চীনে স্কুল বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ১৪৬ গোল হজম
চীনে চলমান এক স্কুল বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দল পাঁচ ম্যাচে ১৪৬টি গোল হজম করেছে। চীনের সুঝৌ-তে চলমান এই ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্পোর্ট ফেডারেশন (আইএসএফ) অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল বিশ্বকাপে এমন নজীর গড়েছে বাংলাদেশের নামে অংশ নেয়া ফুটবল দল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল প্রতিপক্ষের জালে একটি গোলও দিতে পারেনি।
ফিফার পরিবর্তে আইএসএফের অধীনে আয়োজিত এ আসরে ৩১টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, তারা এই আসরে কোনো দল পাঠায়নি। বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলটি সম্পর্কে ফেডারেশনের কাছে কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, 'সাধারণত দেশের কোনো সংস্থা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফেকে অবহিত করে এবং কারিগরি সহায়তা নেয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি।'
বাফুফের মিডিয়া বিভাগের ধারণা, চীনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে দলটি গঠন করা হয়ে থাকতে পারে এবং বাংলাদেশের নামেই তারা এই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের 'সি' গ্রুপে চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি ও মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামে দলটি। গ্রুপ পর্বে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে ২৭-০, জার্মানির কাছে ৩৫-০ ও মরক্কোর কাছে ৩৩-০ ব্যবধানে হেরে তিন ম্যাচেই মোট ৯৫ গোল হজম করে তারা।
এরপর শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আলজেরিয়ার কাছে ৪০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় দলটি। পরে ২৫ থেকে ৩২তম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে হাইতির কাছেও তারা ১১-০ গোলে পরাজিত হয়।
টানা পাঁচ ম্যাচের এই পরাজয়ে দলটি সর্বমোট ১৪৬টি গোল হজম করেছে, যা ম্যাচপ্রতি গড়ে ২৯.২টি।
একই টুর্নামেন্টে বেনিনের বিপক্ষে ২৭ গোল হজম করে ভারতও আলোচনায় এসেছে। তবে বাংলাদেশের নামে তালিকাভুক্ত দলটি কেবল আলজেরিয়ার বিপক্ষেই এক ম্যাচে ৪০ গোল হজম করেছে।
আইএসএফের অফিশিয়াল বুলেটিনে বালকদের একটি দলসহ বাংলাদেশকে একটি প্রতিনিধিদল হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ বাফুফে অবগত না থাকলেও কেউ একজন বাংলাদেশের নামে প্রতিযোগিতাটিতে নিবন্ধন করেছে।
এর আগে ২০২৪ সালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসরেও বাংলাদেশের নামে একটি বালিকা দল তালিকাভুক্ত ছিল।
তবে সেই দলটিও ফেডারেশনের অগোচরে নিবন্ধন করা হয়েছিল কি না, আইএসএফের নথিপত্রে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইএসএফ হলো আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বৈশ্বিক স্কুল ক্রীড়া সংস্থা। সংস্থাটি সাধারণত অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সি ক্রীড়াবিদদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। টুর্নামেন্টটি আইএসএফের নিজস্ব বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হলেও ম্যাচগুলো ফিফার নিয়ম মেনেই খেলা হয়।
/কেআর/
