Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মন্দ কাজ থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন
মন্দ কাজ থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন

নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এমন একটি দোয়া পড়তেন, যাতে নিজের ভুলত্রুটি ক্ষমা, ভালো কাজের তাওফিক এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার প্রার্থনা রয়েছে। দোয়া: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَايَ وَذُنُوبِي كُلَّهَا، اللَّهُمَّ وَأَنْعِشْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي لِصَالِحِ الْأَعْمَالِ وَالْأَخْلَاقِ، إِنَّهُ لَا يَهْدِي لِصَالِحِهَا وَلَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি খাতায়ায়া ওয়া জুনুবি কুল্লাহা। আল্লাহুম্মা ওয়া আনইশনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি লি সালিহিল আ'মালি ওয়াল আখলাকি। ইন্নাহু লা ইয়াহদি লি সালিহিহা, ওয়ালা ইয়াসরিফু আন্নি সাইয়িআহা ইল্লা আনতা। অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সব ভুলত্রুটি ও গুনাহ ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমাকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করুন এবং সৎকাজ ও উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত করুন। আপনি ছাড়া কেউ সৎকাজের পথ দেখাতে পারে না এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখতে পারে না। হাদিসের সূত্র: বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবীজি (সা.)-এর পেছনে নামাজ আদায়ের পর তাকে এই দোয়া পড়তে শুনেছেন। সূত্র: সুনানে তাবারানি, ৪/৩৬২। /শান্ত/

ভোররাতে দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব কেন?
ভোররাতে দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব কেন?

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’ (সুরা গাফির, আয়াত ৬০)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমি তো নিকটেই। প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৬)। ভোররাতে দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সিলেটের দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার নায়েবে শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোয়ার বিশেষ সময়গুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। এই সময় ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল। সহিহ বুখারির ১১৪৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তার বান্দাদের আহ্বান করে বলেন, কে তাকে ডাকবে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেবেন; কে তার কাছে চাইবে, তিনি তাকে দেবেন; আর কে ক্ষমা চাইবে, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। আলেমদের পরামর্শ, সম্ভব হলে ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে দুই বা চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করে আন্তরিকভাবে দোয়া করা যেতে পারে। নিজের প্রয়োজন, দুশ্চিন্তা ও ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। তবে দোয়া কবুলের ধরন ও সময় আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তাই কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দোয়া করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা না ধরে ধৈর্য, আন্তরিকতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রার্থনা করাই ইসলামের শিক্ষা। /শান্ত/

জুমার দিনে বেশি পড়বেন যে দোয়া
জুমার দিনে বেশি পড়বেন যে দোয়া

দোয়াটি হলো: আরবি: اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান নার। অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। দোয়াটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? দোয়াটি পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২০১ নম্বর আয়াতে রয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩৮৯) এ দোয়ায় একই সঙ্গে দুনিয়ার কল্যাণ, আখেরাতের কল্যাণ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি চাওয়া হয়েছে। ইসলাম দুনিয়ার দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বলে না; বরং দুনিয়ার জীবনে সৎভাবে জীবনযাপন, পরিবারের দায়িত্ব পালন ও আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার শিক্ষা দেয়। জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময় সহিহ বুখারির একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫) এই বিশেষ সময়টি কখন, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে। ১. খুতবা শুরু থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত একটি মত অনুযায়ী, ইমাম খুতবার জন্য উপস্থিত হওয়া থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমে বর্ণনা রয়েছে। ২. আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরেকটি প্রসিদ্ধ মত হলো, জুমার দিন আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এ বিষয়ে সুনানে আন-নাসাঈসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণনা পাওয়া যায়। বিশেষ মুহূর্তটি নির্দিষ্ট করে নিশ্চিতভাবে জানা না যাওয়ায় জুমার পুরো দিনই বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে। বিশেষ করে খুতবা ও নামাজের সময় এবং আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টিতে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে। /শান্ত/