রকে কমলা এবং উষ্ণ নক্ষত্রকে হালকা নীলচে রঙের দেখায়। গবেষকদের মতে, বেশির ভাগ শ্বেত বামন নক্ষত্রের রং অন্য সাধারণ নক্ষত্রের মতোই সাদা রঙের হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এদের গ্যাসীয় মণ্ডলের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তনের ফলে কিছু ক্ষেত্রে বিরল রং দেখা যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে নক্ষত্রের রং সবুজ দেখায়, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণ যে শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন রং দেখা যেতে পারে, তা আগেও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। সেই মতো বিভিন্ন শ্বেত বামন নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন হল্যান্ডস এবং তাঁর সহযোগীরা। সেই পর্যবেক্ষণের সময়েই বিজ্ঞানীদের নজরে আসে সবুজ নক্ষত্রটি। আমাদের ছায়াপথ মিল্কি ওয়ের মধ্যেই রয়েছে নক্ষত্রটি। মহাকাশবিজ্ঞানীরা এর নাম রেখেছেন ‘ডব্লিউডি জে১৩৩৩০+৬৪৩৫’। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৮০ আলোকবর্ষ (আলো এক সেকেন্ডে অতিক্রম করে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার। এক বছরে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকেই বলে আলোকবর্ষ। এক আলোকবর্ষ ৯.৫ লক্ষ কোটি কিলোমিটারের সমান) দূরে ড্র্যাকো নক্ষত্রপুঞ্জে রয়েছে এই সবুজ নক্ষত্রটি। কেআর/শান্ত/