ভোররাতে দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব কেন?
মানুষ বিপদে পড়লে, দুশ্চিন্তায় ভুগলে কিংবা মনের কোনো আশা পূরণ করতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। ইসলামে দোয়া ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দিনের যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে চাওয়া যায়। তবে কিছু বিশেষ সময়ের কথা কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যখন দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ভোররাতের তাহাজ্জুদের সময়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’ (সুরা গাফির, আয়াত ৬০)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমি তো নিকটেই। প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৬)।
ভোররাতে দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সিলেটের দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার নায়েবে শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোয়ার বিশেষ সময়গুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। এই সময় ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।
সহিহ বুখারির ১১৪৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তার বান্দাদের আহ্বান করে বলেন, কে তাকে ডাকবে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেবেন; কে তার কাছে চাইবে, তিনি তাকে দেবেন; আর কে ক্ষমা চাইবে, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন।
আলেমদের পরামর্শ, সম্ভব হলে ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে দুই বা চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করে আন্তরিকভাবে দোয়া করা যেতে পারে। নিজের প্রয়োজন, দুশ্চিন্তা ও ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন।
তবে দোয়া কবুলের ধরন ও সময় আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তাই কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দোয়া করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা না ধরে ধৈর্য, আন্তরিকতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রার্থনা করাই ইসলামের শিক্ষা।
/শান্ত/
