Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন কর্মীরা, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন কর্মীরা, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে হোটেল হলিডে ইনে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি, বেসরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে যদি কেউ কোনো তথ্য দিয়ে থাকে, সেটা সঠিক নয়। মালয়েশিয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা অফিশিয়ালি জানাবো। আমরা বলেছি, উই আর ওয়ার্কিং। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে মালয়েশিয়ায় এই শ্রমবাজারের দ্বার উন্মোচন হয়েছে। কিছু কাজ বাকি আছে। সেসব করতে আরেকটু সময় লাগবে। ৩৩৮টি বড় আকারের লাইসেন্স থাকা রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া অনুমোদন করেছে। আমরা এর প্রশংসা করি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কিছু ডিমান্ড লেটার দূতাবাসে জমা দেওয়া হয়েছে। ডিমান্ড লেটার প্রত্যয়ন আমাদের দূতাবাস এখন পর্যন্ত সত্যায়ন করেনি। দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো ডিমান্ড লেটার গ্রহণ করা হবে না। ডিমান্ড লেটারের পাশাপাশি যাঁরা যাবেন, তাঁদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচ বুধবার নির্ধারণ করা হবে। কোন কোন হাসপাতাল মেডিকেল পরীক্ষা করবে, তার একটা তালিকা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। তারাও তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবে মালয়েশিয়া। তারা এটা আমাদের জানিয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খরচটা আজকে আমরা বসে নির্ধারণ করব। মেডিকেল পরীক্ষার খরচ এবং মালয়েশিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি একটা খরচ হতে পারে। বিমান ভাড়া তো লাগবেই। মেডিকেল পরীক্ষায় খরচ হবে। বোয়েসেল সরকারি কোম্পানি হলেও একটা প্রতিষ্ঠান। তার একটা সার্ভিস চার্জ আছে। সব মিলিয়ে খরচ কত হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, বোয়েসেল থেকে আমরা যেটা আলাপ-আলোচনা করে দেখেছি, ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। আর প্রাইভেটেরটাও আমরা একটু হিসাব করে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নির্ধারণ করে দেবো। প্রথমে বোয়েসেলের মাধ্যমেই যাবে; যেটা সরকারি প্রচেষ্টা। তারপরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। /এমএএইচ/

স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের দলে বাংলাদেশিও
স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের দলে বাংলাদেশিও

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন ও ক্যামেরুনের নাগরিক রয়েছেন। জুলাইয়ে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সেউতায় প্রবেশের পর এটিকে এই ধরনের প্রথম প্রত্যাবাসনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরক্কো এসব অভিবাসীকে গ্রহণে সম্মত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবেচনায় মরক্কো একটি নিরাপদ দেশ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এবং মরক্কোয় ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজও স্পেনের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। স্পেনের সংবাদমাধ্যম কাদেনা এসইআর ও এল পাইসের প্রতিবেদনেও প্রত্যাবাসন নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীদের আপত্তির কথা উঠে এসেছে। তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে আইনি আপিল নিষ্পত্তি বা আদালতের সুরক্ষামূলক আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ১২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ মরক্কোয় ফিরে গেছেন। /শান্ত/

কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার
কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

কম্বোডিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল গতকাল দেশটির অভিবাসন বিভাগের প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৪টি আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে আটক ও বহিষ্কৃত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে, যা ৪০০ শতাংশের বেশি। বহিষ্কৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনের নাগরিক, প্রায় ২৩ হাজার। এছাড়া ৮ হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, ৪ হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন পাকিস্তান, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের নাগরিকেরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিক সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে শনাক্ত হয়েছেন। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, তার পৃথক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। /শান্ত/

মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১০৯ অভিবাসী
মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১০৯ অভিবাসী

শনিবার দিনগত রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত এসব অভিযানে একটি বিনোদনকেন্দ্র, ৪টি ম্যাসাজ পার্লার এবং ইপোহের পাইকারি বাজারে তল্লাশি চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্য, পুত্রজায়ায় বিভাগের বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশের মোট ৬৬ জন সদস্য অভিযানে অংশ নেন। তিনি জানান, রাত ৯টায় বিনোদনকেন্দ্র ও ৪টি ম্যাসাজ পার্লারে ‘অপ গেগার’ নামে অভিযান শুরু হয়। সেখানে ৭০ জন বিদেশিকে পরীক্ষা করে ৩৪ জন নারীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, রাত ১টা ৩০ মিনিটে ইপোহের পাইকারি বাজারে অভিযান শুরু হয়। সেখানে ৭৭ জন বিদেশিকে যাচাই করে ৭৫ জন পুরুষকে আটক করা হয়। পাইকারি বাজার থেকে আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, লাওস ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, বিনোদনকেন্দ্র ও ম্যাসাজ পার্লারে অভিযান চালিয়ে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে। লোকমান এফেন্দি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসা বা অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং ইস্যু করা পারমিট বা পাসের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতাভুক্ত। তিনি আরও বলেন, অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের তৎপরতায় অভিযানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় ৫ জন নিয়োগকর্তাকে সমন জারি করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করতে তাঁদের অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখায় হাজির হতে বলা হয়েছে। আটক বিদেশিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। লোকমান এফেন্দি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়াজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে প্রায় দেড় লাখ বিদেশির কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। এই সময়ে ৬৬ হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪১ হাজারের বেশি সরাসরি অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী অভিযানের মাধ্যমে আটক হন। বাকি ২৪ হাজারের বেশি বিদেশিকে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে আটক বা হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের দেশের প্রবেশপথে আটক করা হয়েছে কিংবা অন্যান্য অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর ৪৫ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। /এমএএইচ/

রাশিয়ান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করার উদ্যোগ
রাশিয়ান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করার উদ্যোগ

গত বৃহস্পতিবার মস্কোয় রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কাউন্সিলের সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়; সেখানে ন্যাশনাল গ্রুপের কর্ণধার মিয়া সাত্তার নতুন এই দায়িত্ব পান। রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে মিয়া সাত্তার জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো ও হালকা শিল্পে সহযোগিতার সুযোগের কথা তুলে ধরেন। সম্ভাব্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শস্য গুদাম নির্মাণ এবং ঢাকায় রাশিয়ার প্রাক্তন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেশনের জায়গায় একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলা। তিনি বলেন, 'রুশ কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ করছে এবং তৈরি পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী আমদানি করছে। রাশিয়া ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য সরবরাহকারীদের অ্যাক্রেডিটেশনের কাজও চলছে।' বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রধান বাধা হিসেবে মিয়া সাত্তার বাংলাদেশে পণ্যের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার কথা বলেন। এর সমাধানে মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় ও সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি। মিয়া সাত্তার বলেন, 'আমাদের একক কোনো ফোরামের প্রয়োজন নেই, বরং নিয়মিত বিটুবি যোগাযোগ প্রয়োজন।' রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। স্বাধীনতার সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এই নতুন প্ল্যাটফর্ম পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা বাড়াবে।' রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান আনাস্তাসিয়া রোমানোভা বলেন, 'কাউন্সিল গঠনের ফলে ব্যবসার সুনির্দিষ্ট চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃসরকার কমিশনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা যাবে।' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পাদালকো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের মহাসচিব ভ্লাদিমির পোলজকভ, এসএমই করপোরেশনের ইভজেনিয়া ইগোরোভা, রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট তাতিয়ানা বেলকেভিচ ও নোভাটেকের সালতানাত সাকামবায়োভা। কেআর/শান্ত/

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশিকে ঘিরে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশিকে ঘিরে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ গত ২২ অক্টোবর এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির অভিযোগ, ভিসাপ্রার্থীদের আবেদনে কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে জালিয়াতি করা হয়েছিলো। অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজন ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। তারা হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে বলে মনে করা ৭৯টি আবেদনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কুইবেকের মারসিয়ে শহরে একটি বাসায় নিয়মিত যাচাই চালানোর সময় বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। পরে একই বছরের আগস্টে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুনে কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নথি ও কম্পিউটার সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কানাডায় প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। /শান্ত/

সৌদিতে মৃত্যুদন্ড দেয়া ২ বাংলাদেশীর ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলো দূতাবাস
সৌদিতে মৃত্যুদন্ড দেয়া ২ বাংলাদেশীর ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলো দূতাবাস

প্রবাসী দুই বাংলাদেশির আইনি সহায়তা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দোভাষীর ভূমিকা নিয়ে গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট। চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্যান্য আদালতে শুনানির সময় অনুবাদের কাজে ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ নামের প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়। এসব আদালতে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে অনুবাদক দেওয়া হয় না। ফলে আসামিপক্ষের বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে আটক দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চাওয়ার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ একটি তালিকা পাঠায়। সেই তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম পাওয়া যায়। তবে তাদের সাজার মেয়াদ উল্লেখ ছিল না। আটক দুই বাংলাদেশি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সুইটি আক্তার। তারা দুজনই সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কনস্যুলেটের কাছে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ইসলামকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। তিনি জেদ্দা সংশোধনাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তথ্য তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে সুইটি আক্তারকে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়। তিনি জেদ্দা মহিলা কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও রায় হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। তালিকার ৭ নম্বর কলামে রায়প্রাপ্ত বন্দিদের সাজার বিবরণ দেওয়ার কথা থাকলেও এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। কনস্যুলেটের ভাষ্য, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ ও জেনা-ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির আগে ছিল না। আইনি সহায়তা ও দোভাষী নিয়ে প্রশ্ন বিদেশে আটক নাগরিকদের অধিকার ও তাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ভিয়েনা কনভেনশনের আলোচনাতেও আসে। এই কনভেনশন অনুযায়ী, বিদেশে আটক নাগরিকের সঙ্গে দেখা করা, তার মামলার নথি পাওয়া এবং তাকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার অধিকার কনস্যুলেটের রয়েছে। কিন্তু জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আদালতগুলোতে শুনানির সময় অনুবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হলেও বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে অনুবাদক দেওয়া হয় না। ফলে বিচারিক কার্যক্রমে আসামিপক্ষের যুক্ত হওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া ৩০ সেপ্টেম্বরের তালিকায় দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে রায় হওয়ার তথ্য থাকলেও সাজার মেয়াদ ছিল না। তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা বা কার্যকরের বিষয়েও বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটকে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট। কনস্যুলেট আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য গুরুতর অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হয়। পরিবার সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলে আবেদন করতে পারে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও আবেদন করা যায়। তবে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি। তাঁদের পরিবারের কেউ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগও করেননি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারাগারে আরও ৩০৬ বাংলাদেশি আটক কনস্যুলেটের কাছে থাকা বন্দিদের তালিকায় সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন চারিত্রিক মামলায় আটক মোট ৩০৬ জন বাংলাদেশির তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। সাজার মেয়াদ সর্বনিম্ন এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর। এ ছাড়া মক্কায় সাইবার অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তাদের মামলার বিস্তারিত তথ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় দোভাষীর সুযোগ এবং সাজা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কেআর/

সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে আইনি নোটিশ
সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে আইনি নোটিশ

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন জুয়েল এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল কালাম আজাদ এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস অবগত ছিলো না বলে অভিযোগ করেছেন নোটিশদাতারা। তাদের মতে, এই ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের আইনি সহায়তা ও কূটনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নোটিশে চারটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের আইনি অবস্থা পর্যবেক্ষণে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু, গ্রেপ্তার বা আইনি সংকটে পড়লে জরুরি কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত, আদালত ও বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে পোর্টাল তৈরি এবং মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় যোগাযোগের ঘাটতি তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ। এছাড়া ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ বা কূটনৈতিক সেবাসংশ্লিষ্ট অ্যাপে জরুরি যোগাযোগ ও এসওএস সুবিধা জোরদার এবং প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের জন্য আইনি অবস্থাসংক্রান্ত তথ্য জানার ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কনস্যুলার সুরক্ষা প্রটোকল বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নোটিশদাতারা।