তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের খরচ বাড়বে ১২০ কোটি ডলার: ফিচ
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বার্ষিক তেল আমদানি খরচ কতোটা বাড়তে পারে, তার একটি হিসাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস। সংস্থাটি জানিয়েছে, এতে দেশের তেল আমদানি ব্যয় বছরে প্রায় ১২০ কোটি (১.২ বিলিয়ন) ডলার বেড়ে যেতে পারে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ০.২ শতাংশের সমান। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যায়নে ফিচ রেটিংস এসব তথ্যের কথা প্রকাশ করেছে।
ফিচের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ধাক্কা তৈরি করতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রবাসী শ্রমিক- উভয় খাতেই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশ স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংঘাতের কারণে প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে ফিরতে বাধ্য হলে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটি তাদের মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে, "রেমিট্যান্স হ্রাস পেলে তা দেশের বৈদেশিক তারল্য পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।"
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে, যার ৭০ শতাংশ সরবরাহ করে কাতার। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফিচ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিলো ৮.৮ শতাংশ। বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.২ শতাংশে নামলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪.৬ শতাংশে পৌঁছায়। তবে জ্বালানির উচ্চ মূল্য দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে সরকারকে এলএনজি ও বিদ্যুতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে, যা রাজস্ব বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
//আইই//
