প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে প্রবাসীদের আনন্দমেলা
প্রবাসে যারা দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন, তারা অবসর পেলেই মেতে উঠেন পিকনিক ও আনন্দ আড্ডায়। তেমনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান পেদ্রোর পয়েন্ট ফারমিন পার্কে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে আনন্দমেলার পিকনিকে মেতে উঠেছেন একদল প্রবাসী।
চারপাশে সবুজ ঘাসে ঘেরা মনোরম পরিবেশ, সাগরের নীল জলরাশি, মাথার ওপর খোলা আকাশ। সেখানেই চলছে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পিকনিক ও আনন্দ আড্ডা। কেউ গলা ছেড়ে গাইছেন, এক দল চাদর বিছিয়ে মেতে উঠেছেন আড্ডায়, পাশেই শিশুরা সবুজ মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত- সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ততা ভুলে ছুটির দিনটি বেশ উপভোগ করছিলেন একদল প্রবাসী। যেনো এক টুকরো বাংলাদেশে রূপ নিয়েছিলো ক্যালিফোর্নিয়ার সান পেদ্রো।
সান পেদ্রোর মনোরম পয়েন্ট ফারমিন পার্কে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় ‘আনন্দমেলা অ্যাপ্রিসিয়েশন পিকনিক’। অংশ নেন লস অ্যাঞ্জেলেস ও আশপাশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো পার্ক উৎসবমুখর হয়ে উঠে।
প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশিকে পেছনে রেখে আনন্দমেলার পিকনিকে অংশ নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা কুশল বিনিময় ও খোশগল্পে মেতে উঠেন। দিনভর এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবার। দেশি ইলিশ মাছ ভাজা ছিলো পিকনিকের অন্যতম আকর্ষণ। সকালের নাস্তায় ছিল চটপটি, আমভর্তা, শিঙাড়া, তরমুজ ও গরম চা। দুপুরে ছিলো গরম গরম ভাজা ইলিশ, রুটি ও কাবাব। প্রবাসের মাটিতে দেশি খাবারের স্বাদে আপ্লুত সবাই।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনন্দমেলার প্রধান উপদেষ্টা শিপার চৌধুরী, সভাপতি শরিফ হাসিবুল, আহ্বায়ক দাউদ বাফাতিয়া, প্রধান সমন্বয়কারী জিয়া ইসলাম এবং ক্যালিফোর্নিয়া শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
শিপার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলা ভাষা, দেশি খাবার, গান ও সাংস্কৃতিক আবহের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের টানও এ ধরনের আয়োজনে প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরেরা যখন পরিবারের সঙ্গে এমন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, তখন তারা নিজেদের কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।’
/শিউলী/
