পিএইচপি ঝুঁকির মুখেই সচল বেশির ভাগ ওয়েবসাইট
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি ঘিরে বন্ধ হওয়া দেশের অধিকাংশ ওয়েবসাইট পুনরায় চালু হলেও এখনো অর্ধশতাধিক পোর্টালে ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। সাইবার হামলা ও অননুমোদিত প্রবেশের এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তি অবকাঠামো হালনাগাদের আহ্বান জানিয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট।
সাইবার ঝুঁকির শঙ্কায় টানা তিন দিন বন্ধ রাখার পর রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল আটটায় চালু হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শেষ করে ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় ওয়েবসাইটটি ফের চালু করা হয় বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। অন্যদিকে সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার বলেন, পূর্ব সতর্কবার্তা পাঠানো হলেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো নিরাপত্তার বিষয়গুলো হালনাগাদ করেনি। কিছু সংস্থা থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিএইচপি'র মূল কোডে প্রায় ১৪ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা দুর্বলতাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই'র সাহায্যে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। দীর্ঘদিন ব্যবহার হওয়া সফটওয়্যারেও যে সুপ্ত ঝুঁকি থাকতে পারে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিয়মিত ডিজিটাল অবকাঠামো পরীক্ষা ও ত্রুটি সংশোধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, দেশের সরকারি সাইটগুলোর প্রায় ৬০ থেকে ৮৫ শতাংশ পিএইচপি-নির্ভর। মূল সিস্টেমে ত্রুটি থাকলে সার্ভারগুলো হুমকিতে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট আইপি বা ভিপিএনের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং ফায়ারওয়াল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
//আইই//
