দীর্ঘ বাস-ট্রেনযাত্রায় ক্লান্তি ও ব্যথা এড়াতে যা করবেন
দীর্ঘ বাস বা ট্রেনযাত্রায় জানালার বাইরের দৃশ্য উপভোগ করা কিংবা নতুন জায়গায় পৌঁছানোর আনন্দ থাকলেও একটানা বসে থাকা বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। ঘাড়, কোমর ও পিঠে ব্যথা, পা ভারী লাগা, ক্লান্তি কিংবা বমিভাব দেখা দিতে পারে। তবে যাত্রার আগে কিছু প্রস্তুতি এবং পথে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে এসব সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরামদায়ক পোশাক পরুন
দীর্ঘ যাত্রায় আঁটসাঁট পোশাকের বদলে ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক কাপড় বেছে নিন। পায়ে আরামদায়ক জুতা বা স্যান্ডেল পরুন। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস বা ট্রেনে ঠান্ডা লাগতে পারে, তাই সঙ্গে পাতলা চাদর বা হালকা জ্যাকেট রাখুন।
ছোট বালিশ সঙ্গে নিন
একটানা বসে থাকলে ঘাড়, কোমর ও পিঠের পেশিতে চাপ পড়ে। ঘাড়ের জন্য ইউ-আকৃতির ট্রাভেল পিলো এবং কোমরের পেছনে রাখার জন্য ছোট বালিশ কাজে আসতে পারে। বসার সময় পিঠের স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় রাখুন এবং মাঝেমধ্যে বসার অবস্থান পরিবর্তন করুন।
পানি পান করুন, হালকা খাবার খান
যাত্রাপথে পানির ঘাটতি এড়াতে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। অল্প অল্প করে পানি পান করুন। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত বা ভারী খাবারের পরিবর্তে কলা, আপেল, বাদাম কিংবা হালকা খাবার সঙ্গে রাখতে পারেন। খাবার যেন পরিষ্কারভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
মাঝেমধ্যে নড়াচড়া করুন
দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে পেশিতে টান ও পায়ে অস্বস্তি হতে পারে। বাস থামলে বা ট্রেনে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ থাকলে কিছুক্ষণ হাঁটুন। বসে থাকা অবস্থায় গোড়ালি ওঠানো-নামানো, পায়ের আঙুল নাড়ানো ও কাঁধ ধীরে ঘোরানোর মতো সহজ নড়াচড়া করতে পারেন। চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করবেন না।
দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কিছু মানুষের পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আগে এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকলে বা সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হলে যাত্রার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক পা হঠাৎ ফুলে গেলে বা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
বমিভাব কমাতে সতর্ক থাকুন
বাস বা ট্রেনে বমিভাব হলে জানালার বাইরে দিগন্তের দিকে তাকানোর চেষ্টা করুন। বই পড়া কিংবা মোবাইলের পর্দায় দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন হলে বিরতি নিন। মোশন সিকনেসের ওষুধ প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
বিনোদন ও প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখুন
একঘেয়েমি কাটাতে পছন্দের গান, পডকাস্ট বা অডিওবুক শুনতে পারেন। মোবাইলের চার্জ ধরে রাখতে পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন। তবে একটানা পর্দার দিকে তাকিয়ে না থেকে চোখকে বিশ্রাম দিন।
যাত্রার আগে টিকিট, পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চার্জার, টিস্যু ও স্যানিটাইজার গুছিয়ে নিন। রাতে ভ্রমণ করলে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় ও পরবর্তী যাতায়াতের ব্যবস্থাও আগেই জেনে রাখুন।
দীর্ঘ যাত্রায় স্বস্তি পেতে সবচেয়ে জরুরি হলো শরীরের প্রয়োজন বুঝে নড়াচড়া করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং একটানা একই ভঙ্গিতে বসে না থাকা। সামান্য প্রস্তুতি ও সচেতনতাই দীর্ঘ পথের ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।
/শান্ত/
