নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল ছাড়লেন বলসোনারো
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরাট ব্যবধানে হেরে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এই খবরের একদিন আগে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। তবে ফ্লাভিও কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার তিনি বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার কথা কখনও ভাবেননি এবং বিরোধীদলের নেতৃত্ব দিতে ব্রাজিলেই থাকবেন।
গত ২৫ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লাভিও বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। প্রথমে তিনি ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নির্বাচন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
মঙ্গলবার নিজের ৮১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে লুলা বলেন, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ফ্লাভিওর জন্য লজ্জাজনক। নির্দোষ হলে তাঁর ব্রাজিলেই থেকে নিজের পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার কথা ছিলো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর কাছে নির্বাচনটি কারচুপিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে ভোটে অনিয়মের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও এতে নির্বাচনের ফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাভিওর দেশত্যাগে আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় আনতে ওয়াশিংটন তাঁদের সঙ্গে যোগসাজশ করছে। রবিবারের নির্বাচনের আগে বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরাতে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর জইর বলসোনারোও পরাজয় স্বীকার না করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দেশটির সরকারি ভবনে তাঁর সমর্থকদের হামলার পর তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
/এমএএইচ/
