নতুন কাঠামোয় বেতন বাড়লেও কমতে পারে আয়
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর ৪ মাসের বকেয়সহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কথা। তবে বেতন নির্ধারণের জটিলতায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে নতুন কাঠামোর বেতন পাচ্ছেন না। তাদের আপাতত পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। বকেয়া টাকা পরে পরিশোধ করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনেকে এখনো নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি। এই নিয়ে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও সোমবার পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এখনো জটিলতা রয়ে গেছে। বেতন নির্ধারণের নিয়ম প্রয়োগ করতে গিয়ে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে অসংগতি দেখা দিয়েছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তা বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন। আবার পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমে যাওয়ায় মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একটি হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমতে পারে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যেতে পারে।
এছাড়া সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার আইবাস++-এর জটিলতার কারণেও অনেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে।
তবে ১ নভেম্বরের আগে সব আবেদনের নিষ্পত্তি সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে না পারা কর্মচারীদের আপাতত পুরোনো হারে বেতন নিতে হতে পারে।
/শান্ত/
