Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রস্তুতিতে বাড়তি ৩ বছর সময় পেলো বাংলাদেশ
অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রস্তুতিতে বাড়তি ৩ বছর সময় পেলো বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১ টায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের পক্ষে উরুগুয়ের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব কাজ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও ৩ বছর বাড়ানো হলো। একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতিবছর উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রস্তুতির সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। রপ্তানি খাতে স্বস্তির আশা এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আসছিলেন। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য সুখবর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়তি সময় অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের কাজে ব্যবহার করতে হবে। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, শুধু উত্তরণের সময়সীমা বাড়ালেই অর্থনীতি প্রতিযোগিতাসক্ষম হবে না। এই জন্য বাণিজ্য, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। কেন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলো বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে বাংলাদেশ। পরে ইউএন-সিডিপি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়। নতুন সময়সীমার কারণে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদারদের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময়ে এলডিসি-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে কৃষি, শিল্প, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির ফলে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে দেশটি। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পরপর দুটি পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউএন-সিডিপি বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ করে। একই বছরের ৮ জুন ইকোসক এবং ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সেই সুপারিশ অনুমোদন করে। কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশকে স্বাভাবিক ৩ বছরের পরিবর্তে ৫ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিলো। সে অনুযায়ী উত্তরণের তারিখ নির্ধারিত ছিলো ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর। উত্তরণের পর যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ কয়েকটি বড় রপ্তানি বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তন হলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের মাত্রা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য অংশীদারদের নীতি ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার ওপর। বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে বলেছিলো, বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাবের একটি প্রাক্কলন, নিশ্চিত ফলাফল নয়। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান বলেন, উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে মেধাস্বত্বসংক্রান্ত ক্ষেত্রে আরও ৩ বছর সময় পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ এখনো কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে পারেনি। তাই এই ধরনের চুক্তি সম্পাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বাড়তি সময় কাজে লাগানো উচিত। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অনেক সুবিধা হারাবে। তাই বাড়তি সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারলে একই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। পোশাক ও ওষুধশিল্পে বাড়তি ঝুঁকি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার পরিবর্তন হলে এই খাতের পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এতে ক্রয়াদেশ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের মান উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বিধিমালার আওতায় কিছু বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তন ওষুধশিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পেটেন্টযুক্ত ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গবেষণা ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। উন্নয়ন অর্থায়নও উদ্বেগের একটি বিষয়। উত্তরণের পর এলডিসি-নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা ও সহজ শর্তের ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে উত্তরণের অর্থ এই নয় যে সব অনুদান বা সহজ শর্তের ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সামাজিক উন্নয়নে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা জরুরি। ২০২৯ সালের আগে যেসব সংস্কার জরুরি অতিরিক্ত ৩ বছরকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে বিকল্প বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্দর ও কাস্টমস সেবার উন্নয়ন এবং রপ্তানি সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য ও ইলেকট্রনিকস খাতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলাও জরুরি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, উত্তরণের পর শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধার সম্ভাব্য পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা শুরু করা উচিত। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, পাটজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, করের আওতা বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই জন্য স্পষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সংস্কার পরিকল্পনা নিতে হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি ৬ মাস পরপর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও প্রকাশের পরামর্শও দেন তিনি। /শান্ত/

রাজস্ব সংগ্রহে এবার মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন
রাজস্ব সংগ্রহে এবার মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন

রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনায় মাঠ প্রশাসন সরকারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই বছর সরকারি রাজস্ব আদায় কার্যক্রম গতিশীল করতে মাঠ প্রশাসনের (বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার) প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চার দফায় কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে। সরকার গঠনের শুরুতে প্রথম দফায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই বিষয়ে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার সকল জেলা প্রশাসক ও সকল উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইভাবে মার্চে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুসারে দ্বিতীয় দফা, ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর তৃতীয় দফা ও সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো চিঠিতে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছর থেকে ৩৯ ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করে সরকার। এসব সেবা নিতে হলে রিটার্ন দাখিল না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেবা দিতে পারবে না এবং তা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিঠিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের মাঠ প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান কাঠামোয় জেলা প্রশাসক বা ইউএনওদের সরাসরি কর আদায়ের দায়িত্ব না থাকলেও বিভিন্ন সেবা প্রদান ও লাইসেন্সিং কার্যক্রমে কর-অনুবর্তিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ডিসি, ইউএনও এবং এসি ল্যান্ড’র নেতৃত্বে মাঠ প্রশাসন ভূমি উন্নয়ন কর, আয়কর, ভ্যাট এবং অন্যান্য সরকারি শুল্ক আদায় নিশ্চিত করে। ডিসি ও ইউএনওগন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর আদায়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নতুন গ্রোথ সেন্টার ও বাজারগুলোয় করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করে আয়কর, ভ্যাট ও টার্নওভার কর আদায়ে নানা ধরনের সহায়তা করতে পারেন। এছাড়া ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি আইন-১৯১৩’ অনুসারে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্টিফিকেট মামলার অফিসার হিসেবে বকেয়া কর আদায়ে সরাসরি ভূমিকা পালন করেন। এসব কারণেই এই বছর সরকারি রাজস্ব আদায় কার্যক্রম গতিশীল করতে মাঠ প্রশাসনের বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি ও ইউএনওদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা “পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি আইন” বা পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩ প্রয়োগ করে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনতে পারেন। এই আইনটি বকেয়া সরকারি রাজস্ব, কর, ঋণ এবং অন্যান্য পাবলিক দাবি আদায়ের একটি বিশেষ আইনি কাঠামো। সাধারণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত সরকারি পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত এই আইনটি বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর রয়েছে। বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য এই আইনে সাধারণ দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে মামলা করার পরিবর্তে সার্টিফিকেট অফিসারের মাধ্যমে দ্রুত সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা যায়। সরকারি বকেয়া কর, জরিমানা, টোল, এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ (নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে) এর আওতাভুক্ত। এই আইনের ক্ষমতাবলে কালেক্টর বা নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা ‘সার্টিফিকেট অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার বিচারিক ক্ষমতা থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেনা পরিশোধ না করা হলে সার্টিফিকেট অফিসার দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম করতে পারেন। এছাড়াও প্রয়োজনে দেনাদারকে গ্রেপ্তার ও দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখার বিধানও রয়েছে। এর বাইরেও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসন বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট বা দাবি আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহৃত প্রধান আইনগুলো হলো- “রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০”, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আদায়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে এই আইনটি প্রয়োগ করা হয়। বকেয়া ভূমি কর আদায়ে এ আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী জরিমানাসহ সম্পত্তি ক্রোকের বিধান রয়েছে। “সরকারি দাবি (আদায়) আইন, ১৯১৩, সরকারি বিভিন্ন খাতের বকেয়া রাজস্ব বা পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন এই আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। “অর্থ আইন” , প্রতি বছর বাজেটের পর অর্থ অধ্যাদেশ বা আইন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু সেবামূলক খাত ও লাইসেন্স ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক এবং অন্যান্য কর আদায়ের আইনগত ভিত্তি পায়। এসব আইনের অধীনে রাজস্ব আদায়ে মাঠ প্রশাসন সাধারণত নোটিশ জারি, সম্পত্তি বা ব্যাংক হিসাব ক্রোক, এবং সার্টিফিকেট ডিক্রি বা নিলাম প্রক্রিয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে রাজস্ব সংগ্রহে গতিশীলতা আনতে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে অর্থবছরের প্রথমদিন ১ জুলাই থেকে এই চালান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭ থেকে সরকারি অর্থ সংগ্রহে এ-চালান ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং প্রচলিত কাগুজে চালান ব্যবস্থা বন্ধ করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কিংবা অধীনস্ত দপ্তর এই চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে সেটিও বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও এনবিআর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উপায়ে মাঠ প্রশাসন সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ভূমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে। জেলায় ডিসি ও উপজেলায় ইউএনওরা নিজ নিজ এলাকায় এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও সমন্বয় করবেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এডিসি রেভেনিউ, এসি ল্যান্ড ইজারামূল্য, জলমহাল, হাটবাজার ও কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করবেন। নতুন করদাতা শনাক্তকরণ, বাণিজ্য মেলা বা স্থানীয় পর্যায়ে জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে মাঠ প্রশাসন করের আওতা বাড়াতে সহায়তা করবেন। কর ফাঁকি রোধ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা এবং অবৈধ স্থাপনা থেকে ভ্যাট ও অন্যান্য রাজস্ব আদায়ে মাঠ প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। স্থানীয় পর্যায়ে সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা এবং অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নাগরিকদের কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করবে। সরকারি রাজস্ব বকেয়া পড়লে তা আদায়ের জন্য পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্টসহ অন্যান্য আইন অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের ও সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব আদায় করবে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনায় মাঠ প্রশাসন সবসময়ই সরকারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ডিসি সম্মেলনেও এই বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ শুরু করছি। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে রাজস্ব দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণের দায়িত্ব ডিসিদের ওপর ন্যস্ত। তবে কর আহরণের পরিধি বা করজাল সম্প্রসারণে তাদের কার্যকর সম্পৃক্ততা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছেনি। ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও কর নির্ধারণ, আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব এনবিআর-এর। তবুও মাঠ প্রশাসনের সক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে করজাল বহু গুণ সম্প্রসারণ সম্ভব। এভাবেই বাড়ানো যেতে পারে সরকারের রাজস্ব আদায়। সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, কর নির্ধারণ, আহরণ, কর প্রশাসন ও আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারদের ওপর ন্যস্ত। জেলা পর্যায়েও কাস্টমস ও ট্যাক্স কমিশনাররা এ আইনগুলো প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের সম্পৃক্ত করতে হলে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো প্রণয়ন করার প্রয়োজন হবে বলেও মনে করেন তিনি। /এমএএইচ/

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৩.৮৯ শতাংশ
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৩.৮৯ শতাংশ

রবিবার (২৫ অক্টোবর) বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের ২০২৫-২৬ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিলো যথাক্রমে ৫.০৯ এবং ৪.৭৫ শতাংশ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার পতনের পর প্রশাসনে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্প পর্যালোচনার কারণে টানা দুই অর্থবছর ধরেই এডিপি বাস্তবায়নের গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়ে। অথচ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের গড় হার সাধারণত ৭ শতাংশের ওপরে থাকে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এই বাস্তবায়নের হার ছিলো ৭.৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিলো ৮.৫৫ শতাংশ। /এসআই/এমএএইচ/

ব্যাংকিং লেনদেন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তা
ব্যাংকিং লেনদেন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তা

রবিবার (২৫ অক্টোবর) আরিফ হোসেন খান বলেন, যেসব ব্যাংক নিরাপত্তার কারণে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে, সেগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিগগিরই সচল করবে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সাইবার হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩ দিন পর রবিবার সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটটি খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে গত ৩ দিনে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক ছিলো। ফলে গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো সমস্যা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি আছে কিনা- তা পরীক্ষা করা হয়। বিশ্বব্যাপী হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। তবে ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় ওয়েবসাইটটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সরকারি সেবা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার জন্য ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ওয়েবসাইটের বড় একটি অংশ পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি পিএইচপিতে দু’টি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি ধরা পড়ার পর জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার। ত্রুটি ধরা পড়ার খবর সামনে আসার পর গত বুধবার রাত থেকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। এরপরও লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। /এসআই/এমএএইচ/

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন
দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে, গত শুক্রবার সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২৬ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৫ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৯৩ বার। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল। এদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা। /এমএএইচ/

ফ্রান্সের অর্থনীতিতে ঋণসংকট, উদ্বেগ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের
ফ্রান্সের অর্থনীতিতে ঋণসংকট, উদ্বেগ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম দেশটির বন্ডের সুদের হার এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে ফ্রান্স ও জার্মানির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হারের ব্যবধান বৃহস্পতিবার ১৭০ বেসিস পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। ২০১০-এর দশকের শুরুর ইউরোজোন ঋণসংকটের পর এই ব্যবধান এত বেশি হয়নি। ফরাসি সরকারের ঋণখেলাপির ঝুঁকির বিপরীতে বিমা ব্যয়ও একই সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের প্রধান উদ্বেগ, ফ্রান্সের ঋণসংকট ইউরোজোনের অন্যান্য অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপের দেশগুলো একই মুদ্রা ব্যবহার করলেও তাদের রাজস্বনীতি আলাদা। ফলে একটি দেশের ঋণসংকট অন্য দেশের ঋণ নেওয়ার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে ঋণের সুদ পরিশোধের খরচ বাড়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এর আগে ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে গ্রিসের ঋণসংকট পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেনে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তখন বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ড ধারণ করা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে সরকারগুলোকে এগিয়ে আসতে হয়। এতে সরকারি ঋণ ও ব্যাংকিং খাতের সংকট পরস্পরকে আরও গভীর করে তোলে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সরকারি ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বন্ডের সুদের হার বাড়াচ্ছে। এতে সরকারের ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে, যা ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যানও সতর্ক করেছেন, ঋণ নিয়ে উদ্বেগ থেকে সুদের হার বৃদ্ধি এবং সেই বাড়তি ব্যয়ের কারণে নতুন করে ঋণ বাড়ার একটি দুষ্টচক্র তৈরি হতে পারে। ফ্রান্সের আর্থিক সংকটের পেছনে রয়েছে বড় বাজেট ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। এর সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক অসন্তোষ যুক্ত হওয়ায় সরকারি অর্থব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইএনজি ব্যাংকের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক গবেষণা বিভাগের প্রধান কার্স্টেন ব্রজেস্কির মতে, ফ্রান্স গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। তবে দেশটির সরকারের তাৎক্ষণিকভাবে ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধের অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও বন্ডবাজারে আস্থার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ২০১০-এর দশকের শুরুর মতো বড় ধরনের ইউরোজোন ঋণসংকটের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কারণ, আগের তুলনায় ইউরোপের ব্যাংকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক অস্থিরতা মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে এখন আরও কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। ব্ল্যাকরকের কৌশলবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি আগের ঋণসংকটের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। তবে বাজারে আরও অস্থিরতা এবং সংকট অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফোরভিস মাজারের প্রধান অর্থনীতিবিদ জর্জ লাগারিয়াসের হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে ফ্রান্সের ঋণ-জিডিপি অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১১৯ শতাংশে। ২০০৯ সালের শেষ দিকে গ্রিসের এ অনুপাত ছিল ১২৮ শতাংশ। লাগারিয়াসের আশঙ্কা, ফ্রান্সের সংকট ছড়িয়ে পড়লে ইতালি ও স্পেনের মতো দেশগুলোর ঋণ নেওয়ার ব্যয় বাড়তে পারে। এতে সরকারি ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হবে, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে রাজনৈতিক অসন্তোষ বাড়াতে পারে। তবে তার মতে, ফ্রান্সের আর্থিক ঝুঁকিগুলো আগে থেকেই জানা। গ্রিসের মতো দেশটির সরকারি আর্থিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন নেই। এ কারণে সংকট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সীমিত থাকতে পারে। অ্যাবারডিন ইনভেস্টমেন্টসের এক কর্মকর্তা পরিস্থিতিটিকে আপাতত পুরো ইউরোজোনের কাঠামোগত সংকটের পরিবর্তে ফ্রান্সকেন্দ্রিক ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তাঁর ধারণা, সংকট অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়লেও তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সব মিলিয়ে, ফ্রান্সের ঋণসংকট ইউরোপের বন্ডবাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইউরোজোনের আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা আগের চেয়ে শক্তিশালী হলেও ফরাসি বন্ডের সুদের হার আরও বাড়লে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমতে থাকলে সংকটের প্রভাব অন্য দেশগুলোর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কেআর/

মানিলন্ডারিং ঠেকাতে বিমা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নির্দেশনা
মানিলন্ডারিং ঠেকাতে বিমা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নির্দেশনা

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবছর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এজেন্টদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে এবং নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিএফআইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন করতে হবে। এ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (সিএএমএলসিও)। প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব থাকবে এ ইউনিটের ওপর। এছাড়া প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি, মূল্যায়ন ও সুপারিশ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটকে। প্রধান নির্বাহীর মতামতসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে। শাখা পর্যায়েও পরিপালন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শাখা ও ইউনিটে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। একইভাবে বিমা এজেন্টদের জন্যও এ সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোনয়ন করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, বিমা পলিসির লেনদেন পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও প্রতিবেদন তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে। গ্রাহক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেনামে বা ছদ্মনামে কোনো বিমা পলিসি খোলা কিংবা পরিচালনা করা যাবে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার নামেও বিমা পলিসি খোলা বা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনায় গ্রাহকের সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে শুধু পলিসিধারী নয়, পলিসির প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পক্ষে পলিসি পরিচালনাকারীকেও গ্রাহক হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে বিএফআইইউ। দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। /এসআই/এমএএইচ/

রপ্তানির অঙ্কে স্বস্তি, কারখানায় অস্বস্তি
রপ্তানির অঙ্কে স্বস্তি, কারখানায় অস্বস্তি

পোশাক খাতে রপ্তানি আয়ের হিসাবে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও সংকট কাটছে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিলো ৯৯৭ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে। ওভেনে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, নিটে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, ফলে এসব বাজারের হিস্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি কম থাকায় এবার প্রবৃদ্ধি বেশি দেখাচ্ছে। মাসওয়ারি হিসাবে দেখা যায়, জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিলো ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের। আগস্টে তা ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে হয় ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, আর সেপ্টেম্বরে আরও ১৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে নেমে আসে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ডলারে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এই প্রবৃদ্ধি দিয়ে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি প্রমাণ হয় না। জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য পাঠাতে দৈনিক কাজের সময় ৮-১০ ঘণ্টা থেকে বেড়ে ১২-১৩ ঘণ্টায় ঠেকেছে। এতে বাড়তি মজুরি, ডিজেল ও গ্যাসের খরচ যোগ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল আকাশপথেও পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে এই লোকসান মেনে নিতে হচ্ছে, নইলে ভবিষ্যতে অর্ডার হারানোর ঝুঁকি আছে। বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বেশিরভাগ কারখানা সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারেনি। বর্তমান রপ্তানি আয় স্বাভাবিক সময়ের গড়ের চেয়েও কম। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের মতে, আগস্টে পুরো মাস জ্বালানি সংকট থাকলেও বড় কারখানাগুলো লোকসান মেনে ডিজেল ও নিজস্ব উৎস থেকে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালু রেখেছে। তাই রপ্তানি চলমান থাকলেও সামগ্রিক চিত্র ভালো নয়। বড় কারখানা আরও বড় হচ্ছে, অথচ ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। শুধু পরিসংখ্যান নয়, কর্মসংস্থান ও কারখানার সংখ্যা বাড়ছে কি না, তাও দেখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। এদিকে বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে, নিটে কমেছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। সংগঠনটির মতে, বৈশ্বিক মন্দা, চাহিদা সংকোচন, মূল্যস্ফীতি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস এর পেছনের প্রধান কারণ। /শুভ/এমএএইচ/