পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি ভারতীয় বিজ্ঞানীর
ছবি: সংগৃহীত
প্রাচীন ভারতীয় ‘রসশাস্ত্র’ বা আলকেমির সূত্র মেনে পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি করেছেন ভারতের রাজস্থানের এক গবেষক। তার দাবি, পরীক্ষাগারে পারদের নমুনার উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। তাদের মতে, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই ছাড়া এটিকে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়।
জানা গেছে, জয়পুরের কানোদিয়া কলেজের পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে ০.২৪০ গ্রাম পারদ ব্যবহার করে পরীক্ষাটি চালানো হয়। গবেষকের দাবি, পরীক্ষার পর নমুনার উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ সোনা, ০.৪৮ শতাংশ রুপা এবং ০.৪৮ শতাংশ তামা পাওয়া গেছে। সোনার এই বিশুদ্ধতা প্রায় ২৩.৭৭ ক্যারেটের সমতুল্য।
গবেষক লাল বাহাদুরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পারদের বিশুদ্ধকরণ ও ধাতু রূপান্তর নিয়ে কাজ করছেন। প্রাচীন ভারতীয় রসশাস্ত্র এবং আচার্য নাগার্জুনের গবেষণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই পরীক্ষা চালিয়েছেন। বিআইটিএস পিলানি থেকে প্রকৌশলে স্নাতক এই গবেষক পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, পরীক্ষায় কোনো তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া যায়নি।
তবে নমুনায় পাওয়া সোনা আগে থেকেই অশুদ্ধি হিসেবে ছিলো কি না, নাকি পরীক্ষার সময় বাইরের কোনো উৎস থেকে জমা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। এই জন্য নমুনার বিস্তারিত উপাদান ও আইসোটোপ বিশ্লেষণসহ পুনরায় পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফল এখনো কোনো পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি।
বৈজ্ঞানিকভাবে পারদ ও সোনা দুটি আলাদা মৌল। পারদের পরমাণুতে ৮০টি এবং সোনার পরমাণুতে ৭৯টি প্রোটন রয়েছে। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তন করা যায় না। তাই পারদকে সোনায় রূপান্তর করতে হলে পারমাণবিক স্তরে বিশেষ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
ফলে স্বাধীনভাবে পরীক্ষার ফল যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পারদ থেকে সোনা তৈরির এই দাবিকে প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
/শান্ত/
