রপ্তানির অঙ্কে স্বস্তি, কারখানায় অস্বস্তি
পোশাক খাতে রপ্তানি আয়ের হিসাবে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও সংকট কাটছে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিলো ৯৯৭ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে। ওভেনে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, নিটে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, ফলে এসব বাজারের হিস্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি কম থাকায় এবার প্রবৃদ্ধি বেশি দেখাচ্ছে। মাসওয়ারি হিসাবে দেখা যায়, জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিলো ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের। আগস্টে তা ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে হয় ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, আর সেপ্টেম্বরে আরও ১৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে নেমে আসে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ডলারে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এই প্রবৃদ্ধি দিয়ে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি প্রমাণ হয় না। জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য পাঠাতে দৈনিক কাজের সময় ৮-১০ ঘণ্টা থেকে বেড়ে ১২-১৩ ঘণ্টায় ঠেকেছে। এতে বাড়তি মজুরি, ডিজেল ও গ্যাসের খরচ যোগ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল আকাশপথেও পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে এই লোকসান মেনে নিতে হচ্ছে, নইলে ভবিষ্যতে অর্ডার হারানোর ঝুঁকি আছে।
বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বেশিরভাগ কারখানা সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারেনি। বর্তমান রপ্তানি আয় স্বাভাবিক সময়ের গড়ের চেয়েও কম।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের মতে, আগস্টে পুরো মাস জ্বালানি সংকট থাকলেও বড় কারখানাগুলো লোকসান মেনে ডিজেল ও নিজস্ব উৎস থেকে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালু রেখেছে। তাই রপ্তানি চলমান থাকলেও সামগ্রিক চিত্র ভালো নয়। বড় কারখানা আরও বড় হচ্ছে, অথচ ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। শুধু পরিসংখ্যান নয়, কর্মসংস্থান ও কারখানার সংখ্যা বাড়ছে কি না, তাও দেখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে, নিটে কমেছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। সংগঠনটির মতে, বৈশ্বিক মন্দা, চাহিদা সংকোচন, মূল্যস্ফীতি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস এর পেছনের প্রধান কারণ।
/শুভ/এমএএইচ/
