ফসলের মাঠে সাফল্যের পরও কৃষকের ঘরে সংকট
বাংলাদেশের কৃষির গল্প একদিকে সাফল্যের, অন্যদিকে গভীর সংকটের। স্বাধীনতার পর যে দেশকে খাদ্য ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে, সেই বাংলাদেশ আজ বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম। উন্নত বীজ, সেচ, সার, কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও যান্ত্রিকীকরণের ফলে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কৃষকের হাত ধরে খাদ্য উৎপাদনে এসেছে বড় পরিবর্তন। এই সাফল্যের অন্য পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন। প্রশ্নটি হচ্ছে, কৃষি উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের আয় কি সেই হারে বাড়ছে?
মাঠের বাস্তবতা বলছে, উত্তরটি এতোটা আশাব্যঞ্জক নয়। সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রম ও পরিবহনের খরচ বাড়ছে। উৎপাদনের সময় অনেক কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। আবার মৌসুম শেষে একই পণ্যের দাম ভোক্তার বাজারে বেড়ে যাচ্ছে। কৃষক ও ভোক্তা; দুই প্রান্তেই চাপ, আর মাঝখানে দুর্বল ও অদক্ষ বাজারব্যবস্থা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি কমে যাওয়া, পানি সংকট, কৃষিশ্রমিকের ঘাটতি ও কৃষি উপকরণের আমদানি-নির্ভরতা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কৃষির দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার নিয়ে বড় ধরনের নীতিগত পুনর্বিবেচনা বহু বছর হয়নি। ১৯৮৮ ও ১৯৯০ সালের কৃষি খাতের পর্যালোচনার পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে বড় ধরনের সমন্বিত কৃষি সংস্কার উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে কৃষির সামনে এখন প্রশ্ন শুধু উৎপাদন বাড়ানোর নয়। প্রশ্ন হলো, কিভাবে কৃষিকে কম খরচের, প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু সহনশীল, বাজারমুখী ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে কৃষকের জন্য লাভজনক খাতে পরিণত করা যায়।
উৎপাদন বাড়িয়েও অস্বস্তিতে কৃষক
বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভরতা থেকে শিল্প ও সেবামুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অংশ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। কিন্তু খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষির গুরুত্ব কমেনি। বরং গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা বাংলাদেশের কৃষির দুর্বলতাগুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় খাদ্য, সার ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিলো। এর ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের কৃষি সরবরাহব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো বৈশ্বিক সংঘাত দেখা দিলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
খাদ্যনিরাপত্তার অর্থ এখন শুধু দেশে পর্যাপ্ত ধান উৎপাদন নয়। খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বীজ, সার, কীটনাশক, সেচযন্ত্র, জ্বালানি ও কৃষিযন্ত্রের সরবরাহ নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এই জায়গাতেই বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা।
কৃষির প্রথম সংকট উৎপাদন ব্যয়
কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন উৎপাদন ব্যয়। সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রম ও পরিবহন; সবকিছুর ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি উপকরণের দাম বাড়লে বাংলাদেশের কৃষকের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। ফলে সরকারি ভর্তুকি থাকার পরও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কৃষির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উপকরণে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। পাট বীজের ৭০ শতাংশের বেশি, ভুট্টার প্রায় ৯০ শতাংশ, সবজির প্রায় ৬০ শতাংশ ও তেলবীজ ও মসলার ৮০ শতাংশের বেশি বীজ আমদানি করতে হয়।
কীটনাশকের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। দেশে ব্যবহৃত কীটনাশকের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর এবং দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে তুলনামূলক বেশি শুল্কের কারণে স্থানীয় উৎপাদন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি শুধু কৃষকের ব্যয়ের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তারও সমস্যা। কারণ কোনো কারণে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বন্ধ হলে বা আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দেশের কৃষি সংস্কারের একটি বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত, যেসব কৃষি উপকরণ দেশে উৎপাদন করা সম্ভব, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো।
সার নিয়ে কৃষকের অভিযোগ কেন?
সার সরবরাহ নিয়ে গত কয়েক মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, কোথাও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ আছে।
সার বিতরণব্যবস্থায় অনিয়মের সঙ্গে প্রায় দুই হাজার ডিলারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এই কারণে সার ডিলার নিয়োগ-নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা একটি বিষয় পরিষ্কার করে যে, শুধু ভর্তুকি দিলেই কৃষক উপকৃত হন না; ভর্তুকির সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাটিও কার্যকর করা দরকার।
সারের বিষয়টিতো নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ সার সরকার উৎপাদন ও আমদানি করে ভর্তুকি দিয়ে নির্ধারিত মুল্যে নিয়োগ করা ডিলঅরদের মাধ্যমে বিক্রি করে। কিন্তু বীজ, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ তো উম্মুক্ত। অর্থাৎ এসব উপকরণ বেসরকারি খাত আমদানি করে সরাসরি কৃষকদের কাছে বিক্রি করে। এসব উপকরণে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে বেসরকারি খাত তাদের ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করছে। একই অবস্থা সেচের ক্ষেত্রেও। সেচ ব্যবস্থাও বেসরকারি খাতনির্ভর। ফলে প্রতি মৌসুমেই কৃষকের সেচ খরচ বাড়ছে। তাই কৃষি উৎপাদন কমাতে এসব উপকরণের সরবরাহ শৃঙ্খলা স্বচ্ছ করা প্রয়োজন।
কৃষক উৎপাদন করেন, লাভ যায় কোথায়?
বাংলাদেশের কৃষির দ্বিতীয় বড় সংকট বাজারব্যবস্থা। আলু, পেঁয়াজ, সবজি, ফল কিংবা ধান; প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কৃষক যখন পণ্য বিক্রি করেন তখন দাম তুলনামূলক কম থাকে। কিন্তু একই পণ্য পরে ভোক্তার বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ ও অদক্ষ সরবরাহশৃঙ্খলের কারণে উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি প্রতিনিয়ত উসকে উঠছে এবং নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক ভাবে অতিরিক্ত বোঝা চেপে বসছে।
এখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সমস্যাটিকে শুধু ‘মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য’ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এখানে সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ, বাছাই, অর্থায়ন ও বাজারজাতকরণ; এই সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রতিটি ধাপেরই কিছু খরচ রয়েছে। সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
মূল সমস্যা হলো, কৃষকের দর-কষাকষির ক্ষমতা কম। অন্তবর্তী সরকারের সময়ে কৃষককে সহায়তা করতে ৫০ হাজার টন আলু কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো। হিমাগার গেটে ২২ টাকা কেজি দাম নির্ধারণ করা হয়েছিলো। কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই কার্যকর হয়নি। বরং অনেক জায়গায় কৃষককে ৮ থেকে ১৫ টাকা কেজিতেও আলু বিক্রি করতে হয়েছে। এই ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা হলো, শুধু মূল্য ঘোষণা করলেই হবে না; ঘোষিত মূল্য কার্যকর করার মতো বাজার অবকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি প্রকল্পের সুফল কতোটা স্থায়ী?
দেশে ও এবং কৃষির উন্নয়নের স্বার্থে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু এসব উন্নয়ন প্রকল্পের ফল হচ্ছে ‘প্রকল্প-পরবর্তী শূন্যতা’। বিগত দেড় দশকে কৃষকের আয় বাড়ানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা ও যান্ত্রিকীকরণের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে অসংখ্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের আওতায় তৈরি কৃষকদল, সেচনালা, সেবাকেন্দ্র কিংবা সরবরাহ করা যন্ত্রপাতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো পরিবেশবান্ধব কৌশলে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প। প্রকল্প চলার সময় ১ হাজার ৫৮৫টি আইপিএম ক্লাব চালু ছিলো। কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার দুই বছর পর বেশির ভাগ ক্লাব কার্যকর নেই। পরিকল্পণা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মুল্যায়ন বিভাগের মূল্যায়নে সমাপ্ত কৃষি প্রকল্পগুলোর কার্যকর মনিটরিং, কারিগরি সহায়তা ও বাজারসংযোগের দুর্বলতার কথা উঠে এসেছে। আরও একটি প্রকল্পে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক সেবাকেন্দ্র তৈরি হলেও ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যবস্থার একটি মৌলিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, প্রকল্প শেষ হওয়াকে সাফল্য হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু প্রকল্পের সুফল পাঁচ বছর পরও টিকে আছে কি না, সেটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।
অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সত্যিকারে দেশের কৃষির উন্নয়ন করতে হলে কৃষি প্রকল্পে এই মানসিকতা বদলাতে হবে। প্রকল্পের মূল্যায়ন হওয়া উচিত শুধু কতো টাকা ব্যয় হলো বা কতোজন প্রশিক্ষণ পেলেন তা দিয়ে নয়; বরং কৃষকের আয় কতো বাড়লো; উৎপাদন খরচ কতো কমলো; উৎপাদনশীলতা কতো বাড়লো; প্রযুক্তি কতো বছর ব্যবহার হলো; বাজারসংযোগ কতোটা তৈরি হলো এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে কি না, এসব সূচকে।
বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্প শেষ হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছর পর স্বাধীন ইমপেক্ট অ্যাসেসমেন্ট বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
৩৫ বছরের নীতিগত শূন্যতা
বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা সম্ভবত এখানেই। আর এটা হলো সময়ে সময়ে দেশের কৃষি খাতের পর্যালোচনা করা হয় না। দেশে স্বাধীনার প ১৯৮৮ ও ১৯৯০ সালে কৃষি খাতের পর্যালোচনা হয়েছিলো। সেই সময় যান্ত্রিকীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ফসল বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে কৃষিতে যুক্ত করার মতো সুপারিশ করা হয়েছিলো। পরবর্তী সময়ে সেচ, সার ও বীজ ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোও হয়েছিলো। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময়ের জন্য এমন একটি সমন্বিত কৃষি সংস্কার পর্যালোচনা হয়নি।
অথচ সম্প্রতি দেশের কৃষির বাস্তবতা আমূল বদলে গেছে। জমি কমেছে। কৃষিশ্রমিকের ঘাটতি বেড়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি বেড়েছে। কৃষি উপকরণে আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছে। কৃষি এখন আর শুধু খাদ্য উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি খাদ্যব্যবস্থা, শিল্প, রপ্তানি, প্রযুক্তি ও গ্রামীণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক খাত। তাই এখন প্রয়োজন জাতীয় কৃষি সংস্কার কমিশন বা সমন্বিত কৃষি খাত পর্যালোচনা।
কৃষিজমি কমছে, বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা
দেশের কৃষিজমির ওপর ক্রমান্বয়ে চাপ বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের তথ্যে বলা হয়েছে, ৫৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের নিজস্ব জমি নেই এবং প্রতি বছর কৃষিজমি প্রায় ০.২ শতাংশ হারে কমছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। কারণ একদিকে জমি কমছে, অন্যদিকে জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা ও পুষ্টির চাহিদা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের কৃষির মূলনীতি হতে হবে, কম জমিতে বেশি উৎপাদন, কম পানি ও কম উপকরণে বেশি ফলন। এটি সম্ভব করতে হলে গবেষণা, উন্নত জাত, নির্ভূল চাষাবাদ, স্মার্ট সেচ কার্যক্রম এবং যান্ত্রিকীকরণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
খাদ্য আমদানি: সতর্কবার্তা
দেশীয় কৃষি উৎপাদন পর্যাপ্ত না হলে খাদ্য আমদানি বেড়ে যাবে। আর খাদ্য আমদানি বেড়ে গেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হবে। বংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাল ও গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছিলো প্রায় ২০৬ কোটি ডলার; ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডাল আমদানির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই প্রবণতা শুধু বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ নয়; আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে খাদ্যনিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং যে খাদ্য ও কৃষি উপকরণ অর্থনৈতিকভাবে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমানো প্রয়োজন।
কৃষির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি জলবায়ু পরিবর্তন
বাংলাদেশের কৃষি বরাবরই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেই নির্ভরতা এখন ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় রিমাল এবং বন্যার মতো দুর্যোগ কৃষির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দীর্ঘ তাপপ্রবাহ, মে মাসে রিমাল এবং আগস্টে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১০.৫৬ লাখ হেক্টর চাষযোগ্য জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততার ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধিও ধানের মতো প্রধান ফসলের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ধানের ফুল ফোটা ও পরাগায়নের সময়ে অতিরিক্ত তাপ ফলন কমাতে পারে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই বিশ্বে ধান উৎপাদন গড়ে ৮ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তাই জলবায়ু অভিযোজনকে কৃষি নীতির প্রান্তিক বিষয় হিসেবে রাখলে চলবে না। এটিকে কৃষি পরিকল্পনার কেন্দ্রেই আনতে হবে।
উৎপাদনের পর যে বিপুল অপচয়
কৃষির আরেকটি বড় সমস্যা হলো মড়াই পরবর্তী লোকসান বা পোস্ট হার্ভেস্ট লস। গবেষণায় দেখা গেছে, দানাশস্যে কর্তন-উত্তর ক্ষতি ১২-১৫ শতাংশ এবং ফল ও সবজিতে প্রায় ২৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত হচ্ছে। অর্থাৎ আমরা যে খাদ্য উৎপাদন করছি তার একটি বড় অংশ মাঠ থেকে ভোক্তার টেবিলে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এখানেও বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, আধুনিক ওয়্যারহাউজ, কোল্ডস্টোরেজ, ড্রাইং সুবিধা, গ্রেডিং, প্যাকেজিং, রেফ্রিজারেটেড ট্রান্সপোর্ট এবং প্রক্রিয়াজতকরণ শিল্প তৈরি করা গেলে একই সঙ্গে কৃষকের আয় ও খাদ্যের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব।
সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা কৃষিযান্ত্রিকীকরণ
কৃষিতে শ্রমিকের ঘাটতি বাড়ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচও কমানো দরকার। ফলে যান্ত্রিকীকরণ এখন বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। বাংলাদেশে জমি তৈরির বড় অংশ ইতোমধ্যে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর দিয়ে হচ্ছে এবং ধান, গম ও ভুট্টা মাড়াইয়েও যন্ত্রের ব্যবহার ব্যাপক হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যন্ত্রের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের মধ্যবর্তী সময় কমিয়ে ফসলের নিবিড়তা বাড়ানো যায়; বীজ বপন যন্ত্রে বীজ ও সার সাশ্রয় হয় এবং উৎপাদন ও কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।
সমস্যা হলো, যন্ত্র কিনতে ছোট কৃষকের সামর্থ্য নেই। এর সমাধান হতে পারে ‘মেশিনারি অ্যাজ আ সার্ভিস’ মডেল। অর্থাৎ কৃষক যন্ত্র কিনবেন না; ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের উদ্যোক্তার কাছ থেকে ঘণ্টা বা একরভিত্তিতে যন্ত্র ভাড়া নেবেন। এতে কৃষক, তরুণ উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় যন্ত্রশিল্প; তিন পক্ষই লাভবান হতে পারে।
কৃষি থেকে ‘অ্যাগ্রিবিজনেসে’ যেতে হবে
বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ শুধু ধান-গম-সবজি উৎপাদনে আটকে থাকা উচিত নয়। ফল, সবজি, মসলা, মাছ, মাংস, দুধ- সবকিছুকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ এগ্রিবিজনেস ইকোসিষ্টেম গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে শতাধিক ধরনের কৃষিপণ্য বিদেশে যায় এবং ২০২৪-২৫ সালে কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১.১৬ বিলিয়ন ডলার ছিল। কিন্তু রপ্তানির সামনে বড় বাধা রয়েছে, মান, গ্রেডিং, প্যাকেজিং, কোয়ারেন্টাই, নিরাপদ খাদ্য ও পরিবহন ব্যয়। অর্থাৎ কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালে হবে না। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড বা বৈশ্বিক মান অনুযায়ী উৎপাদন করতে হবে।
এখানে ‘কন্টাক্ট ফার্মিং’ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রপ্তানিকারক বা প্রক্রিয়াজাতকারক কৃষকের সঙ্গে আগে থেকেই চুক্তি করবে। চুক্তি অনুযায়ী, কৃষক নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী কৃষি পন্য উৎপাদন করবেন এবং রপ্তানিকারক বা ক্রেতা আগেই বাজার নিশ্চিত করবেন। এতে কৃষকের দাম ও বাজার; দুই ধরনের অনিশ্চয়তাই কমবে।
প্রযুক্তিই হতে পারে কৃষির পরবর্তী বিপ্লব
বাংলাদেশের কৃষিতে ইতোমধ্যে মোবাইলভিত্তিক তথ্যসেবা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগ শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল বাজারসংযোগের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে ড্রোন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্ট বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট সেচ এবং ডিজিটাল কৃষির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফসলের রোগ শনাক্ত করা, সেচ ও সারের প্রয়োজন নির্ধারণ এবং ফলন পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। কিন্তু প্রযুক্তি শুধু শহরের কৃষি গবেষণাগারে থাকলে হবে না। প্রযুক্তি পৌঁছাতে হবে প্রান্তিক কৃষকের জমিতে। এ জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, সস্তা প্রযুক্তি, স্থানীয় সেবা প্রদানকারী বা সার্ভিস প্রোভাইডার এবং সহজ ভাষায় ডিজিটাল পরামর্শ।
এখন করণীয় কী?
বাংলাদেশের কৃষিকে টেকসই করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এগুলো হলো ১. জাতীয় কৃষি সংস্কার কমিশন। এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি কৃষি সংস্কারের জন্য জমি থেকে বাজার এবং বীজ থেকে রপ্তানি পর্যন্ত একটি সমন্বিত পর্যালোচনা প্রয়োজন;
২. কৃষকের আয়কে প্রধান সূচক করা। অর্থাৎ কত টন উৎপাদন হলো, এর পাশাপাশি কৃষকের নিট আয় কত হলো, সেটিই হতে হবে কৃষিনীতির প্রধান সাফল্য সূচক;
৩. কৃষি উপকরণে আমদানিনির্ভরতা কমানো। এর আওতায় বীজ, কীটনাশক, কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশের দেশীয় উৎপাদনে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে;
৪. কৃষিযন্ত্রের ভাড়াভিত্তিক বাজার তৈরি। এক্ষেত্রে প্রতিটি কৃষককে যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে মেশিনারি সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা যেতে পারে;
৫. কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ অবকাঠামো। এর আওতায় উৎপাদন অঞ্চলের কাছে ওয়্যারহাউজ ও কোল্ডচেইন গড়ে তুলতে হবে;
৬. কৃষি প্রকল্পের সমাপ্ত পরবর্তী মূল্যায়ন। প্রতিটি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হওয়ার ৩ থেকে ৫ বছর পর স্বাধীনভাবে প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা উচিত;
৭. জলবায়ু-সহনশীল কৃষি। এর আওতায় লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা কৃষি পরিকল্পনা প্রয়োজন;
৮. কৃষিবীমা: দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষক যেন নতুন ঋণের বোঝায় না পড়েন, সেজন্য কৃষকের জন্য কৃষি বিমা চালু করতে হবে;
৯. কন্টাক্ট ফার্মি ও কৃষক সমবায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষককে সরাসরি প্রক্রিয়াজতকারক, খুচরা বিক্রেতা ও রপ্তানিকারকের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে;
১০. কৃষিকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য উন্মুক্ত করা: কৃষি শুধু ‘চাষাবাদ’ নয়; এটি প্রযুক্তি, লজিস্টিক, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মার্কেটিং ও ফাইন্যান্সসহ একটি বিশাল ব্যবসায়িক ক্ষেত্র। তরুণ উদ্যোক্তারা যেন এই সুবিধা কাজে লাগাতে পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ ও অবকাঠামো তৈরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
কৃষকের আয়ই হোক কৃষির নতুন মাপকাঠি
বাংলাদেশের কৃষি ব্যর্থ নয়। বরং বহু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কৃষকরা অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন। কিন্তু এখন কৃষির সামনে নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ। আগের যুগের প্রশ্ন ছিল, দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করা যাবে কি না।
আর আজকের প্রশ্ন আরও কঠিন। আজকের প্রশ্ন হচ্ছে, কম জমিতে, কম পানি ও কম খরচে, জলবায়ু ঝুঁকি সামলে কীভাবে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন করা যাবে এবং একই সঙ্গে কৃষককে লাভবান করা যাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাত।
কৃষিকে আর বিচ্ছিন্ন একটি ‘গ্রামীণ খাত’ হিসেবে দেখলে চলবে না। কৃষির সঙ্গে শিল্পের সংযোগ ঘটাতে হবে। কৃষিপণ্যকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কৃষককে বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে হবে। প্রযুক্তিকে মাঠে নিতে হবে। আর কৃষি প্রকল্পকে কেবল টাকা খরচের প্রকল্প না বানিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতার প্রকল্পে পরিণত করতে হবে।
ভর্তুকি থাকবে, তবে তার পাশাপাশি থাকবে উৎপাদনশীলতা। ঋণ থাকবে, তবে তার সঙ্গে থাকবে বীমা। কৃষক কার্ড থাকবে, তবে তার সঙ্গে থাকবে বাজারসংযোগ। কৃষিযন্ত্র থাকবে, তবে থাকবে যৌথ ব্যবহারের ব্যবস্থা। ফসল উৎপাদন থাকবে, তবে তার সঙ্গে থাকবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ।
সবচেয়ে বড় কথা, কৃষিকে আর শুধু দরিদ্র মানুষের পেশা হিসেবে দেখা যাবে না। কৃষিকে দেখতে হবে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, বাজারমুখী ও লাভজনক ব্যবসা হিসেবে। কৃষককে শুধু ভর্তুকির গ্রহীতা হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। তাঁকে দেখতে হবে উদ্যোক্তা হিসেবে। কারণ কৃষকের আয় বাড়লে শুধু একটি পরিবার লাভবান হয় না। গ্রামীণ বাজার শক্তিশালী হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে, দারিদ্র্য কমে, খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী হয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ কমে।
বাংলাদেশের কৃষির সামনে তাই সংকট আছে, কিন্তু সম্ভাবনাও বিপুল। শুধু উৎপাদন বাড়ানোর কৃষি থেকে লাভজনক কৃষিতে, শুধু কৃষক থেকে কৃষি উদ্যোক্তায়, শুধু ফসল থেকে অ্যাগ্রিবিজনেসে, আর শুধু প্রকল্প থেকে টেকসই নীতিতে রূপান্তরই এখন সবচেয়ে জরুরি।
কারণ, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তিনটিই শেষ পর্যন্ত কৃষির সঙ্গে যুক্ত। ফলে কৃষিকে দুর্বল রেখে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের কৃষির সামনে তাই সংকট যেমন আছে, সম্ভাবনাও তেমনি বিশাল। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, কৃষকের ঘামকে শুধু খাদ্যে নয়, আয় ও সমৃদ্ধিতেও রূপান্তর করা।
শেষ পর্যন্ত কৃষির সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত একটিই, কৃষক তার উৎপাদিত ফসল থেকে সম্মানজনক আয় করতে পারছেন কি না। কৃষি বাঁচার অর্থ শুধু ফসল বাঁচা নয়; কৃষক বাঁচা। আর কৃষক বাঁচলেই বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতি টেকসইভাবে বাঁচবে।
