আজ অ্যাপল ডে, জানুন আপেলের নানা গুণ
লাল, সবুজ কিংবা হলুদ, নানা রঙের আপেল স্বাদ ও পুষ্টিগুণের জন্য জনপ্রিয় একটি ফল। আপেলের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি বাড়ানো, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২১ অক্টোবর পালিত হয় অ্যাপল ডে, যা ন্যাশনাল অ্যাপল ডে নামেও পরিচিত।
আপেল ডে কেন পালিত হয়?
আপেল ডে শুধু ফল খাওয়ার আনন্দ উদ্যাপনের দিন নয়। বিশ্বজুড়ে আপেলের হাজারো জাতের বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং স্থানীয় ফলের বাগান ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণে মানুষকে উৎসাহিত করাও দিবসটির উদ্দেশ্য। ফলের বাগান বিভিন্ন পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
আপেল ডের ইতিহাস
১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড প্রথম অ্যাপল ডে আয়োজন করে। লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতের আপেল, গাছের চারা, আপেলের রস ও সাইডারসহ নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান কমে যাওয়া এবং স্থানীয় আপেলের অনেক জাত হারিয়ে যাওয়ার উদ্বেগ থেকেই দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আপেল খাওয়ার স্বাস্থ্যগুণ
আপেলে রয়েছে খাদ্য-আঁশ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ফলটি খাওয়ার কয়েকটি সম্ভাব্য উপকারিতা রয়েছে।
হজমে সহায়তা: আপেলের আঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যে উপকারী: আপেলের দ্রবণীয় আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: আপেলে ক্যালোরি তুলনামূলক কম এবং আঁশ রয়েছে। ফলে এটি খেলে কিছু সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকতে পারে।
রোগপ্রতিরোধে সহায়তা: আপেলের ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে সহায়তা করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: গোটা আপেলের আঁশ শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
আপেলে থাকা কোয়ারসেটিনের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আপেল খেলেই স্মৃতিশক্তি বাড়ে, ত্বকের উজ্জ্বলতা নিশ্চিত হয় কিংবা নির্দিষ্ট রোগের ঝুঁকি দূর হয়, এমন সিদ্ধান্তের যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
অ্যাপল ডে তাই আপেলের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি ফলের বৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। সুস্থ থাকতে আপেলের পাশাপাশি অন্যান্য ফল, শাকসবজি ও বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়াও জরুরি।
/এসআই/
