হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব?
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব- এমন দাবি করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের মধ্যস্থতায় হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের ইরান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১০০ কোটি ডলার ইরানের মাধ্যমে হুথিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে সামরিক পরিবহন বিমানে ইরানে গিয়েছিলেন, তাতে অর্থও বহন করা হয়েছিলো। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও হুথিদের অর্থ দেওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়নি। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিলো উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়া এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করা।
ইসরাইল হায়োমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনে আগের সমঝোতার অংশ হিসেবে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে অর্থায়নের বিষয়টি আলোচনায় ছিলো। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করার কথা ছিলো।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলার খবর সামনে এসেছে। এসব হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের দাবির মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান বন্ধ, দেশটির বন্দর ও বিমানবন্দরের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সৌদি সমর্থন বন্ধের দাবিও রয়েছে।
এদিকে, ২০ অক্টোবর রয়টার্স জানায়, ইরান হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলো। তবে তখন পর্যন্ত তেহরান এই বিষয়ে দুই পক্ষের কারও কাছ থেকেই জবাব পায়নি বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন।
//আইই//
