মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১০৯ অভিবাসী
শনিবার দিনগত রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত এসব অভিযানে একটি বিনোদনকেন্দ্র, ৪টি ম্যাসাজ পার্লার এবং ইপোহের পাইকারি বাজারে তল্লাশি চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্য, পুত্রজায়ায় বিভাগের বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশের মোট ৬৬ জন সদস্য অভিযানে অংশ নেন। তিনি জানান, রাত ৯টায় বিনোদনকেন্দ্র ও ৪টি ম্যাসাজ পার্লারে ‘অপ গেগার’ নামে অভিযান শুরু হয়। সেখানে ৭০ জন বিদেশিকে পরীক্ষা করে ৩৪ জন নারীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, রাত ১টা ৩০ মিনিটে ইপোহের পাইকারি বাজারে অভিযান শুরু হয়। সেখানে ৭৭ জন বিদেশিকে যাচাই করে ৭৫ জন পুরুষকে আটক করা হয়। পাইকারি বাজার থেকে আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, লাওস ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, বিনোদনকেন্দ্র ও ম্যাসাজ পার্লারে অভিযান চালিয়ে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে। লোকমান এফেন্দি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসা বা অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং ইস্যু করা পারমিট বা পাসের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতাভুক্ত। তিনি আরও বলেন, অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের তৎপরতায় অভিযানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় ৫ জন নিয়োগকর্তাকে সমন জারি করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করতে তাঁদের অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখায় হাজির হতে বলা হয়েছে। আটক বিদেশিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। লোকমান এফেন্দি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়াজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে প্রায় দেড় লাখ বিদেশির কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। এই সময়ে ৬৬ হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪১ হাজারের বেশি সরাসরি অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী অভিযানের মাধ্যমে আটক হন। বাকি ২৪ হাজারের বেশি বিদেশিকে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে আটক বা হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের দেশের প্রবেশপথে আটক করা হয়েছে কিংবা অন্যান্য অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর ৪৫ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। /এমএএইচ/