Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অক্সফোর্ডে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়ছেন বাংলাদেশের নাজিফা
অক্সফোর্ডে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়ছেন বাংলাদেশের নাজিফা

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে স্নাতকোত্তর (এমফিল) পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়ে নাজিফা বিনতে হারুন। ১৪১টি দেশের যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিবছর মাত্র একজনকে নির্বাচিত করা হয়, এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি—‘ওডিআইডি ডিএসি’ অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি অক্সফোর্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করছেন। শিক্ষাজীবনের শুরুতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও পরে বিশ্বব্যবস্থা, রাজনীতি ও মানবসমাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। সেই আগ্রহ থেকেই বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইতালির ইউনিভার্সিটি অব ত্রেন্তোতে এক সেমিস্টার অধ্যয়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইরাসমাস প্লাস আইসিএম বৃত্তিও অর্জন করেন। ইতালিতে বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সীমিত বাজেটে ইউরোপের ২১টি দেশ ভ্রমণ করেন নাজিফা। ভিন্ন সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে। নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনেও কাজে এসেছে। স্নাতক শেষে উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে কাজ করেন নাজিফা। পরে যুক্ত হন মাই সোলি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমেও অংশ নেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবন ও সামাজিক সমস্যাগুলো কাছ থেকে বোঝার সুযোগ পান। পাশাপাশি সামাজিক বিষয় নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে ৩ দশমিক ৯-এর বেশি সিজিপিএ নিয়ে ‘সুমা কাম লডে’ সম্মান অর্জন করেন নাজিফা। তাঁর একাডেমিক ফলাফল সব সেমিস্টারে একই রকম ছিলো না। কয়েকটি সেমিস্টারে ফলাফল খারাপ হওয়ায় কিছু কোর্স পুনরায় সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে নিজের একাডেমিক অবস্থান শক্তিশালী করেন। অক্সফোর্ডে আবেদনের সময় উন্নয়ন অধ্যয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত স্নাতক পর্যায়ের কোর্সগুলোও আলাদাভাবে তুলে ধরেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন নাজিফা। প্রথম বর্ষেই একটি একাডেমিক দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সহপাঠীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে পিয়ার টিউটর হিসেবেও কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, দল পরিচালনা এবং অন্যদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা তুলে ধরেছে। অক্সফোর্ডে আবেদনের ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতাগুলোকে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শুধু দায়িত্ব ও পদবির তালিকা না দিয়ে প্রতিটি কাজে কী করেছেন, কী অবদান রেখেছেন এবং সেসব অভিজ্ঞতা কীভাবে তাঁর একাডেমিক আগ্রহের সঙ্গে যুক্ত—তা ব্যাখ্যা করেন নাজিফা। আবেদনপত্রের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিলো উদ্দেশ্যপত্র লেখা। সেখানে নিজের জীবনের সব ঘটনা তুলে ধরার পরিবর্তে কেন উন্নয়ন অধ্যয়ন করতে চান এবং অক্সফোর্ডের নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রম তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনে কীভাবে সহায়তা করবে, তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া প্রশ্ন, গবেষণার আগ্রহ এবং প্রাসঙ্গিক কোর্সের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেন। স্নাতক পর্যায়ের একটি কোর্সে শেখা বিশেষায়িত তত্ত্বকে নিজের গবেষণার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেন নাজিফা। মূল গবেষণা প্রশ্নকে চারটি উপপ্রশ্নে ভাগ করে প্রতিটির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কোর্সের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে এই শিক্ষাক্রম থেকে কী শিখতে চান এবং নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সহপাঠী ও একাডেমিক পরিবেশে কী অবদান রাখতে পারবেন, সেটিও তুলে ধরেন। নাজিফার মতে, আবেদনপত্রে চমকপ্রদ শোনানোর চেয়ে নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের গবেষণার লক্ষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে স্পষ্ট সংযোগ থাকা প্রয়োজন। সুপারিশপত্রের প্রস্তুতিও ছিলো দীর্ঘমেয়াদি। স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষকদের সঙ্গে নিজের একাডেমিক আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি। আবেদনের সময়সীমার প্রায় ৪ মাস আগে সম্ভাব্য সুপারিশকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষাক্রমের বিবরণ, নিজের জীবনবৃত্তান্ত এবং উল্লেখযোগ্য কাজ ও অর্জনের তালিকা ভাগ করে নেন। অক্সফোর্ডে ভর্তি ও বৃত্তি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রথমে শিক্ষাক্রমে ভর্তির যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তির শর্ত পূরণকারী প্রার্থীদের বিবেচনা, বিভাগীয় পর্যায়ে বাছাই বা মনোনয়ন এবং বৃত্তি কমিটির মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাজিফার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কিছু বৃত্তির জন্য মূল স্নাতকোত্তর আবেদনের সময়ই যোগ্য বৃত্তি নির্বাচনের সুযোগ থাকে। তবে প্রতিটি বৃত্তির নিজস্ব নিয়ম ও সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাজিফার পরামর্শ, আবেদন করার আগেই নিজের যোগ্যতা নিয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা কিংবা নিজ দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞানকে দুর্বলতা না ভেবে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারলে তা আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারে। পাশাপাশি একটি বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কলেজ ও বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের সুযোগ খুঁজে দেখার পরামর্শও দেন তিনি। নাজিফার অক্সফোর্ডযাত্রা কেবল একটি মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি অর্জনের গল্প নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, নিজের আগ্রহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে একাডেমিক লক্ষ্যকে যুক্ত করার উদাহরণ। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং নিজের সক্ষমতাকে যথাযথভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা। /এমএএইচ/

যেভাবে প্রবাসে ‘সামুদ্রিক খাবারের রাজা’ হয়ে উঠলেন ইকবাল আহমেদ
যেভাবে প্রবাসে ‘সামুদ্রিক খাবারের রাজা’ হয়ে উঠলেন ইকবাল আহমেদ

সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে ওল্ডহ্যাম, আর সেখান থেকে বিশ্বজুড়ে হিমায়িত সামুদ্রিক খাবারের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন ইকবাল আহমেদ। পারিবারিক ব্যবসার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই ব্রিটিশ সিলেটি উদ্যোক্তা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো এই কিশোরই আজ ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় বাণিজ্যিক মহলে পরিচিত ‘মিস্টার শ্রিম্প’ বা ‘কিং প্রন’ নামে। তিনি সানডে টাইমস রিচ তালিকাতে অবস্থান করা শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ বাংলাদেশি। ১৯৫৬ সালের ৪ আগস্ট সিলেট বিভাগের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন ইকবাল আহমেদ। ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে সিটি কলেজ ওয়েস্টমিনস্টারে পড়াশোনা শেষ করেন। কয়েক বছর পর ওল্ডহ্যামে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তাঁর দুই ভাই কামাল ও বিলালও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। তিন ভাইয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সিমার্ক গ্রুপ’। ইকবাল আহমেদ এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব পালন করছেন। সিমার্ক গ্রুপের মূল কাজ হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইবকো’র মাধ্যমে ক্যাটারিং ব্যবসায় পণ্য সরবরাহ করা। উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক চিন্তার অধিকারী ইকবাল আহমেদই প্রথম রেফ্রিজারেটেড কন্টেইনারের মাধ্যমে হিমায়িত সামুদ্রিক খাবার আমদানি-রপ্তানি শুরু করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সর্বপ্রথম 'ব্ল্যাক টাইগার' চিংড়ি আমদানি করার কৃতিত্বও তাঁর। বর্তমানে সিমার্কের ‘মিস্টার প্রন’, ‘লিলি’, ‘ক্লাসিক’ ও ‘টাইগার’ ব্র্যান্ডের পণ্য বাংলাদেশি মালিকানাধীন ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু করে কারফুর ও কস্টকোর মতো বিশ্বখ্যাত ইউরোপীয় সুপারমার্কেট চেইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। ম্যানচেস্টারভিত্তিক সিমার্ক আজ ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, যার বার্ষিক টার্নওভার বা লেনদেন প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড। ইউরোপে সাফল্যের পর ২০০১ সালে উত্তর আমেরিকার বাজারে বিতরণের সুবিধার্থে নিউ জার্সি এবং ব্রুকলিনে নতুন সেলস অফিস খুলে প্রতিষ্ঠানটি। সামুদ্রিক খাবারের পাশাপাশি ইকবাল আহমেদ ম্যানচেস্টারে ‘ভারমিলিয়ন’ রেস্টুরেন্ট, ‘সিনাবার’ নাইটক্লাব, হোটেল এবং রিয়েল এস্টেট খাতেও নিজের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারেন, সেজন্য তিনি ‘এনআরবি ব্যাংক’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমাজসেবাতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ২০১৪ সালে নিজ জন্মভূমি সিলেটে একটি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তিনি নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ওবিই’ (OBE) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ২০১২ সালে তিনি ‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং নর্থ রিজিয়ন এন্টারপ্রেনার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। একটি ছোট পারিবারিক দোকান থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক খাবারের বিশাল বাজার জয় করার এই গল্প সিলেট থেকে ম্যানচেস্টারে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বব্যাপী প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। /এমএএইচ/

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুখবর দিলো ইরাক
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুখবর দিলো ইরাক

ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া কিংবা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর ধার্য করা জরিমানা ৭৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল সরকার।এই সুবিধা পেতে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্সি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। বুধবার ( ২১ অক্টোবর) কুর্দিস্তান অঞ্চল সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের বার্তা অনুযায়ী, কুর্দিস্তান অঞ্চলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশ নম্বর ৩২৫৫৭-এর আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিকদের বিলম্বজনিত জরিমানার ৭৫ শতাংশ মওকুফ করা হবে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিক বৈধ ভিসা নিয়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু কোনো কারণে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারেননি কিংবা ভিসাকে রেসিডেন্সি পারমিটে রূপান্তর করতে পারেননি, তাঁরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। একইভাবে যাঁদের রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, তাঁরাও নির্ধারিত শর্তে এই ছাড় পাবেন। এই ক্ষেত্রে ২০১১ সালের নির্দেশনা নম্বর ১-এ উল্লিখিত বিলম্বজনিত জরিমানার ওপর ছাড় কার্যকর হবে। জরিমানায় ছাড় পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে কুর্দিস্তান অঞ্চলের যেকোনো একটি রেসিডেন্সি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁরা এই সুবিধা নিতে পারবেন। কুর্দিস্তান অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাঁদের ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছিলো, তাঁরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জরিমানার ৭৫ শতাংশ ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই সুবিধা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগাযোগ করে প্রযোজ্য নিয়ম ও শর্ত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। /এমএএইচ/

প্রবাসীর সন্তানদের বৃত্তি, আবেদন শুরু ২৫ অক্টোবর
প্রবাসীর সন্তানদের বৃত্তি, আবেদন শুরু ২৫ অক্টোবর

আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়ে চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড গত ৬ অক্টোবর এই-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি বা সমমান কিংবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত এবং একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে শিক্ষার্থীর পিতা বা মাতাকে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এসএসসি ও সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৫ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৪ থাকতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতা যথাক্রমে জিপিএ-৪.৭৫ ও ৪। এইচএসসি ও সমমান-২০২৫ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৪.৮০ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৪.৫০ থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে উভয় বিভাগের জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৪ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং-২০২৫ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৩.২৫ ও প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৩ থাকতে হবে। আবেদনের সঙ্গে প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টের কপি, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র বা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, ছবি, স্বাক্ষর ও জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে। প্রত্যয়নপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের https://portal.wewb.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি বা ডাকযোগে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সনদে উল্লিখিত পিতা বা মাতার নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। অসম্পূর্ণ আবেদন ও ভুল তথ্যসংবলিত আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে। বৃত্তিসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রবাসী কল সেন্টারের ১৬১৩৫ (দেশ থেকে, টোল ফ্রি) অথবা +৮৮০৯৬১০২০৩০৩০ (বিদেশ থেকে) নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকেও তথ্য নেওয়া যাবে। /শুভ/

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে প্রবাসীদের আনন্দমেলা
প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে প্রবাসীদের আনন্দমেলা

চারপাশে সবুজ ঘাসে ঘেরা মনোরম পরিবেশ, সাগরের নীল জলরাশি, মাথার ওপর খোলা আকাশ। সেখানেই চলছে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পিকনিক ও আনন্দ আড্ডা। কেউ গলা ছেড়ে গাইছেন, এক দল চাদর বিছিয়ে মেতে উঠেছেন আড্ডায়, পাশেই শিশুরা সবুজ মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত- সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ততা ভুলে ছুটির দিনটি বেশ উপভোগ করছিলেন একদল প্রবাসী। যেনো এক টুকরো বাংলাদেশে রূপ নিয়েছিলো ক্যালিফোর্নিয়ার সান পেদ্রো। সান পেদ্রোর মনোরম পয়েন্ট ফারমিন পার্কে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় ‘আনন্দমেলা অ্যাপ্রিসিয়েশন পিকনিক’। অংশ নেন লস অ্যাঞ্জেলেস ও আশপাশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো পার্ক উৎসবমুখর হয়ে উঠে। প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশিকে পেছনে রেখে আনন্দমেলার পিকনিকে অংশ নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা কুশল বিনিময় ও খোশগল্পে মেতে উঠেন। দিনভর এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবার। দেশি ইলিশ মাছ ভাজা ছিলো পিকনিকের অন্যতম আকর্ষণ। সকালের নাস্তায় ছিল চটপটি, আমভর্তা, শিঙাড়া, তরমুজ ও গরম চা। দুপুরে ছিলো গরম গরম ভাজা ইলিশ, রুটি ও কাবাব। প্রবাসের মাটিতে দেশি খাবারের স্বাদে আপ্লুত সবাই। অনুষ্ঠানের আয়োজক ও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনন্দমেলার প্রধান উপদেষ্টা শিপার চৌধুরী, সভাপতি শরিফ হাসিবুল, আহ্বায়ক দাউদ বাফাতিয়া, প্রধান সমন্বয়কারী জিয়া ইসলাম এবং ক্যালিফোর্নিয়া শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শিপার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলা ভাষা, দেশি খাবার, গান ও সাংস্কৃতিক আবহের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের টানও এ ধরনের আয়োজনে প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরেরা যখন পরিবারের সঙ্গে এমন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, তখন তারা নিজেদের কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।’ /শিউলী/