মঞ্চে উঠলেই মৃত্যুভয় কাজ করতো এ আর রহমানের
ভারতীয় সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের সুরে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য শ্রোতা। চলচ্চিত্রের সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। তবে সংগীতজীবনের শুরুর দিকে দর্শকের সামনে মঞ্চে উঠে সরাসরি গান পরিবেশন করা তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিলো না। মঞ্চে দাঁড়ালে এতোটাই ভয় পেতেন যে, তাঁর মনে হতো যেন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন।
সম্প্রতি ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবনের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দুইবারের অস্কারজয়ী এই সংগীতশিল্পী। মঞ্চে পরিবেশনার সেই ভয়াবহ অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে এ আর রহমান বলেন, "একসময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার মনে হতো, যেন মৃত্যুকে দেখছি। আমি ভীষণ ভয় পেতাম।"
১৯৯৬ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম সরাসরি সংগীত পরিবেশনা করেন রহমান। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। সময়ের সঙ্গে মঞ্চে সংগীত পরিবেশনার অভিজ্ঞতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বদলেছে তাঁর আত্মবিশ্বাসও। এখন যুক্তরাষ্ট্রে সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে পরিবেশনা থেকে শুরু করে বড় পরিসরের সংগীত আয়োজনেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।
এ আর রহমানের জানান, স্টুডিওতে তৈরি করা সংগীত সরাসরি মঞ্চে পরিবেশনের উপযোগী করে তোলা ছিলো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর সংগীতের ধরন ছি,লো স্বতন্ত্র। ফলে মঞ্চের অন্য সংগীতশিল্পীদের পক্ষে সেসব সুরের বিশেষত্ব ঠিকভাবে বুঝে পরিবেশন করা সহজ ছিলো না।
সঠিক সংগীতশিল্পী খুঁজে পেতেও সময় লেগেছে তাঁর। তিনি এমন শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছেন, যারা তাঁর তৈরি সংগীতের মূল সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে তাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারবেন। কয়েক মাসের পরিশ্রমে তৈরি করা সংগীত যেন মঞ্চে পরিবেশনের সময় নিজস্বতা না হারায়, সেটিও ছিলো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরও মঞ্চে ওঠার প্রস্তুতিকে হালকাভাবে নেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় কোনো সফরের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সংগীতের নতুন বিন্যাস ও পরিবেশনা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। কনসার্টের আগেও চাপ ও দুশ্চিন্তা থাকে।
দর্শকের সামনে সংগীত পরিবেশনা শুরু হলে সেই চাপ অনেকটাই কেটে যায় বলে জানান তিনি। সংগীতপ্রেমীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হওয়াই তখন তাঁর কাছে বড় বিষয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ‘ওয়ান্ডারমেন্ট ট্যুর’ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ আর রহমান। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে ১ নভেম্বর ভারতের মুম্বাই এবং ২১ নভেম্বর দিল্লিতে তাঁর সংগীত পরিবেশনার কথা রয়েছে। ৩ ঘণ্টার এই আয়োজনে নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সুরের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের সংগীতও স্থান পাবে।
এদিকে তাঁর পরবর্তী কাজের তালিকায় রয়েছে ‘রামায়ণ’ চলচ্চিত্র। এই সিনেমার সংগীত তৈরিতে প্রথমবারের মতো হলিউডের সংগীত পরিচালক হ্যান্স জিমারের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
//আইই//
